স্প্যানিশ ফুটবলে যেমন এল-ক্ল্যাসিকোর উত্তেজনা ছাড়িয়ে যায় সবকিছু, তেমনি আর্জেন্টাইন ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ও রোমাঞ্চকর ‘সুপারক্লাসিকো’ মানেই থাকে বাড়তি উত্তেজনা আর চিরচেনা লড়াই। ঐতিহ্যের লড়াইয়ে নামে আর্জেন্টিনার দুই ক্লাব বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেট।
দুই দলের সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাঠে ঘটে যাওয়া দুই লাল কার্ড নিয়ে অডিও প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। রিভার প্লেটের দুই ফুটবলার লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা ও গনজালো মন্তিয়েলের সেই আলোচিত লাল কার্ডের পেছনের মূল কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছে তারা।
ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টের আয়োজকদের প্রকাশিত ওই অডিওতে মাঠের রেফারি নিকোলাস রামিরেস এবং ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) রুমে থাকা সিলভিও ত্রুক্কোর মধ্যকার আলোচনায় পুরো চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে-- ঠিক কী প্রক্রিয়ায় ওই দুই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
যেভাবে এসেছে লাল কার্ড দুটি
ম্যাচের শুরুতেই সপ্তম মিনিটে প্রথম লাল কার্ড দেখে রিভার প্লেট। সান্তিয়াগো আসকাসিবারের বাড়ানো একটি উঁচু বল পেয়ে যখন একা গোলমুখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বোকা জুনিয়র্সের মিগেল মেরেন্তিয়েল, তখনই তাকে পেছন থেকে দুই হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে ফেলে থামিয়ে দেন রিভারের ডিফেন্ডার মার্তিনেস কুয়ার্তা।
তবে ওই মুহূর্তে রেফারি রামিরেস সরাসরি কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি। পরে বল সাইডলাইন পেরিয়ে বাইরে গেলে ভিএআর রুম থেকে রেফারিকে মনিটরে দেখার অনুরোধ জানান ত্রুক্কো।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে ত্রুক্কোকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলোয়াড়টিকে দুই হাত দিয়ে ধরে আটকে রাখা হয়েছে।’ জবাবে রেফারি রামিরেস বলেন, ‘আমি মাঠের ভেতর থেকে বিষয়টি পরিষ্কার দেখতে পাইনি।’
এরপর ভিডিও রিপ্লে দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। রামিরেস বলেন, ‘আমি মনিটরে পরিষ্কার দেখছি, ডিফেন্ডার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ধরে ফাউল করেছেন। এর ফলে প্রতিপক্ষের গোল করার একটা স্পষ্ট সুযোগ নষ্ট হয়েছে। আমি আমার আগের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলছি। এখন আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো—স্বাগতিক দলের পক্ষে সরাসরি ফ্রি-কিক এবং গোল করার পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট করার অপরাধে ওই ডিফেন্ডারকে সরাসরি লাল কার্ড।’
এদিকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৩৪তম মিনিটে আসে দ্বিতীয় লাল কার্ডের ধাক্কা। এবার বোকা ডিফেন্ডার লাউতারো ব্লাঙ্কোর গোড়ালিতে সজোরে পেছন থেকে লাথি মারায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন রিভারের মন্তিয়েল। মাঠের রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড দেখালেও সেটি ভালোভাবে যাচাই করতে ভিএআরের সাহায্য নেওয়া হয়।
ভিএআর সহকারী গাস্তোন সুয়ারেজ তখন জানান, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে এটি শতভাগ সঠিক লাল কার্ড। সে সরাসরি প্রতিপক্ষের গোড়ালিতে আঘাত করেছে। আঘাতের তীব্রতা, শক্তি এবং গতি—সবকিছুই বেশ বিপজ্জনক ছিল।’
আরেক কর্মকর্তা ত্রুক্কোও তার সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, পা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আঘাতে যথেষ্ট শক্তি ছিল। বুটের স্টাড সরাসরি গোড়ালির নরম জায়গায় আঘাত করায় বড় ধরনের চোট বা গোড়ালি মচকে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।’
ভিএআর রুম থেকে সায় পাওয়ার পর রেফারি নিজের লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। যার ফলে ম্যাচের শেষভাগে এসে ৯ জনের দলে পরিণত হয় রিভার প্লেট।
রিভার প্লেটের তীব্র ক্ষোভ
ম্যাচের এই দুটি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে রিভার প্লেট শিবির। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবের কর্মকর্তা লিওনার্দো পোনজিও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেন।
একই সুর শোনা গেছে মিক্সড জোনে কথা বলা ফুটবলার নিকোলাস ওতামেন্দি ও মন্তিয়ালের গলাতেও। পোনজিওর দাবি, ম্যাচে বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড়দের একাধিকবার লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ থাকলেও রেফারি তা এড়িয়ে গেছেন।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ডিফেন্ডার ওতামেন্দি ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া ভাষায় বলেন, ‘আগামীতে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেটা যদি আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়, তবে আমাদের আর টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো মানেই হয় না!’
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
স্প্যানিশ ফুটবলে যেমন এল-ক্ল্যাসিকোর উত্তেজনা ছাড়িয়ে যায় সবকিছু, তেমনি আর্জেন্টাইন ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ও রোমাঞ্চকর ‘সুপারক্লাসিকো’ মানেই থাকে বাড়তি উত্তেজনা আর চিরচেনা লড়াই। ঐতিহ্যের লড়াইয়ে নামে আর্জেন্টিনার দুই ক্লাব বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেট।
দুই দলের সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাঠে ঘটে যাওয়া দুই লাল কার্ড নিয়ে অডিও প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। রিভার প্লেটের দুই ফুটবলার লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা ও গনজালো মন্তিয়েলের সেই আলোচিত লাল কার্ডের পেছনের মূল কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছে তারা।
ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টের আয়োজকদের প্রকাশিত ওই অডিওতে মাঠের রেফারি নিকোলাস রামিরেস এবং ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) রুমে থাকা সিলভিও ত্রুক্কোর মধ্যকার আলোচনায় পুরো চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে-- ঠিক কী প্রক্রিয়ায় ওই দুই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
যেভাবে এসেছে লাল কার্ড দুটি
ম্যাচের শুরুতেই সপ্তম মিনিটে প্রথম লাল কার্ড দেখে রিভার প্লেট। সান্তিয়াগো আসকাসিবারের বাড়ানো একটি উঁচু বল পেয়ে যখন একা গোলমুখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বোকা জুনিয়র্সের মিগেল মেরেন্তিয়েল, তখনই তাকে পেছন থেকে দুই হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে ফেলে থামিয়ে দেন রিভারের ডিফেন্ডার মার্তিনেস কুয়ার্তা।
তবে ওই মুহূর্তে রেফারি রামিরেস সরাসরি কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি। পরে বল সাইডলাইন পেরিয়ে বাইরে গেলে ভিএআর রুম থেকে রেফারিকে মনিটরে দেখার অনুরোধ জানান ত্রুক্কো।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে ত্রুক্কোকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলোয়াড়টিকে দুই হাত দিয়ে ধরে আটকে রাখা হয়েছে।’ জবাবে রেফারি রামিরেস বলেন, ‘আমি মাঠের ভেতর থেকে বিষয়টি পরিষ্কার দেখতে পাইনি।’
এরপর ভিডিও রিপ্লে দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। রামিরেস বলেন, ‘আমি মনিটরে পরিষ্কার দেখছি, ডিফেন্ডার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ধরে ফাউল করেছেন। এর ফলে প্রতিপক্ষের গোল করার একটা স্পষ্ট সুযোগ নষ্ট হয়েছে। আমি আমার আগের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলছি। এখন আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো—স্বাগতিক দলের পক্ষে সরাসরি ফ্রি-কিক এবং গোল করার পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট করার অপরাধে ওই ডিফেন্ডারকে সরাসরি লাল কার্ড।’
এদিকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৩৪তম মিনিটে আসে দ্বিতীয় লাল কার্ডের ধাক্কা। এবার বোকা ডিফেন্ডার লাউতারো ব্লাঙ্কোর গোড়ালিতে সজোরে পেছন থেকে লাথি মারায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন রিভারের মন্তিয়েল। মাঠের রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড দেখালেও সেটি ভালোভাবে যাচাই করতে ভিএআরের সাহায্য নেওয়া হয়।
ভিএআর সহকারী গাস্তোন সুয়ারেজ তখন জানান, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে এটি শতভাগ সঠিক লাল কার্ড। সে সরাসরি প্রতিপক্ষের গোড়ালিতে আঘাত করেছে। আঘাতের তীব্রতা, শক্তি এবং গতি—সবকিছুই বেশ বিপজ্জনক ছিল।’
আরেক কর্মকর্তা ত্রুক্কোও তার সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, পা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আঘাতে যথেষ্ট শক্তি ছিল। বুটের স্টাড সরাসরি গোড়ালির নরম জায়গায় আঘাত করায় বড় ধরনের চোট বা গোড়ালি মচকে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।’
ভিএআর রুম থেকে সায় পাওয়ার পর রেফারি নিজের লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। যার ফলে ম্যাচের শেষভাগে এসে ৯ জনের দলে পরিণত হয় রিভার প্লেট।
রিভার প্লেটের তীব্র ক্ষোভ
ম্যাচের এই দুটি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে রিভার প্লেট শিবির। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবের কর্মকর্তা লিওনার্দো পোনজিও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেন।
একই সুর শোনা গেছে মিক্সড জোনে কথা বলা ফুটবলার নিকোলাস ওতামেন্দি ও মন্তিয়ালের গলাতেও। পোনজিওর দাবি, ম্যাচে বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড়দের একাধিকবার লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ থাকলেও রেফারি তা এড়িয়ে গেছেন।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ডিফেন্ডার ওতামেন্দি ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া ভাষায় বলেন, ‘আগামীতে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেটা যদি আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়, তবে আমাদের আর টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো মানেই হয় না!’

আপনার মতামত লিখুন