বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শুধু ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিক নগরজীবনের জন্যই বিখ্যাত নয়, খাবারের বৈচিত্র্যের জন্যও সারা দেশে পরিচিত। বিশেষ করে পুরান ঢাকার খাবারের ঐতিহ্য কয়েকশ বছরের পুরোনো। মুঘল আমলের রান্নার প্রভাব, নবাবি খাবার এবং স্থানীয় রন্ধনশৈলীর সমন্বয়ে ঢাকার নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
ঢাকার বিখ্যাত খাবারের কথা উঠলে প্রথমেই আসে কাচ্চি বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানি, বাকরখানি, নান্নার মোরগ পোলাও, তেহারি, নেহারি, বোরহানি ও চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারের নাম।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ঢাকা জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় খাবার সম্পর্কে।
ঢাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে হাজীর বিরিয়ানি অন্যতম। বিশেষ করে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারের হাজী বিরিয়ানি দেশজুড়ে পরিচিত।
১৯৩৯ সালে হাজী মোহাম্মদ হোসেন এই বিরিয়ানির ব্যবসা শুরু করেন। খাসির মাংস, সুগন্ধি চাল, বিশেষ মসলা এবং সরিষার তেলের ব্যবহারে তৈরি হয় এই বিরিয়ানি।
এর স্বাদ ও রান্নার বিশেষ পদ্ধতি অন্যান্য বিরিয়ানি থেকে কিছুটা আলাদা। পুরান ঢাকায় গেলে হাজীর বিরিয়ানি না খেয়ে ফিরে আসতে চান না অনেক ভোজনরসিক।
ঢাকার খাবারের তালিকায় কাচ্চি বিরিয়ানির বিশেষ স্থান রয়েছে।
বাসমতি বা সুগন্ধি চাল, মেরিনেট করা খাসির মাংস, আলু, ঘি এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় কাচ্চি বিরিয়ানি।
বিশেষ পদ্ধতিতে হাঁড়িতে দম দিয়ে রান্না করার কারণে এর স্বাদ ও ঘ্রাণ বেশ আকর্ষণীয় হয়।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানির দোকানে কাচ্চি বিরিয়ানি পাওয়া যায়।
ঢাকার সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর মধ্যে বাকরখানি অন্যতম।
ময়দা, ঘি, দুধ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় এই মচমচে রুটিজাতীয় খাবার।
বাকরখানি সাধারণত চায়ের সঙ্গে খাওয়া হয়। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যেমন মিষ্টি বাকরখানি, নোনতা বাকরখানি, খাস্তা বাকরখানি ও নারকেল বাকরখানি।
পুরান ঢাকার চকবাজার, নাজিরাবাজার, লালবাগ ও নাজিমুদ্দিন রোড এলাকায় বাকরখানির পুরোনো দোকান রয়েছে।
পুরান ঢাকার খাবারের মধ্যে হাজী নান্না বিরিয়ানির মোরগ পোলাও বিশেষভাবে পরিচিত।
মুরগির মাংস, সুগন্ধি চাল, ঘি, দুধ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার।
এর বিশেষ রান্নার পদ্ধতি ও মসলার সমন্বয় খাবারটিকে আলাদা স্বাদ দিয়েছে।
বিশেষ করে বেচারাম দেউড়ির নান্নার মোরগ পোলাও খাবারপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকায় তেহারি অন্যতম।
সুগন্ধি চাল, গরু বা খাসির মাংস, সরিষার তেল এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় তেহারি।
তেহারির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মসলাদার স্বাদ ও মন মাতানো ঘ্রাণ।
পুরান ঢাকার রয়্যাল রেস্টুরেন্ট, হাজীর বিরিয়ানি এবং বিভিন্ন পুরোনো খাবারের দোকানে তেহারি পাওয়া যায়।
ঢাকার পুরোনো খাবারের ঐতিহ্যে নেহারি একটি জনপ্রিয় পদ।
গরু বা খাসির পায়া এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করা হয় নেহারি।
এর ঘন ঝোল, মসলার স্বাদ ও বিশেষ সুগন্ধ খাবারটিকে অন্য মাংসের তরকারি থেকে আলাদা করেছে।
সাধারণত সকালে নান, রুটি কিংবা পরোটার সঙ্গে নেহারি পরিবেশন করা হয়।
রমজান মাসে পুরান ঢাকার চকবাজারে বসে দেশের অন্যতম বিখ্যাত ইফতারের বাজার।
এখানে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বাহারি ইফতার সামগ্রী পাওয়া যায়।
চকবাজারের পরিচিত ইফতার আইটেমগুলোর মধ্যে রয়েছে:
রমজান মাসে চকবাজারের ইফতার বাজার দেখতে ও খাবারের স্বাদ নিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসেন।
বিরিয়ানি ও কাচ্চির সঙ্গে বোরহানি ঢাকার একটি জনপ্রিয় পানীয়।
টক দই, পুদিনাপাতা, ধনেপাতা, বিট লবণ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় বোরহানি।
এর টক-মসলাদার স্বাদ ভারী খাবারের পর বেশ ভালো লাগে।
বিয়ে, অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে ঢাকায় বিরিয়ানির সঙ্গে বোরহানি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে মোরগ পোলাও অন্যতম।
মুরগির মাংস, পোলাওয়ের চাল, ঘি, দুধ, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার।
বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন পুরোনো রেস্তোরাঁয় মোরগ পোলাও পাওয়া যায়।
গরম গরম মোরগ পোলাওয়ের সঙ্গে সালাদ ও বোরহানি পরিবেশন করা হয়।
ঢাকার খাবারের ঐতিহ্যে কাবাবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার, চকবাজার ও বংশাল এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কাবাব পাওয়া যায়।
জনপ্রিয় কাবাবের মধ্যে রয়েছে:
গরু, খাসি ও মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি এসব কাবাবের সঙ্গে পরোটা, নান কিংবা রুটি খেতে বেশ ভালো লাগে।
ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হলো হালিম।
গম, ডাল, গরু বা খাসির মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করা হয় এই খাবার।
ঘন ও মসলাদার হালিমের ওপর পেঁয়াজ বেরেস্তা, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ ও লেবু দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
বিশেষ করে রমজান মাসে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হালিমের চাহিদা বেড়ে যায়।
পুরান ঢাকার মিষ্টান্ন ও ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে ফালুদা বেশ পরিচিত।
দুধ, আইসক্রিম, সেমাই, সাবুদানা, বিভিন্ন ফল ও মিষ্টি সিরাপ দিয়ে তৈরি করা হয় ফালুদা।
গরমের দিনে ঠান্ডা ফালুদা খেতে বেশ ভালো লাগে।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁয় ফালুদা পাওয়া যায়।
ঢাকার বিভিন্ন পুরোনো মিষ্টির দোকানে রসগোল্লা, কালোজাম, চমচম, সন্দেশ, রসমালাই ও মিষ্টি দই পাওয়া যায়।
দুধ, ছানা, চিনি ও ক্ষীর দিয়ে তৈরি এসব মিষ্টি বাঙালির খাবারের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে বিয়ে, ঈদ, পূজা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মিষ্টি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে।
পুরান ঢাকার সকালের নাশতার মধ্যে লুচি ও ভাজি বেশ পরিচিত।
ময়দা দিয়ে তৈরি লুচি তেলে ভেজে মচমচে করা হয়। এর সঙ্গে আলুর ভাজি, ডাল কিংবা বিভিন্ন সবজির তরকারি পরিবেশন করা হয়।
লুচি ও ভাজির সঙ্গে চা খাওয়ার প্রচলনও রয়েছে।
পুরান ঢাকার খাবারের আরেকটি জনপ্রিয় পদ হলো চাপ।
গরু বা খাসির মাংস বিশেষ মসলা দিয়ে মেরিনেট করে ভেজে বা রান্না করে তৈরি করা হয় চাপ।
গরম পরোটা, নান বা রুটির সঙ্গে চাপ পরিবেশন করা হয়।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পুরান ঢাকার বিভিন্ন খাবারের দোকানে চাপ ও পরোটার বেশ চাহিদা থাকে।
ঢাকার খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুঘল আমলের রান্নার প্রভাব, নবাবি খাবারের ঐতিহ্য এবং স্থানীয় রন্ধনশৈলীর সমন্বয়।
বিশেষ করে পুরান ঢাকার খাবারগুলো স্বাদ, ঘ্রাণ ও রান্নার পদ্ধতির কারণে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
কাচ্চি বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানি, বাকরখানি, নান্নার মোরগ পোলাও, তেহারি, নেহারি, কাবাব ও চকবাজারের ইফতার ঢাকার খাদ্যসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
ঢাকা শুধু বাংলাদেশের রাজধানী নয়, এটি দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতির কেন্দ্র। পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি, কাচ্চি বিরিয়ানি, বাকরখানি, নান্নার মোরগ পোলাও, তেহারি, নেহারি, বোরহানি, কাবাব ও চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতার এ শহরের খাবারের পরিচিতি বহন করে।
তাই ঢাকা ভ্রমণে গেলে পুরান ঢাকার অলিগলি ঘুরে এসব ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। বিশেষ করে এক প্লেট বিরিয়ানি, সঙ্গে বোরহানি এবং বিকেলে এক কাপ চায়ের সঙ্গে বাকরখানি আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তুলবে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শুধু ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিক নগরজীবনের জন্যই বিখ্যাত নয়, খাবারের বৈচিত্র্যের জন্যও সারা দেশে পরিচিত। বিশেষ করে পুরান ঢাকার খাবারের ঐতিহ্য কয়েকশ বছরের পুরোনো। মুঘল আমলের রান্নার প্রভাব, নবাবি খাবার এবং স্থানীয় রন্ধনশৈলীর সমন্বয়ে ঢাকার নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
ঢাকার বিখ্যাত খাবারের কথা উঠলে প্রথমেই আসে কাচ্চি বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানি, বাকরখানি, নান্নার মোরগ পোলাও, তেহারি, নেহারি, বোরহানি ও চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারের নাম।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ঢাকা জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় খাবার সম্পর্কে।
ঢাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে হাজীর বিরিয়ানি অন্যতম। বিশেষ করে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারের হাজী বিরিয়ানি দেশজুড়ে পরিচিত।
১৯৩৯ সালে হাজী মোহাম্মদ হোসেন এই বিরিয়ানির ব্যবসা শুরু করেন। খাসির মাংস, সুগন্ধি চাল, বিশেষ মসলা এবং সরিষার তেলের ব্যবহারে তৈরি হয় এই বিরিয়ানি।
এর স্বাদ ও রান্নার বিশেষ পদ্ধতি অন্যান্য বিরিয়ানি থেকে কিছুটা আলাদা। পুরান ঢাকায় গেলে হাজীর বিরিয়ানি না খেয়ে ফিরে আসতে চান না অনেক ভোজনরসিক।
ঢাকার খাবারের তালিকায় কাচ্চি বিরিয়ানির বিশেষ স্থান রয়েছে।
বাসমতি বা সুগন্ধি চাল, মেরিনেট করা খাসির মাংস, আলু, ঘি এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় কাচ্চি বিরিয়ানি।
বিশেষ পদ্ধতিতে হাঁড়িতে দম দিয়ে রান্না করার কারণে এর স্বাদ ও ঘ্রাণ বেশ আকর্ষণীয় হয়।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানির দোকানে কাচ্চি বিরিয়ানি পাওয়া যায়।
ঢাকার সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর মধ্যে বাকরখানি অন্যতম।
ময়দা, ঘি, দুধ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় এই মচমচে রুটিজাতীয় খাবার।
বাকরখানি সাধারণত চায়ের সঙ্গে খাওয়া হয়। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যেমন মিষ্টি বাকরখানি, নোনতা বাকরখানি, খাস্তা বাকরখানি ও নারকেল বাকরখানি।
পুরান ঢাকার চকবাজার, নাজিরাবাজার, লালবাগ ও নাজিমুদ্দিন রোড এলাকায় বাকরখানির পুরোনো দোকান রয়েছে।
পুরান ঢাকার খাবারের মধ্যে হাজী নান্না বিরিয়ানির মোরগ পোলাও বিশেষভাবে পরিচিত।
মুরগির মাংস, সুগন্ধি চাল, ঘি, দুধ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার।
এর বিশেষ রান্নার পদ্ধতি ও মসলার সমন্বয় খাবারটিকে আলাদা স্বাদ দিয়েছে।
বিশেষ করে বেচারাম দেউড়ির নান্নার মোরগ পোলাও খাবারপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকায় তেহারি অন্যতম।
সুগন্ধি চাল, গরু বা খাসির মাংস, সরিষার তেল এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় তেহারি।
তেহারির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মসলাদার স্বাদ ও মন মাতানো ঘ্রাণ।
পুরান ঢাকার রয়্যাল রেস্টুরেন্ট, হাজীর বিরিয়ানি এবং বিভিন্ন পুরোনো খাবারের দোকানে তেহারি পাওয়া যায়।
ঢাকার পুরোনো খাবারের ঐতিহ্যে নেহারি একটি জনপ্রিয় পদ।
গরু বা খাসির পায়া এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করা হয় নেহারি।
এর ঘন ঝোল, মসলার স্বাদ ও বিশেষ সুগন্ধ খাবারটিকে অন্য মাংসের তরকারি থেকে আলাদা করেছে।
সাধারণত সকালে নান, রুটি কিংবা পরোটার সঙ্গে নেহারি পরিবেশন করা হয়।
রমজান মাসে পুরান ঢাকার চকবাজারে বসে দেশের অন্যতম বিখ্যাত ইফতারের বাজার।
এখানে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বাহারি ইফতার সামগ্রী পাওয়া যায়।
চকবাজারের পরিচিত ইফতার আইটেমগুলোর মধ্যে রয়েছে:
রমজান মাসে চকবাজারের ইফতার বাজার দেখতে ও খাবারের স্বাদ নিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসেন।
বিরিয়ানি ও কাচ্চির সঙ্গে বোরহানি ঢাকার একটি জনপ্রিয় পানীয়।
টক দই, পুদিনাপাতা, ধনেপাতা, বিট লবণ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় বোরহানি।
এর টক-মসলাদার স্বাদ ভারী খাবারের পর বেশ ভালো লাগে।
বিয়ে, অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে ঢাকায় বিরিয়ানির সঙ্গে বোরহানি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে মোরগ পোলাও অন্যতম।
মুরগির মাংস, পোলাওয়ের চাল, ঘি, দুধ, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার।
বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন পুরোনো রেস্তোরাঁয় মোরগ পোলাও পাওয়া যায়।
গরম গরম মোরগ পোলাওয়ের সঙ্গে সালাদ ও বোরহানি পরিবেশন করা হয়।
ঢাকার খাবারের ঐতিহ্যে কাবাবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার, চকবাজার ও বংশাল এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কাবাব পাওয়া যায়।
জনপ্রিয় কাবাবের মধ্যে রয়েছে:
গরু, খাসি ও মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি এসব কাবাবের সঙ্গে পরোটা, নান কিংবা রুটি খেতে বেশ ভালো লাগে।
ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হলো হালিম।
গম, ডাল, গরু বা খাসির মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করা হয় এই খাবার।
ঘন ও মসলাদার হালিমের ওপর পেঁয়াজ বেরেস্তা, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ ও লেবু দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
বিশেষ করে রমজান মাসে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হালিমের চাহিদা বেড়ে যায়।
পুরান ঢাকার মিষ্টান্ন ও ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে ফালুদা বেশ পরিচিত।
দুধ, আইসক্রিম, সেমাই, সাবুদানা, বিভিন্ন ফল ও মিষ্টি সিরাপ দিয়ে তৈরি করা হয় ফালুদা।
গরমের দিনে ঠান্ডা ফালুদা খেতে বেশ ভালো লাগে।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁয় ফালুদা পাওয়া যায়।
ঢাকার বিভিন্ন পুরোনো মিষ্টির দোকানে রসগোল্লা, কালোজাম, চমচম, সন্দেশ, রসমালাই ও মিষ্টি দই পাওয়া যায়।
দুধ, ছানা, চিনি ও ক্ষীর দিয়ে তৈরি এসব মিষ্টি বাঙালির খাবারের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে বিয়ে, ঈদ, পূজা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মিষ্টি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে।
পুরান ঢাকার সকালের নাশতার মধ্যে লুচি ও ভাজি বেশ পরিচিত।
ময়দা দিয়ে তৈরি লুচি তেলে ভেজে মচমচে করা হয়। এর সঙ্গে আলুর ভাজি, ডাল কিংবা বিভিন্ন সবজির তরকারি পরিবেশন করা হয়।
লুচি ও ভাজির সঙ্গে চা খাওয়ার প্রচলনও রয়েছে।
পুরান ঢাকার খাবারের আরেকটি জনপ্রিয় পদ হলো চাপ।
গরু বা খাসির মাংস বিশেষ মসলা দিয়ে মেরিনেট করে ভেজে বা রান্না করে তৈরি করা হয় চাপ।
গরম পরোটা, নান বা রুটির সঙ্গে চাপ পরিবেশন করা হয়।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পুরান ঢাকার বিভিন্ন খাবারের দোকানে চাপ ও পরোটার বেশ চাহিদা থাকে।
ঢাকার খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুঘল আমলের রান্নার প্রভাব, নবাবি খাবারের ঐতিহ্য এবং স্থানীয় রন্ধনশৈলীর সমন্বয়।
বিশেষ করে পুরান ঢাকার খাবারগুলো স্বাদ, ঘ্রাণ ও রান্নার পদ্ধতির কারণে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
কাচ্চি বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানি, বাকরখানি, নান্নার মোরগ পোলাও, তেহারি, নেহারি, কাবাব ও চকবাজারের ইফতার ঢাকার খাদ্যসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
ঢাকা শুধু বাংলাদেশের রাজধানী নয়, এটি দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতির কেন্দ্র। পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি, কাচ্চি বিরিয়ানি, বাকরখানি, নান্নার মোরগ পোলাও, তেহারি, নেহারি, বোরহানি, কাবাব ও চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতার এ শহরের খাবারের পরিচিতি বহন করে।
তাই ঢাকা ভ্রমণে গেলে পুরান ঢাকার অলিগলি ঘুরে এসব ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। বিশেষ করে এক প্লেট বিরিয়ানি, সঙ্গে বোরহানি এবং বিকেলে এক কাপ চায়ের সঙ্গে বাকরখানি আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তুলবে।

আপনার মতামত লিখুন