বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জেলা মানিকগঞ্জ। পদ্মা, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত এই জেলার রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও খাদ্যঐতিহ্য। কৃষি, নদী এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রভাব এখানকার খাবারের বৈচিত্র্যে বিশেষভাবে ফুটে ওঠে।
মানিকগঞ্জের খাবারের কথা উঠলে প্রথমেই আসে হরিরামপুরের ঝিটকার বিখ্যাত হাজারি গুড়ের নাম। এছাড়া ঘিওরের তেরশ্রীর নিজামের মিষ্টি, বিভিন্ন ধরনের দুধের পিঠা, কুলি পিঠা, দুধ চিতই, ছিট রুটি এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন এ জেলার খাবারের পরিচিতি বাড়িয়েছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক মানিকগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।
মানিকগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার বা খাদ্যপণ্যের নাম বলতে গেলে প্রথমেই আসে হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার হাজারি গুড়ের কথা।
প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই গুড় খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয়। এর বিশেষত্ব হলো মিষ্টি স্বাদ, মন মাতানো ঘ্রাণ এবং দানাদার গুঁড়ো গঠন।
হাজারি গুড় সাধারণত শীতকালে তৈরি করা হয়। খেজুরের রস সংগ্রহ করে বিশেষ পদ্ধতিতে জ্বাল দিয়ে এই গুড় প্রস্তুত করা হয়।
এই গুড় দিয়ে পায়েস, পিঠা, ক্ষীর ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা যায়।
২০২৬ সালে ঝিটকার হাজারি গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি লাভ করে। ফলে মানিকগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী বাজারের নিজামের মিষ্টি বেশ পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন।
১৯৬৫ সাল থেকে এই মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য চলে আসছে। মো. নিজামুদ্দিনের হাত ধরে এর যাত্রা শুরু হয়।
ছানা দিয়ে তৈরি এই মিষ্টির ওপর মাওয়ার প্রলেপ দেওয়া হয়। ফলে এর স্বাদ ও গঠন অন্যান্য সাধারণ মিষ্টি থেকে আলাদা।
মানিকগঞ্জের বাইরে থেকেও অনেক মিষ্টিপ্রেমী এই মিষ্টির স্বাদ নিতে তেরশ্রী বাজারে আসেন।
মানিকগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ হলো দুধ চিতই পিঠা।
চালের গুঁড়া দিয়ে ছোট গোলাকার চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। এরপর গরম পিঠা ঘন দুধ ও খেজুরের গুড়ের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
দুধে ভিজে পিঠা নরম হয়ে যায় এবং গুড়ের মিষ্টি স্বাদ খাবারটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।
বিশেষ করে শীতকালে মানিকগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে এই পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে।
মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পিঠার মধ্যে কুলি পিঠা অন্যতম।
চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি খামিরের মধ্যে নারকেল ও খেজুরের গুড়ের পুর ভরে এই পিঠা তৈরি করা হয়।
এরপর পিঠাগুলো ভাপে সিদ্ধ করা হয়। অনেক সময় দুধের সঙ্গেও পরিবেশন করা হয়।
শীতকাল এবং বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে কুলি পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে।
মানিকগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে ছিট রুটি একটি পরিচিত খাবার।
চালের গুঁড়া ও পানি দিয়ে পাতলা মিশ্রণ তৈরি করে বিশেষ কৌশলে তাওয়ায় ছিটিয়ে এই রুটি তৈরি করা হয়।
ছিট রুটি সাধারণত গরুর মাংস, হাঁসের মাংস কিংবা বিভিন্ন ধরনের ভর্তার সঙ্গে খাওয়া হয়।
এর পাতলা ও নরম গঠন খাবারটিকে অন্য রুটি থেকে আলাদা করে।
মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পিঠার মধ্যে মাংস কুলি একটি আকর্ষণীয় খাবার।
চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি পিঠার ভেতরে মসলাযুক্ত মাংসের পুর ভরে এটি প্রস্তুত করা হয়।
পিঠাটি ভাপে সিদ্ধ করে পরিবেশন করা হয়। মিষ্টি পিঠার পাশাপাশি ঝাল স্বাদের এই পিঠা মানিকগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
মানিকগঞ্জের আরেকটি পরিচিত পিঠা হলো দুধকুলি।
চালের গুঁড়া দিয়ে ছোট ছোট পিঠা তৈরি করে ঘন দুধে রান্না করা হয়। এতে চিনি অথবা খেজুরের গুড় মেশানো হয়।
দুধের ঘনত্ব ও পিঠার নরম গঠন খাবারটিকে বেশ সুস্বাদু করে তোলে।
বিশেষ করে শীতকালে এই পিঠা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে পান্তোয়া, রসগোল্লা, রসমালাই, সন্দেশ, কালোজাম ও চমচম পাওয়া যায়।
এছাড়া জেলার ঘোষপাড়ার মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্যও বেশ পরিচিত।
দুধ, ছানা, চিনি ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি এসব মিষ্টি বিয়ে, ঈদ, পূজা এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়।
শীতকালে মানিকগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে ভাপা পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে।
চালের গুঁড়ার মধ্যে নারকেল কুচি ও খেজুরের গুড় দিয়ে ভাপে সিদ্ধ করে তৈরি করা হয় এই পিঠা।
ঝিটকার হাজারি গুড় ব্যবহার করে পিঠা তৈরি করলে এর স্বাদ ও সুগন্ধ আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।
শীতের সকালে গরম গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ আনন্দদায়ক।
পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদী এবং বিভিন্ন জলাশয়ের কারণে মানিকগঞ্জে দেশি মাছের ব্যবহার বেশ প্রচলিত।
ইলিশ, রুই, কাতলা, বোয়াল, টেংরা, শিং ও মাগুর মাছ দিয়ে নানা ধরনের রান্না তৈরি করা হয়।
মাছের ঝোল, ভুনা, ভর্তা এবং ইলিশের বিভিন্ন পদ স্থানীয় মানুষের খাবারের তালিকায় রয়েছে।
গরম ভাতের সঙ্গে দেশি মাছের ঝোল মানিকগঞ্জের গ্রামীণ খাবারের পরিচিত স্বাদ।
মানিকগঞ্জের গ্রামীণ নারীদের পিঠা তৈরির দক্ষতা বেশ পরিচিত।
পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, তালের পিঠা, তেল চিতই ও হাতেকাটা সেমাই পিঠা এখানকার পরিচিত পিঠার মধ্যে পড়ে।
পাটিসাপটা তৈরিতে চালের গুঁড়া, ময়দা, দুধ এবং নারকেল বা ক্ষীরের পুর ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে নকশি পিঠায় বিভিন্ন সুন্দর নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
মানিকগঞ্জের গ্রামীণ মেলা ও উৎসবে বিন্নি চালের খই এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্নের প্রচলন রয়েছে।
বিন্নি চাল দিয়ে তৈরি খইয়ের সঙ্গে গুড় বা চিনি মিশিয়ে খাওয়া যায়।
এছাড়া বাতাসা, সাজ-কদমা, খাজা ও হাওয়াই মিঠাই গ্রামীণ মেলার পরিচিত খাবার।
এসব খাবার মানিকগঞ্জের লোকজ খাদ্যসংস্কৃতির একটি অংশ।
মানিকগঞ্জের খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য, পিঠাপুলির বৈচিত্র্য এবং দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন।
বিশেষ করে ঝিটকার হাজারি গুড় ও ঘিওরের তেরশ্রীর নিজামের মিষ্টি মানিকগঞ্জের খাদ্যপরিচিতিকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
এছাড়া কুলি পিঠা, দুধ চিতই, দুধকুলি, ছিট রুটি ও মাংস কুলির মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার জেলার গ্রামীণ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
মানিকগঞ্জ শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদী ও কৃষির জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানকার খাবারের ঐতিহ্যও বেশ সমৃদ্ধ। ঝিটকার হাজারি গুড়, তেরশ্রীর নিজামের মিষ্টি, দুধ চিতই, কুলি পিঠা, দুধকুলি, ছিট রুটি, পাটিসাপটা এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই মানিকগঞ্জ ভ্রমণে গেলে হরিরামপুরের ঝিটকার হাজারি গুড় এবং ঘিওরের তেরশ্রীর নিজামের মিষ্টির স্বাদ নিতে ভুলবেন না। পাশাপাশি শীতকালে স্থানীয় বাড়িতে তৈরি বিভিন্ন পিঠাপুলি খাওয়ার সুযোগ পেলে আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জেলা মানিকগঞ্জ। পদ্মা, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত এই জেলার রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও খাদ্যঐতিহ্য। কৃষি, নদী এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রভাব এখানকার খাবারের বৈচিত্র্যে বিশেষভাবে ফুটে ওঠে।
মানিকগঞ্জের খাবারের কথা উঠলে প্রথমেই আসে হরিরামপুরের ঝিটকার বিখ্যাত হাজারি গুড়ের নাম। এছাড়া ঘিওরের তেরশ্রীর নিজামের মিষ্টি, বিভিন্ন ধরনের দুধের পিঠা, কুলি পিঠা, দুধ চিতই, ছিট রুটি এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন এ জেলার খাবারের পরিচিতি বাড়িয়েছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক মানিকগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।
মানিকগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার বা খাদ্যপণ্যের নাম বলতে গেলে প্রথমেই আসে হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার হাজারি গুড়ের কথা।
প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই গুড় খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয়। এর বিশেষত্ব হলো মিষ্টি স্বাদ, মন মাতানো ঘ্রাণ এবং দানাদার গুঁড়ো গঠন।
হাজারি গুড় সাধারণত শীতকালে তৈরি করা হয়। খেজুরের রস সংগ্রহ করে বিশেষ পদ্ধতিতে জ্বাল দিয়ে এই গুড় প্রস্তুত করা হয়।
এই গুড় দিয়ে পায়েস, পিঠা, ক্ষীর ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা যায়।
২০২৬ সালে ঝিটকার হাজারি গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি লাভ করে। ফলে মানিকগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী বাজারের নিজামের মিষ্টি বেশ পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন।
১৯৬৫ সাল থেকে এই মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য চলে আসছে। মো. নিজামুদ্দিনের হাত ধরে এর যাত্রা শুরু হয়।
ছানা দিয়ে তৈরি এই মিষ্টির ওপর মাওয়ার প্রলেপ দেওয়া হয়। ফলে এর স্বাদ ও গঠন অন্যান্য সাধারণ মিষ্টি থেকে আলাদা।
মানিকগঞ্জের বাইরে থেকেও অনেক মিষ্টিপ্রেমী এই মিষ্টির স্বাদ নিতে তেরশ্রী বাজারে আসেন।
মানিকগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ হলো দুধ চিতই পিঠা।
চালের গুঁড়া দিয়ে ছোট গোলাকার চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। এরপর গরম পিঠা ঘন দুধ ও খেজুরের গুড়ের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
দুধে ভিজে পিঠা নরম হয়ে যায় এবং গুড়ের মিষ্টি স্বাদ খাবারটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।
বিশেষ করে শীতকালে মানিকগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে এই পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে।
মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পিঠার মধ্যে কুলি পিঠা অন্যতম।
চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি খামিরের মধ্যে নারকেল ও খেজুরের গুড়ের পুর ভরে এই পিঠা তৈরি করা হয়।
এরপর পিঠাগুলো ভাপে সিদ্ধ করা হয়। অনেক সময় দুধের সঙ্গেও পরিবেশন করা হয়।
শীতকাল এবং বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে কুলি পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে।
মানিকগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে ছিট রুটি একটি পরিচিত খাবার।
চালের গুঁড়া ও পানি দিয়ে পাতলা মিশ্রণ তৈরি করে বিশেষ কৌশলে তাওয়ায় ছিটিয়ে এই রুটি তৈরি করা হয়।
ছিট রুটি সাধারণত গরুর মাংস, হাঁসের মাংস কিংবা বিভিন্ন ধরনের ভর্তার সঙ্গে খাওয়া হয়।
এর পাতলা ও নরম গঠন খাবারটিকে অন্য রুটি থেকে আলাদা করে।
মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পিঠার মধ্যে মাংস কুলি একটি আকর্ষণীয় খাবার।
চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি পিঠার ভেতরে মসলাযুক্ত মাংসের পুর ভরে এটি প্রস্তুত করা হয়।
পিঠাটি ভাপে সিদ্ধ করে পরিবেশন করা হয়। মিষ্টি পিঠার পাশাপাশি ঝাল স্বাদের এই পিঠা মানিকগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
মানিকগঞ্জের আরেকটি পরিচিত পিঠা হলো দুধকুলি।
চালের গুঁড়া দিয়ে ছোট ছোট পিঠা তৈরি করে ঘন দুধে রান্না করা হয়। এতে চিনি অথবা খেজুরের গুড় মেশানো হয়।
দুধের ঘনত্ব ও পিঠার নরম গঠন খাবারটিকে বেশ সুস্বাদু করে তোলে।
বিশেষ করে শীতকালে এই পিঠা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে পান্তোয়া, রসগোল্লা, রসমালাই, সন্দেশ, কালোজাম ও চমচম পাওয়া যায়।
এছাড়া জেলার ঘোষপাড়ার মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্যও বেশ পরিচিত।
দুধ, ছানা, চিনি ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি এসব মিষ্টি বিয়ে, ঈদ, পূজা এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়।
শীতকালে মানিকগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে ভাপা পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে।
চালের গুঁড়ার মধ্যে নারকেল কুচি ও খেজুরের গুড় দিয়ে ভাপে সিদ্ধ করে তৈরি করা হয় এই পিঠা।
ঝিটকার হাজারি গুড় ব্যবহার করে পিঠা তৈরি করলে এর স্বাদ ও সুগন্ধ আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।
শীতের সকালে গরম গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ আনন্দদায়ক।
পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদী এবং বিভিন্ন জলাশয়ের কারণে মানিকগঞ্জে দেশি মাছের ব্যবহার বেশ প্রচলিত।
ইলিশ, রুই, কাতলা, বোয়াল, টেংরা, শিং ও মাগুর মাছ দিয়ে নানা ধরনের রান্না তৈরি করা হয়।
মাছের ঝোল, ভুনা, ভর্তা এবং ইলিশের বিভিন্ন পদ স্থানীয় মানুষের খাবারের তালিকায় রয়েছে।
গরম ভাতের সঙ্গে দেশি মাছের ঝোল মানিকগঞ্জের গ্রামীণ খাবারের পরিচিত স্বাদ।
মানিকগঞ্জের গ্রামীণ নারীদের পিঠা তৈরির দক্ষতা বেশ পরিচিত।
পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, তালের পিঠা, তেল চিতই ও হাতেকাটা সেমাই পিঠা এখানকার পরিচিত পিঠার মধ্যে পড়ে।
পাটিসাপটা তৈরিতে চালের গুঁড়া, ময়দা, দুধ এবং নারকেল বা ক্ষীরের পুর ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে নকশি পিঠায় বিভিন্ন সুন্দর নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
মানিকগঞ্জের গ্রামীণ মেলা ও উৎসবে বিন্নি চালের খই এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্নের প্রচলন রয়েছে।
বিন্নি চাল দিয়ে তৈরি খইয়ের সঙ্গে গুড় বা চিনি মিশিয়ে খাওয়া যায়।
এছাড়া বাতাসা, সাজ-কদমা, খাজা ও হাওয়াই মিঠাই গ্রামীণ মেলার পরিচিত খাবার।
এসব খাবার মানিকগঞ্জের লোকজ খাদ্যসংস্কৃতির একটি অংশ।
মানিকগঞ্জের খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য, পিঠাপুলির বৈচিত্র্য এবং দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন।
বিশেষ করে ঝিটকার হাজারি গুড় ও ঘিওরের তেরশ্রীর নিজামের মিষ্টি মানিকগঞ্জের খাদ্যপরিচিতিকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
এছাড়া কুলি পিঠা, দুধ চিতই, দুধকুলি, ছিট রুটি ও মাংস কুলির মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার জেলার গ্রামীণ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
মানিকগঞ্জ শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদী ও কৃষির জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানকার খাবারের ঐতিহ্যও বেশ সমৃদ্ধ। ঝিটকার হাজারি গুড়, তেরশ্রীর নিজামের মিষ্টি, দুধ চিতই, কুলি পিঠা, দুধকুলি, ছিট রুটি, পাটিসাপটা এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই মানিকগঞ্জ ভ্রমণে গেলে হরিরামপুরের ঝিটকার হাজারি গুড় এবং ঘিওরের তেরশ্রীর নিজামের মিষ্টির স্বাদ নিতে ভুলবেন না। পাশাপাশি শীতকালে স্থানীয় বাড়িতে তৈরি বিভিন্ন পিঠাপুলি খাওয়ার সুযোগ পেলে আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন