মুন টাইমস নিউজ

সারাদেশ

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে অনুপস্থিত ২০ কর্মকর্তা কর্মচারীকে শোকজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে অনুপস্থিত ২০ কর্মকর্তা কর্মচারীকে শোকজ

ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড় হাজির পাওয়ার পর দুইজন সহকারী কমিশনারসহ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ২ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নোটিশে জেলা প্রশাসক(ডিসি) মহোদয়ের নির্দেশক্রমে স্বাক্ষর করেছেন তিনি নিজে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আকস্মিক ভূমি অফিসে পরিদর্শনে গেলে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত পাননি। তাদের উপস্থিত পাওয়া না গেলেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগেরদিন স্বাক্ষর করে গেছেন তারা। যা গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর খ ধারার অপরাধের শামিল।

কোনো ধরনের যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে এর উপযুক্ত কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক(ডিসি) রায়হান কবির জানান, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকা এবং তাদের হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।“সবাই হয়ত দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর পরিষ্কারভাবে বলা যাবে,” যোগ করেন ডিসি।

প্রসঙ্গত, এর আগে সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এ এলাকায় একই চত্বরে পাশাপাশি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে। সকাল নয়টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে ঢোকেন তিনি। কিন্তু নয়টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি। তখন তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন।

অন্তত ৩০ মিনিট পর খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত হন। তারও কিছুক্ষণ পর আসেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা। আকস্মিক এ পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড় হাজির ও হাজির না থেকেও খাতায় আগাম স্বাক্ষর করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এই ঘটনায় দুই এসিল্যান্ড ছাড়াও কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন: সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন, গাড়িচালক নাদিম হায়দার, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ, চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত প্রমুখ।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে অনুপস্থিত ২০ কর্মকর্তা কর্মচারীকে শোকজ

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড় হাজির পাওয়ার পর দুইজন সহকারী কমিশনারসহ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ২ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নোটিশে জেলা প্রশাসক(ডিসি) মহোদয়ের নির্দেশক্রমে স্বাক্ষর করেছেন তিনি নিজে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আকস্মিক ভূমি অফিসে পরিদর্শনে গেলে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত পাননি। তাদের উপস্থিত পাওয়া না গেলেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগেরদিন স্বাক্ষর করে গেছেন তারা। যা গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর খ ধারার অপরাধের শামিল।

কোনো ধরনের যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে এর উপযুক্ত কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক(ডিসি) রায়হান কবির জানান, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকা এবং তাদের হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।“সবাই হয়ত দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর পরিষ্কারভাবে বলা যাবে,” যোগ করেন ডিসি।

প্রসঙ্গত, এর আগে সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এ এলাকায় একই চত্বরে পাশাপাশি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে। সকাল নয়টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে ঢোকেন তিনি। কিন্তু নয়টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি। তখন তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন।

অন্তত ৩০ মিনিট পর খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত হন। তারও কিছুক্ষণ পর আসেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা। আকস্মিক এ পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড় হাজির ও হাজির না থেকেও খাতায় আগাম স্বাক্ষর করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এই ঘটনায় দুই এসিল্যান্ড ছাড়াও কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন: সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন, গাড়িচালক নাদিম হায়দার, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ, চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত প্রমুখ।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আলামিন সরকার
উপদেষ্টা: তাবিবুর রহমান তালুকদার
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ