মুন টাইমস নিউজ

জাতীয়

প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগ পাচ্ছেন ৪ হাজার এসআই

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ফটো কার্ড
প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগ পাচ্ছেন ৪ হাজার এসআই

বাংলাদেশ পুলিশে ৪ হাজার উপ-পরিদর্শককে (এসআই) সরাসরি নিয়োগ দেবে সরকার। এই নিয়োগ দিতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী, এতদিন পুলিশের এসআই পদের ৫০ শতাংশ পূরণ করা হতো বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে। বাকি ৫০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হতো। নিয়ম অনুযায়ী এবারও এই চার হাজার এসআই পদের মধ্য থেকে ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। এবারই প্রথমবারের মতো পুরো চার হাজার এসআই সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি কনস্টেবল পদে ১০ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে। সচিব কমিটির সভায় এসআই ও কনস্টেবল মিলিয়ে পুলিশে মোট ১৪ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই ১৪ হাজার পদে নিয়োগ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হবে। তবে প্রবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের কারণে যাঁরা এসআই পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরাসরি চার হাজার এসআই নিয়োগ দিলে পদোন্নতিপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হবেন। ভবিষ্যতে সরকার একইভাবে সরাসরি নিয়োগ দিতে থাকলে বঞ্চনা আরও বাড়বে এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা দেখা দিতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে কনস্টেবল, এসআই ও পুলিশ সার্জেন্ট পদে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার সদস্য নিয়োগ পেয়েছিলেন। এটি পুলিশ বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। কর্মকর্তাদের মতে, বিগত দেড় দশকে পুলিশের নিয়োগের বড় অংশই ছিল রাজনৈতিক। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া কনস্টেবল পদে ১০ হাজার নতুন নিয়োগ হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে এসব পদ নতুন সৃজন করা হয়েছে। সরাসরি নিয়োগের সুবিধার্থে পুলিশ প্রবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তবে এবারই একবারের জন্য এভাবে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতেও সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেখতে পায়, পুলিশ প্রশাসনে তাদের নিজেদের আদর্শের লোকবলের সংখ্যা খুবই কম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকারের আট মাস পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দেশে ও দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণ বিবেচনা করেই এসআই পদে নতুন করে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র আরও জানায়, পুলিশ প্রবিধান সংশোধন করতে প্রথমে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ১৪ হাজার নতুন জনবলের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি বুধবার সচিব কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়। প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি হলো ১৪টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি, যেখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সভাপতিত্ব করেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন দেয় এই কমিটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে নিয়োগের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষা নেওয়া হবে। এটি হতে পারে ৫২তম বিসিএস। এর মাধ্যমে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগের পর তাঁদের বনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময় কিছুটা কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা চলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশে যাঁদের নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাঁদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করেই চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগ পাচ্ছেন ৪ হাজার এসআই

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ পুলিশে ৪ হাজার উপ-পরিদর্শককে (এসআই) সরাসরি নিয়োগ দেবে সরকার। এই নিয়োগ দিতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী, এতদিন পুলিশের এসআই পদের ৫০ শতাংশ পূরণ করা হতো বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে। বাকি ৫০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হতো। নিয়ম অনুযায়ী এবারও এই চার হাজার এসআই পদের মধ্য থেকে ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। এবারই প্রথমবারের মতো পুরো চার হাজার এসআই সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি কনস্টেবল পদে ১০ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে। সচিব কমিটির সভায় এসআই ও কনস্টেবল মিলিয়ে পুলিশে মোট ১৪ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই ১৪ হাজার পদে নিয়োগ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হবে। তবে প্রবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের কারণে যাঁরা এসআই পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরাসরি চার হাজার এসআই নিয়োগ দিলে পদোন্নতিপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হবেন। ভবিষ্যতে সরকার একইভাবে সরাসরি নিয়োগ দিতে থাকলে বঞ্চনা আরও বাড়বে এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হতাশা দেখা দিতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে কনস্টেবল, এসআই ও পুলিশ সার্জেন্ট পদে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার সদস্য নিয়োগ পেয়েছিলেন। এটি পুলিশ বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। কর্মকর্তাদের মতে, বিগত দেড় দশকে পুলিশের নিয়োগের বড় অংশই ছিল রাজনৈতিক। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া কনস্টেবল পদে ১০ হাজার নতুন নিয়োগ হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে এসব পদ নতুন সৃজন করা হয়েছে। সরাসরি নিয়োগের সুবিধার্থে পুলিশ প্রবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তবে এবারই একবারের জন্য এভাবে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতেও সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেখতে পায়, পুলিশ প্রশাসনে তাদের নিজেদের আদর্শের লোকবলের সংখ্যা খুবই কম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকারের আট মাস পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দেশে ও দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণ বিবেচনা করেই এসআই পদে নতুন করে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র আরও জানায়, পুলিশ প্রবিধান সংশোধন করতে প্রথমে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ১৪ হাজার নতুন জনবলের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি বুধবার সচিব কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়। প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি হলো ১৪টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি, যেখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সভাপতিত্ব করেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন দেয় এই কমিটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে নিয়োগের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষা নেওয়া হবে। এটি হতে পারে ৫২তম বিসিএস। এর মাধ্যমে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগের পর তাঁদের বনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময় কিছুটা কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা চলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশে যাঁদের নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাঁদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করেই চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক: তাবিবুর রহমান তালুকদার
প্রকাশক: জিন্নাহ ফারুক
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ