মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশকে মাত্র চার দিনেই ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচের এই সাফল্যের পর এবার সিলেটে হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও ঠিক একই রকম জেতার মানসিকতা ও আগ্রাসী মনোভাব বজায় রাখতে চান ক্যারিবীয় কোচ ড্যারেন স্যামি।
সিরিজের মাঝে এক সাক্ষাৎকারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ জানিয়েছেন, ‘সিলেট টেস্টেও দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমি ঠিক একই মানসিকতা এবং আরও একটু বেশি ক্ষুধা দেখতে চাই। দলের অধিনায়ক (রোস্টন চেজ) আমরা এখানে পা রাখার পর থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সবাইকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। তাছাড়া, এই বছরটি ভালোভাবে জয় দিয়ে শেষ করাটাও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) চক্রে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় টেস্ট জয়। এর আগে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের দুটি সিরিজে একটি করে ম্যাচ জিতলেও সিরিজ জয়ের আক্ষেপটা এখনও মেটাতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। আর সেই অধরা সিরিজ জয়ের স্বাদ তারা পেতে চায় বাংলাদেশের মাটিতে এসেই। তবে প্রতিপক্ষ দলের কোচ ফিল সিমন্স যে ঘরের মাঠে সহজে ছাড়পত্র দেবেন না, তা ভালোভাবেই জানেন স্যামি।
প্রতিপক্ষ কোচ ফিল সিমন্সকে নিয়ে স্যামি বলেন, ‘ফিলকে আমি খুব ভালো করেই চিনি, সে কোনোভাবেই আমাদের কাজটা সহজ হতে দেবে না। সেও তার দলের হয়ে ম্যাচ জিততে চায়। তাছাড়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তাদেরও নিজস্ব সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। তবে দলের মধ্যে আমি যে জেতার ক্ষুধা, সংকল্প, পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং ম্যাচের ছোটখাটো খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেখছি—তাতে আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী যে সিলেটে আমরা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিই দারুণভাবে সামলে নিতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই সিরিজ শুরু করার আগে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক টেস্ট জিতে পয়েন্ট টেবিলে চারে অবস্থান করছিল। তাই আমরা ম্যাচের গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্র শুরু হওয়ার আগে আমরা বার্বাডোজে বসে যে লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম, তা যেকোনো মূল্যে অর্জন করতে আমরা পুরোপুরি মরিয়া হয়ে আছি।’
এদিকে ঢাকার স্পিন সহায়ক উইকেটেও ক্যারিবীয় ব্যাটারদের দারুণ সামলানোর রহস্য হিসেবে চেন্নাইয়ের বিশেষ ক্যাম্পের কথা উল্লেখ করেন স্যামি। তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে বোলিং করেছি, তাতে আমাদের স্পিনাররা বাংলাদেশি স্পিনারদের চেয়ে অনেক ভালো করেছে। আমাদের ব্যাটাররাও তাদের চেয়ে স্পিন আক্রমণ বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামলেছে। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংসটি ছিল সত্যিই দেখার মতো। পুরো দলের এমন পারফরম্যান্স আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে।’
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশকে মাত্র চার দিনেই ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচের এই সাফল্যের পর এবার সিলেটে হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও ঠিক একই রকম জেতার মানসিকতা ও আগ্রাসী মনোভাব বজায় রাখতে চান ক্যারিবীয় কোচ ড্যারেন স্যামি।
সিরিজের মাঝে এক সাক্ষাৎকারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ জানিয়েছেন, ‘সিলেট টেস্টেও দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমি ঠিক একই মানসিকতা এবং আরও একটু বেশি ক্ষুধা দেখতে চাই। দলের অধিনায়ক (রোস্টন চেজ) আমরা এখানে পা রাখার পর থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সবাইকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। তাছাড়া, এই বছরটি ভালোভাবে জয় দিয়ে শেষ করাটাও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) চক্রে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় টেস্ট জয়। এর আগে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের দুটি সিরিজে একটি করে ম্যাচ জিতলেও সিরিজ জয়ের আক্ষেপটা এখনও মেটাতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। আর সেই অধরা সিরিজ জয়ের স্বাদ তারা পেতে চায় বাংলাদেশের মাটিতে এসেই। তবে প্রতিপক্ষ দলের কোচ ফিল সিমন্স যে ঘরের মাঠে সহজে ছাড়পত্র দেবেন না, তা ভালোভাবেই জানেন স্যামি।
প্রতিপক্ষ কোচ ফিল সিমন্সকে নিয়ে স্যামি বলেন, ‘ফিলকে আমি খুব ভালো করেই চিনি, সে কোনোভাবেই আমাদের কাজটা সহজ হতে দেবে না। সেও তার দলের হয়ে ম্যাচ জিততে চায়। তাছাড়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তাদেরও নিজস্ব সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। তবে দলের মধ্যে আমি যে জেতার ক্ষুধা, সংকল্প, পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং ম্যাচের ছোটখাটো খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেখছি—তাতে আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী যে সিলেটে আমরা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিই দারুণভাবে সামলে নিতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই সিরিজ শুরু করার আগে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক টেস্ট জিতে পয়েন্ট টেবিলে চারে অবস্থান করছিল। তাই আমরা ম্যাচের গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্র শুরু হওয়ার আগে আমরা বার্বাডোজে বসে যে লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম, তা যেকোনো মূল্যে অর্জন করতে আমরা পুরোপুরি মরিয়া হয়ে আছি।’
এদিকে ঢাকার স্পিন সহায়ক উইকেটেও ক্যারিবীয় ব্যাটারদের দারুণ সামলানোর রহস্য হিসেবে চেন্নাইয়ের বিশেষ ক্যাম্পের কথা উল্লেখ করেন স্যামি। তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে বোলিং করেছি, তাতে আমাদের স্পিনাররা বাংলাদেশি স্পিনারদের চেয়ে অনেক ভালো করেছে। আমাদের ব্যাটাররাও তাদের চেয়ে স্পিন আক্রমণ বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামলেছে। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংসটি ছিল সত্যিই দেখার মতো। পুরো দলের এমন পারফরম্যান্স আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে।’

আপনার মতামত লিখুন