মুন টাইমস নিউজ
৬ বছরে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ১৫৭১২

৬ বছরে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ১৫৭১২

দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ এ সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাতজনের প্রাণ গেছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে (০৮ আগস্ট) বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশই ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬ হাজার ৩১৪টি।মোটরসাইকেল চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৪৯৭টি বা ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৮টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের তালিকায়ও পণ্যবাহী যানবাহন এগিয়ে। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরিসহ পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ৬ হাজার ৪৮১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোটের ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এককভাবে মোটরসাইকেল চালক দায়ী ৫ হাজার ৮৩১টি দুর্ঘটনার জন্য, যা ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। বাসের চালক দায়ী ২ হাজার ১৬৪টি দুর্ঘটনায়।সড়কের ধরন বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি দুর্ঘটনা হয়েছে। জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণেও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিশোর ও তরুণরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বয়সী চালকদের মধ্যে বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাও অনেক ক্ষেত্রে গতিকে রোমাঞ্চকর হিসেবে তুলে ধরে, যা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।অন্যদিকে, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের অনিয়ন্ত্রিত গতি, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা এবং অনেক চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ঘাটতিও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।বছরভিত্তিক চিত্ররোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৩টি এবং নিহত হন ৩ হাজার ৯১ জন। ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ জন।দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের প্রায় ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। উন্নত ও সহজলভ্য গণপরিবহনের ঘাটতি এবং যানজটের কারণে দ্রুত ও সহজ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করাকেও উল্লেখ করেছে ফাউন্ডেশন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পেছনে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া মোটরসাইকেল ব্যবহারের সংস্কৃতি, আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি ও অসহনীয় যানজট দায়ী।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান কালবেলাকে বলেন, সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশের প্রধান সমস্যা হলো সড়ক পরিবহন আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের ঘাটতি। আইন বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক, কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার জরুরি। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না। বিআরটিএ ও পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা চালানোর সুপারিশ করেছে ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় দুই জাতীয় পুরস্কারজয়ীকে বিবিসিএফের সংবর্ধনা

বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় দুই জাতীয় পুরস্কারজয়ীকে বিবিসিএফের সংবর্ধনা

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ অর্জন করায় আদনান আজাদ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগে জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫ পাওয়ায় অধ্যাপক মো. হাসমত আলীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিবিসিএফ ও সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার (সোয়ান) যৌথভাবে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা বিবিসিএফের ৩১৪টির বেশি সংগঠন এবং ৩০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা বলছেন, এটি শুধু সংবর্ধনা নয়, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সংরক্ষণকর্মীদের আনন্দ ভাগাভাগিরও একটি উপলক্ষ।বিবিসিএফের সভাপতি ড. নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরাফাত রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিবিসিএফের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোল্যা রেজাউল করিম, উপদেষ্টা ড. এস এম ইকবাল, আইইউসিএন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দিপু, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিবিসিএফের সহসভাপতি বাপ্পি খান, উপদেষ্টা অধ্যাপক টিপু সুলতান, কৃষিবিদ শহিদুর রহমান এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিবিসিএফের উপদেষ্টা ডা. আতিকুর রহমান মিঠু।জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী আদনান আজাদ বলেন, এই স্বীকৃতি আমার একার অর্জন নয়। দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী, সহকর্মী ও সংগঠনের অবদানের ফল এ পুরস্কার।তিনি বলেন, শুধু বন্যপ্রাণী উদ্ধার করলেই সংরক্ষণ নিশ্চিত হয় না। প্রাণী ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মানুষের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বন্যপ্রাণী সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।বিবিসিএফের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে আদনান আজাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ তাকে মাঠের বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করেছে।অন্যদিকে জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. হাসমত আলী বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, একটি গাছ, প্রজাপতি, পাখি কিংবা ছোট জলাভূমিও বৃহৎ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।নিজের উদ্যোগে গড়ে তোলা উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। জাতীয় পরিবেশ পদক আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে।বিবিসিএফের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, আদনান আজাদ শুধু একজন বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী নন তিনি বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী। বিবিসিএফ গড়ে ওঠার শুরুর দিকের সদস্য হিসেবে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য।তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সংরক্ষণকর্মীদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে বিবিসিএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংরক্ষণে শুধু নীতি গ্রহণ করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।ড. এস এম ইকবাল বলেন, কোনো প্রাণী সংরক্ষণ করতে হলে প্রথমে মানুষের কাছে ওই প্রাণীর গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। মানুষের কাছে বন্যপ্রাণীর উপকারিতা স্পষ্ট না হলে শুধু আইন করে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা কঠিন।আইইউসিএন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দিপু বলেন, আদনান আজাদের দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুরস্কার পাওয়ার অর্থ কাজ শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং দায়িত্ব আরও বেড়ে যাওয়া।তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই সংরক্ষণকর্মীর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আতিকুর রহমান মিঠু বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য হ্রাসের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত ২০০ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০০ প্রজাতি হারিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বড় সতর্কবার্তা।তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।কৃষিবিদ শহিদুর রহমান বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু বন বা অভয়ারণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের বসতি ও কৃষিজমির সঙ্গেও বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় ও অপ্রচলিত ফলের গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি বাপ্পি খান বলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রাণীকল্যাণ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি পাওয়া জরুরি। আদনান আজাদ ও হাসমত আলীর অর্জন তরুণদের সংরক্ষণকাজে উৎসাহিত করবে।অধ্যাপক টিপু সুলতানও দুই পুরস্কারপ্রাপ্তের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি সংরক্ষণ আন্দোলনে ব্যক্তি উদ্যোগ ও সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আজকের আয়োজনকে আমি শুধু সংবর্ধনা হিসেবে দেখি না। আমরা আনন্দ ভাগাভাগি করতে একত্রিত হয়েছি। আদনান আজাদ ও হাসমত আলীর অর্জন আমাদের সবার অর্জন।’তিনি বলেন, বিবিসিএফের ৩১৪টির বেশি সংগঠনের ৩০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছেন। জাতীয় পর্যায়ে দুই সংরক্ষণকর্মীর স্বীকৃতি এই বিশাল স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের জন্যও আনন্দের বিষয়।আদনান আজাদের দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ড. নাছির উদ্দিন বলেন, এই অভিজ্ঞতা জাতীয় নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানো যেতে পারে। বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।আদনান আজাদকে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্পৃক্ত করার জন্য বিবিসিএফের ৩১৪টি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান ড. নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জাতীয় নীতিনির্ধারণে যুক্ত করা হলে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর হবে।অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়লেন জামায়াত সেক্রেটারি

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়লেন জামায়াত সেক্রেটারি

ছয় দিনের সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সফরে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন ও বেশ কিছু সেমিনারে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ২টায় মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জামায়াত সেক্রেটারি ১৫ মে মালয়েশিয়ার ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজ’-এ আয়োজিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইসলামি কৌশলগত সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ : অগ্রযাত্রার পথ’ শীর্ষক বিষয়ের ওপর বক্তব্য দেবেন।সফর শেষে তিনি আগামী ২০ মে সকালে দেশে ফিরবেন।

শেষ হচ্ছে না ‘গোপাল ভাঁড়’, আসছে নতুন পর্ব

শেষ হচ্ছে না ‘গোপাল ভাঁড়’, আসছে নতুন পর্ব

বেশ কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন চলছে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আট থেকে আশির, সকলের পছন্দের বাংলা অ্যানিমেশন সিরিজ ‘গোপাল ভাঁড়’। টেলিভিশন সিরিজ আকারে নির্মাণ করা এই নতুন সংস্করণ কার্টুনপ্রেমীদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা তৈরি করে কৃষ্ণনগরের এই কাল্পনিক গল্প; প্রচার করা হতো ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘সনি আট’-এ।কিন্তু ‘শেষ হয়ে যাচ্ছে গোপাল ভাঁড়’ এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে ভেঙে পড়ে এর অসংখ্য ভক্ত। তবে এ খবর সত্য নয়; বরং আসছে আরও নতুন পর্ব, তা আবার বিশেষভাবে চলবে টানা ৬ ঘণ্টা।শুক্রবার ‘গোপাল ভাঁড়’ নিয়ে একটি কৌশলী প্রোমোশনাল পোস্ট প্রকাশ করে ‘সনি আট’ কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়ে দিয়েছে, গোপাল ভাঁড়ের নতুন পর্ব নিয়ে আসছে তারা। চমক রেখে বেশ কয়েকটি ফটোকার্ড পোস্ট করে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ লিখেছে, ‘হাসি, বুদ্ধি আর মশকরায় গোপাল ভার-এর নতুন পর্ব আসছে ১৫ই আগস্ট সকাল ১১টায় শুধু সনি আট-এ!’প্রকাশ করা সেই বিশেষ পোস্টারেও হাসিখুশি ভঙ্গিতে দেখা গেছে সবাইকে হাসিয়ে আকুল করা গোপালকে। আবহতে রয়েছে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তৈরি করা থিম। এরপর গোপাল ভাঁড়ের নতুন পর্বের একটা প্রোমশনাল ভিডিও প্রকাশ করে সনি আট আরও উল্লেখ করেছে, ‘স্বাধীনতা দিবসে স্বদেশ প্রেমে মজবে গোপাল… বুদ্ধির প্যাঁচে শত্রুকে করবে নাকাল…হাসির জোয়ারে ফুরফুরে হবে শনিবার সকাল, টানা ৬ ঘণ্টা।’এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘গোপাল ভাঁড়’ সিরিজ বন্ধের খবরটি ছিল ভিত্তিহীন। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই রটা এই খবরে যারা বিভ্রান্ত ও হতাশ হয়েছিলেন, সনি আটের এই প্রচারণায় তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। 

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে পারেন স্কালোনি! দাবি স্প্যানিশ গণমাধ্যমের

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে পারেন স্কালোনি! দাবি স্প্যানিশ গণমাধ্যমের

 আগামী ফিফা বিশ্বকাপের পর স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে দেখা যেতে পারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।মাঠের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর লা লিগার শিরোপাও হাতছাড়া হতে চলেছে দলটির। টানা দুই মৌসুম কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারায় আরবেলোয়ার বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কোচের সন্ধানে থাকা মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ স্কালোনির দিকে হাত বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে লিওনেল স্কালোনি এখন সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। স্প্যানিশ সাংবাদিক মানোলো লামা 'কাদেনা কোপ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটি ইতিমধ্যেই স্কালোনির সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ সেরে ফেলেছে।'এল টারটুলিয়ন' প্রোগ্রামে লামা নিশ্চিত করে বলেন "আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্কালোনির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।"

কাউনিয়ায় ও পীরগাছা  প্রান্তিক নারীদের জন্য ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

কাউনিয়ায় ও পীরগাছা প্রান্তিক নারীদের জন্য ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

কাউনিয়ায় ও পীরগাছা প্রান্তিক নারীদের জন্য ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিতকাউনিয়া(রংপুর)প্রতিনিধিঃ রংপুরের কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে বিশেষ হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ‘সাসটেইনেবল লাইভলিহুডস অব রুরাল উইম্যান থ্রু মাইক্রো এন্ট্রপ্রেনিয়রশিপ ডেভেলপমেন্ট’ (সীড) প্রকল্পের উদ্যোগে আজ এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় কাউনিয়ার হরিচরণ শর্মা (টেপামধুপুর) এবং পীরগাছার বামুনসর্দার কমিউনিটি ক্লিনিক (অন্নদানগর) কমিউনিটি ক্লিনিকে এই ক্যাম্প দুটি আয়োজন করা হয়। ১৪৪ জন নারী সরাসরি এই ক্যাম্পগুলো থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ক্যাম্পে প্রধানত নারী প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে চিকিৎসা প্রদান করেন নারী প্রজনন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতানা বিলকিস এবং ডা. মোহতারেমা বেগম। প্রকল্পের নারী সদস্য ছাড়াও স্থানীয় কিশোরী ও বয়স্ক নারীরাও এই সেবা গ্রহণ করেন। চিকিৎসার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।ক্যাম্প দুটি উদ্বোধন করেন রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা। তিনি বলেন, “সচেতনতার অভাব বা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রামীণ নারীরা প্রায়ই চিকিৎসাসেবা থেকে দূরে থাকেন। ইসলামিক রিলিফ নারীদের দোরগোড়ায় এই সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, যা প্রশংসনীয়। সুস্থ মা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।”ইসলামিক রিলিফের সীড প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর শাহজাদা শরীফ বলেন, “নারীদের কেবল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করলেই হবে না, তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করাও আমাদের লক্ষ্য। একজন সুস্থ নারীই পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।”উল্লেখ্য, সীড প্রকল্পের আওতায় পীরগাছা ও কাউনিয়ায় মোট ৪০টি হেলথ ক্যাম্প পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আজকের ক্যাম্প দুটির সফল আয়োজন সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেরই একটি অংশ।

অনলাইন জরিপ
২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তার এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তার এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন