বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হবিগঞ্জ। চা-বাগান, পাহাড়, হাওর, নদী এবং সবুজ প্রকৃতির জন্য জেলাটি বেশ পরিচিত। বিশেষ করে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা বন এবং বানিয়াচংয়ের মতো ঐতিহাসিক স্থান হবিগঞ্জকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে হবিগঞ্জের পরিচিতি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার রয়েছে নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের বৈচিত্র্য। হাওরের মাছ, হাঁসের মাংস, শুঁটকি ভর্তা, সাতকরা দিয়ে মাংস এবং ঐতিহ্যবাহী ছিকর এ জেলার খাবারের অন্যতম আকর্ষণ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক হবিগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।
হবিগঞ্জের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম হলো ছিকর। এটি সাধারণ খাবারের মতো চাল, মাছ বা মাংস দিয়ে তৈরি হয় না। বরং বিশেষ ধরনের মিহি এঁটেল মাটি প্রক্রিয়াজাত করে ছিকর তৈরি করা হয়।
স্থানীয়ভাবে টিলা থেকে সংগ্রহ করা মাটি পরিষ্কার করে মণ্ড তৈরি করা হয়। এরপর বিভিন্ন আকৃতিতে কেটে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুনে পুড়িয়ে ছিকর প্রস্তুত করা হয়।
অতীতে হবিগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মধ্যে ছিকর খাওয়ার প্রচলন ছিল। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এটি খাওয়ার অভ্যাস বেশি দেখা যেত। বর্তমানে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
ছিকর হবিগঞ্জের লোকজ সংস্কৃতির একটি ব্যতিক্রমী নিদর্শন। তবে এটি সাধারণ পুষ্টিকর খাবার নয় এবং মাটি খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
হবিগঞ্জসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হলো সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস।
সাতকরা এক ধরনের সুগন্ধি লেবুজাতীয় ফল। এর খোসা ও শাঁসের বিশেষ ঘ্রাণ এবং টক স্বাদ মাংসের রান্নায় আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করে।
গরুর মাংসের সঙ্গে সাতকরা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয় এই খাবার।
গরম ভাতের সঙ্গে সাতকরা দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস খেতে বেশ সুস্বাদু। সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে এটি বিশেষ পরিচিত।
হবিগঞ্জের বড় একটি অংশ হাওর ও জলাভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত। বিশেষ করে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ এলাকায় মাছের বৈচিত্র্য বেশ উল্লেখযোগ্য।
হাওরের রুই, কাতলা, বোয়াল, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুর মাছ দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের সুস্বাদু তরকারি।
পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচ ও দেশি মসলা দিয়ে রান্না করা মাছের ঝোল গরম ভাতের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে।
হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে হাঁস পালন বেশ প্রচলিত। তাই স্থানীয় মানুষের খাবারের তালিকায় হাঁসের মাংসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
দেশি হাঁসের মাংস আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয়।
বিশেষ করে শীতকালে হাঁসের মাংসের ঝোল বা ভুনা অনেক পরিবারের পছন্দের খাবার। গরম ভাতের সঙ্গে এই খাবারের স্বাদ বেশ উপভোগ্য।
হবিগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে শুঁটকি মাছের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এরপর শুঁটকি ভেজে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু ভর্তা।
গরম ভাতের সঙ্গে শুঁটকি ভর্তা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের খাবারের তালিকায় এটি পরিচিত একটি পদ।
হবিগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চা উৎপাদনকারী জেলা। জেলার চুনারুঘাট ও মাধবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ চা-বাগান।
তেলিয়াপাড়া, রশিদপুর ও আশপাশের চা-বাগান এ অঞ্চলের চা উৎপাদনের ঐতিহ্য বহন করে।
এখানকার চা দিয়ে তৈরি দুধ চা, রং চা ও লেবু চা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
চা-বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে এক কাপ গরম চা পান করার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
হবিগঞ্জের গ্রামীণ ও পারিবারিক খাবারের তালিকায় ভুনা খিচুড়ির বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে।
চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার। অনেকে এর সঙ্গে গরু বা খাসির মাংসও যোগ করেন।
বিশেষ করে বর্ষাকালে কিংবা শীতের দিনে গরম গরম ভুনা খিচুড়ি খেতে বেশ ভালো লাগে।
হবিগঞ্জের মানুষের দৈনন্দিন খাবারে ভর্তার ব্যবহার বেশ পরিচিত।
আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, ডাল ভর্তা ও বিভিন্ন শাকের ভর্তা এখানকার সাধারণ খাবারের অংশ।
পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, রসুন ও সরিষার তেল দিয়ে তৈরি এসব ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের মতো হবিগঞ্জেও শীতকালে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে।
ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা ও দুধচিতই এখানকার পরিচিত পিঠার মধ্যে পড়ে।
চালের গুঁড়া, নারকেল, দুধ এবং খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি এসব পিঠা শীতের মৌসুমে মানুষের খাবারের তালিকায় বিশেষ জায়গা দখল করে।
হবিগঞ্জ শহরের পরিচিত মিষ্টান্নের মধ্যে আদি গোপালের দই ও মিষ্টির কথা উল্লেখ করা যায়।
দুধ ও ছানা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মিষ্টি এবং দই স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত। অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে এসব মিষ্টির প্রচলন রয়েছে।
স্থানীয় মিষ্টির দোকানে গেলে দই, রসগোল্লা ও অন্যান্য মিষ্টান্নের স্বাদ নেওয়া যায়।
হবিগঞ্জের খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার হাওর, চা-বাগান, পাহাড়ি পরিবেশ এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রভাব।
হাওরের দেশি মাছ, হাঁসের মাংস, শুঁটকি, সাতকরা এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এখানকার খাবারে বৈচিত্র্য এনেছে।
অন্যদিকে ছিকরের মতো ব্যতিক্রমী লোকজ ঐতিহ্য হবিগঞ্জের খাদ্য ও সংস্কৃতিকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়।
হবিগঞ্জ শুধু চা-বাগান, পাহাড় ও হাওরের সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানকার খাদ্যসংস্কৃতিও বেশ বৈচিত্র্যময়। ঐতিহ্যবাহী ছিকর, সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস, হাঁসের মাংসের ঝোল, হাওরের দেশি মাছ, শুঁটকি ভর্তা এবং চা এ জেলার পরিচিত খাবার ও স্থানীয় খাদ্যঐতিহ্যের অংশ।
তাই হবিগঞ্জ ভ্রমণে গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দময় ও স্মরণীয় হয়ে উঠবে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হবিগঞ্জ। চা-বাগান, পাহাড়, হাওর, নদী এবং সবুজ প্রকৃতির জন্য জেলাটি বেশ পরিচিত। বিশেষ করে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা বন এবং বানিয়াচংয়ের মতো ঐতিহাসিক স্থান হবিগঞ্জকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে হবিগঞ্জের পরিচিতি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার রয়েছে নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের বৈচিত্র্য। হাওরের মাছ, হাঁসের মাংস, শুঁটকি ভর্তা, সাতকরা দিয়ে মাংস এবং ঐতিহ্যবাহী ছিকর এ জেলার খাবারের অন্যতম আকর্ষণ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক হবিগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।
হবিগঞ্জের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম হলো ছিকর। এটি সাধারণ খাবারের মতো চাল, মাছ বা মাংস দিয়ে তৈরি হয় না। বরং বিশেষ ধরনের মিহি এঁটেল মাটি প্রক্রিয়াজাত করে ছিকর তৈরি করা হয়।
স্থানীয়ভাবে টিলা থেকে সংগ্রহ করা মাটি পরিষ্কার করে মণ্ড তৈরি করা হয়। এরপর বিভিন্ন আকৃতিতে কেটে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুনে পুড়িয়ে ছিকর প্রস্তুত করা হয়।
অতীতে হবিগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মধ্যে ছিকর খাওয়ার প্রচলন ছিল। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এটি খাওয়ার অভ্যাস বেশি দেখা যেত। বর্তমানে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
ছিকর হবিগঞ্জের লোকজ সংস্কৃতির একটি ব্যতিক্রমী নিদর্শন। তবে এটি সাধারণ পুষ্টিকর খাবার নয় এবং মাটি খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
হবিগঞ্জসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হলো সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস।
সাতকরা এক ধরনের সুগন্ধি লেবুজাতীয় ফল। এর খোসা ও শাঁসের বিশেষ ঘ্রাণ এবং টক স্বাদ মাংসের রান্নায় আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করে।
গরুর মাংসের সঙ্গে সাতকরা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয় এই খাবার।
গরম ভাতের সঙ্গে সাতকরা দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস খেতে বেশ সুস্বাদু। সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে এটি বিশেষ পরিচিত।
হবিগঞ্জের বড় একটি অংশ হাওর ও জলাভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত। বিশেষ করে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ এলাকায় মাছের বৈচিত্র্য বেশ উল্লেখযোগ্য।
হাওরের রুই, কাতলা, বোয়াল, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুর মাছ দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের সুস্বাদু তরকারি।
পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচ ও দেশি মসলা দিয়ে রান্না করা মাছের ঝোল গরম ভাতের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে।
হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে হাঁস পালন বেশ প্রচলিত। তাই স্থানীয় মানুষের খাবারের তালিকায় হাঁসের মাংসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
দেশি হাঁসের মাংস আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয়।
বিশেষ করে শীতকালে হাঁসের মাংসের ঝোল বা ভুনা অনেক পরিবারের পছন্দের খাবার। গরম ভাতের সঙ্গে এই খাবারের স্বাদ বেশ উপভোগ্য।
হবিগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে শুঁটকি মাছের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এরপর শুঁটকি ভেজে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু ভর্তা।
গরম ভাতের সঙ্গে শুঁটকি ভর্তা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের খাবারের তালিকায় এটি পরিচিত একটি পদ।
হবিগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চা উৎপাদনকারী জেলা। জেলার চুনারুঘাট ও মাধবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ চা-বাগান।
তেলিয়াপাড়া, রশিদপুর ও আশপাশের চা-বাগান এ অঞ্চলের চা উৎপাদনের ঐতিহ্য বহন করে।
এখানকার চা দিয়ে তৈরি দুধ চা, রং চা ও লেবু চা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
চা-বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে এক কাপ গরম চা পান করার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
হবিগঞ্জের গ্রামীণ ও পারিবারিক খাবারের তালিকায় ভুনা খিচুড়ির বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে।
চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার। অনেকে এর সঙ্গে গরু বা খাসির মাংসও যোগ করেন।
বিশেষ করে বর্ষাকালে কিংবা শীতের দিনে গরম গরম ভুনা খিচুড়ি খেতে বেশ ভালো লাগে।
হবিগঞ্জের মানুষের দৈনন্দিন খাবারে ভর্তার ব্যবহার বেশ পরিচিত।
আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, ডাল ভর্তা ও বিভিন্ন শাকের ভর্তা এখানকার সাধারণ খাবারের অংশ।
পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, রসুন ও সরিষার তেল দিয়ে তৈরি এসব ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের মতো হবিগঞ্জেও শীতকালে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে।
ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা ও দুধচিতই এখানকার পরিচিত পিঠার মধ্যে পড়ে।
চালের গুঁড়া, নারকেল, দুধ এবং খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি এসব পিঠা শীতের মৌসুমে মানুষের খাবারের তালিকায় বিশেষ জায়গা দখল করে।
হবিগঞ্জ শহরের পরিচিত মিষ্টান্নের মধ্যে আদি গোপালের দই ও মিষ্টির কথা উল্লেখ করা যায়।
দুধ ও ছানা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মিষ্টি এবং দই স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত। অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে এসব মিষ্টির প্রচলন রয়েছে।
স্থানীয় মিষ্টির দোকানে গেলে দই, রসগোল্লা ও অন্যান্য মিষ্টান্নের স্বাদ নেওয়া যায়।
হবিগঞ্জের খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার হাওর, চা-বাগান, পাহাড়ি পরিবেশ এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রভাব।
হাওরের দেশি মাছ, হাঁসের মাংস, শুঁটকি, সাতকরা এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এখানকার খাবারে বৈচিত্র্য এনেছে।
অন্যদিকে ছিকরের মতো ব্যতিক্রমী লোকজ ঐতিহ্য হবিগঞ্জের খাদ্য ও সংস্কৃতিকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়।
হবিগঞ্জ শুধু চা-বাগান, পাহাড় ও হাওরের সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানকার খাদ্যসংস্কৃতিও বেশ বৈচিত্র্যময়। ঐতিহ্যবাহী ছিকর, সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস, হাঁসের মাংসের ঝোল, হাওরের দেশি মাছ, শুঁটকি ভর্তা এবং চা এ জেলার পরিচিত খাবার ও স্থানীয় খাদ্যঐতিহ্যের অংশ।
তাই হবিগঞ্জ ভ্রমণে গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দময় ও স্মরণীয় হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন