ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের হামলা চালানোর সম্ভাবনাও দেখছেন ট্রাম্প।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে সাংবাদিকদের ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পাঠিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে আন্তরিক হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরাগচি বলেন, ইরান কোনো চাপ, হুমকি বা ভয়ভীতি মেনে নেবে না এবং চাপের মুখে তার সার্বভৌম অধিকার বিসর্জন দেবে না। পরিকল্পনাটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান।
তবে আরাগচির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান মার্কিন শর্ত পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বরও ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব। এ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছিল।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে শুক্রবার জানানো হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পারমাণবিক ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যোগাযোগ চলছে বলেও এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে ইরানের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর এবং পরবর্তী সময়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের হামলা চালানোর সম্ভাবনাও দেখছেন ট্রাম্প।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে সাংবাদিকদের ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পাঠিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে আন্তরিক হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরাগচি বলেন, ইরান কোনো চাপ, হুমকি বা ভয়ভীতি মেনে নেবে না এবং চাপের মুখে তার সার্বভৌম অধিকার বিসর্জন দেবে না। পরিকল্পনাটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান।
তবে আরাগচির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান মার্কিন শর্ত পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বরও ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব। এ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছিল।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে শুক্রবার জানানো হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পারমাণবিক ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যোগাযোগ চলছে বলেও এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে ইরানের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর এবং পরবর্তী সময়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন