ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে আভাস পাওয়া গেছে। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক দরকষাকষির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও ৫১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এই বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনো জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতা চলতে পারে।
এদিকে, দুই জোটের বাইরে থাকা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে পারলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই দলগুলো।
দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী?
বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর আইজেনকোট বলেন, এই ফল নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরায়েলের বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ধস। জনগণ তাদের ঘরে ফিরে যেতে বলেছে।’
তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য ও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বিরোধীদের আগাম বিজয় উদ্যাপনকে অপরিণত বলে মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলে লিকুদই সবচেয়ে বড় দল। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া সব সময়ই ভালো।’
লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহুগত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একাধিকবার ক্ষমতায় টিকে থাকার নজির রয়েছে তার।
ইসরায়েলবিষয়ক ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন আল জাজিরাকে বলেন, প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের শক্তি স্পষ্টভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর বিজয় নিশ্চিত হয়েছে কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটেছে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে আভাস পাওয়া গেছে। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক দরকষাকষির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও ৫১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এই বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনো জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতা চলতে পারে।
এদিকে, দুই জোটের বাইরে থাকা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে পারলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই দলগুলো।
দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী?
বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর আইজেনকোট বলেন, এই ফল নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরায়েলের বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ধস। জনগণ তাদের ঘরে ফিরে যেতে বলেছে।’
তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য ও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বিরোধীদের আগাম বিজয় উদ্যাপনকে অপরিণত বলে মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলে লিকুদই সবচেয়ে বড় দল। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া সব সময়ই ভালো।’
লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহুগত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একাধিকবার ক্ষমতায় টিকে থাকার নজির রয়েছে তার।
ইসরায়েলবিষয়ক ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন আল জাজিরাকে বলেন, প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের শক্তি স্পষ্টভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর বিজয় নিশ্চিত হয়েছে কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটেছে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

আপনার মতামত লিখুন