দেশের আটটি বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে সারা দেশে আধুনিক ও সুলভ বা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাব এবং সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে রাজধানীর মহাখালীতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট 'জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল' পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রায় সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সশস্ত্র বাহিনীর হাসপাতালগুলোতে ক্যানসার ও অনকোলজি ইউনিট চালু রয়েছে। পাশাপাশি ২৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকার চারটি শীর্ষস্থানীয় করপোরেট হাসপাতালেও ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। চলমান আটটি বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলোর যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-জনবল পদায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও জনবল ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক জনসাস্থ্যবিদ ও প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রতিটি উপজেলায় নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। স্ত্রীরোগ (গাইনি) বিশেষজ্ঞসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট কাটাতে নতুন নিয়োগ ও প্রশিক্ষিত জনবল পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে, যা দ্রুত দৃশ্যমান হবে।
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক স্থানে ভবন তৈরি করে ফেলে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলোর কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ধাপে ধাপে জনবল নিয়োগ ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে।
হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও অপরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০ কোটি মানুষের দেশের স্বাস্থ্য খাতের পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠতে সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ফলে খুব দ্রুতই স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের আটটি বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে সারা দেশে আধুনিক ও সুলভ বা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাব এবং সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে রাজধানীর মহাখালীতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট 'জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল' পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রায় সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সশস্ত্র বাহিনীর হাসপাতালগুলোতে ক্যানসার ও অনকোলজি ইউনিট চালু রয়েছে। পাশাপাশি ২৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকার চারটি শীর্ষস্থানীয় করপোরেট হাসপাতালেও ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। চলমান আটটি বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলোর যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-জনবল পদায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও জনবল ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক জনসাস্থ্যবিদ ও প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রতিটি উপজেলায় নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। স্ত্রীরোগ (গাইনি) বিশেষজ্ঞসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট কাটাতে নতুন নিয়োগ ও প্রশিক্ষিত জনবল পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে, যা দ্রুত দৃশ্যমান হবে।
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক স্থানে ভবন তৈরি করে ফেলে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলোর কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ধাপে ধাপে জনবল নিয়োগ ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে।
হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও অপরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০ কোটি মানুষের দেশের স্বাস্থ্য খাতের পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠতে সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ফলে খুব দ্রুতই স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন