মুন টাইমস নিউজ

অপরাধ

শিশু যখন শিশুর মা: ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করে বিয়ের নাটক!

শিশু যখন শিশুর মা: ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করে বিয়ের নাটক!
প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক বীভৎস পাশবিকতার শিকার হয়েছে ১২ বছরের এক শিশু। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধের লালসার শিকার হয়ে শিশুটি এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অথচ এই জঘন্য অপরাধের বিচার না করে স্থানীয় মাতব্বররা দেড় লাখ টাকা ও দুই শতক জমির বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফুলবাড়ীর শিবনগর ইউপির দাদপুর মৌজার মালি পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী ৫৫ বছর বয়সী দয়াল ওই শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। কখনও আবার চেতনা নাশক দ্রব্য খাইয়ে এই অপকর্ম চালানো হয়। শিশুটির বাবা একজন ভিক্ষুক এবং মা চাতাল শ্রমিক। হতদরিদ্র এই পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন এই পাশবিকতা চালায় দয়াল।

শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কিছু মাতব্বর অপরাধীকে বাঁচাতে মাঠে নামে। অভিযোগ উঠেছে, দেড় লক্ষ টাকা ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার শর্তে ওই বৃদ্ধের সাথেই শিশুটির বিয়ে পড়ানোর আয়োজন করা হয়। শাকিব নামে জনৈক ব্যক্তি এই ভুয়া বিয়ে পড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে জমি ও টাকা দিতে গড়িমসি করায় পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রফাদফায় মাতব্বররা নিজেরাও বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, এতো অল্প বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার জীবন সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে, যা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন,"ধর্ষণের অপরাধ কোনোভাবেই আপোষযোগ্য নয়। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বিয়ের নামে নাটক করে এই অপরাধ ধামাচাপা দেওয়াও একটি বড় অপরাধ।"

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত দয়াল পলাতক রয়েছে। তবে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস মুন টাইমসকে জানান:"আমরা ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।"

দিনাজপুর ধর্ষণ ১২ বছরের শিশু

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


শিশু যখন শিশুর মা: ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করে বিয়ের নাটক!

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক বীভৎস পাশবিকতার শিকার হয়েছে ১২ বছরের এক শিশু। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধের লালসার শিকার হয়ে শিশুটি এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অথচ এই জঘন্য অপরাধের বিচার না করে স্থানীয় মাতব্বররা দেড় লাখ টাকা ও দুই শতক জমির বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফুলবাড়ীর শিবনগর ইউপির দাদপুর মৌজার মালি পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী ৫৫ বছর বয়সী দয়াল ওই শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। কখনও আবার চেতনা নাশক দ্রব্য খাইয়ে এই অপকর্ম চালানো হয়। শিশুটির বাবা একজন ভিক্ষুক এবং মা চাতাল শ্রমিক। হতদরিদ্র এই পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন এই পাশবিকতা চালায় দয়াল।

শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কিছু মাতব্বর অপরাধীকে বাঁচাতে মাঠে নামে। অভিযোগ উঠেছে, দেড় লক্ষ টাকা ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার শর্তে ওই বৃদ্ধের সাথেই শিশুটির বিয়ে পড়ানোর আয়োজন করা হয়। শাকিব নামে জনৈক ব্যক্তি এই ভুয়া বিয়ে পড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে জমি ও টাকা দিতে গড়িমসি করায় পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রফাদফায় মাতব্বররা নিজেরাও বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, এতো অল্প বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার জীবন সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে, যা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন,"ধর্ষণের অপরাধ কোনোভাবেই আপোষযোগ্য নয়। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বিয়ের নামে নাটক করে এই অপরাধ ধামাচাপা দেওয়াও একটি বড় অপরাধ।"

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত দয়াল পলাতক রয়েছে। তবে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস মুন টাইমসকে জানান:"আমরা ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।"


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আলামিন সরকার
উপদেষ্টা: তাবিবুর রহমান তালুকদার
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ