বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জেলা সুনামগঞ্জ। হাওর, নদী, পাহাড়, বিল ও সবুজ প্রকৃতির জন্য জেলাটি দেশজুড়ে পরিচিত। বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওর, শনির হাওর, যাদুকাটা নদী এবং নীলাদ্রি লেক সুনামগঞ্জকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে সুনামগঞ্জের পরিচিতি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার রয়েছে নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের বৈচিত্র্য। হাওরের তাজা মাছ, শুঁটকি, হাঁসের মাংস, আথনী পোলাও, বিন্নি চাল এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি এ জেলার খাবারের অন্যতম আকর্ষণ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক সুনামগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।
সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় খাদ্যসম্পদ হলো হাওরের মাছ। জেলার বিভিন্ন হাওর ও জলাশয়ে নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়।
টেংরা, পুঁটি, শিং, মাগুর, কৈ, বোয়াল, আইড়, রুই ও কাতলা মাছ এখানকার মানুষের খাবারের তালিকায় বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
এসব মাছ দিয়ে তৈরি করা হয় মাছের ঝোল, ভুনা, চচ্চড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। সরিষা, কাঁচামরিচ ও দেশি মসলায় রান্না করা হাওরের মাছের স্বাদ অনেকের কাছেই বিশেষ আকর্ষণীয়।
বিশেষ করে বর্ষাকালে হাওরের তাজা মাছ খাওয়ার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বেশ উপভোগ্য।
সুনামগঞ্জের অন্যতম পরিচিত খাবার হলো হাওরের মাছ দিয়ে তৈরি শুঁটকি। শীত মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের ছোট ও বড় মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়।
পুঁটি, টেংরা, বাইম, শোল ও গজার মাছের শুঁটকি এ অঞ্চলে পরিচিত।
শুঁটকি দিয়ে ভুনা, তরকারি ও ভর্তা তৈরি করা হয়। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে তৈরি শুঁটকি ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের শুঁটকি স্থানীয় অর্থনীতি ও খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সুনামগঞ্জের স্থানীয় খাবারের মধ্যে আথনী পোলাও একটি পরিচিত নাম।
বিশেষ ধরনের চাল, ঘি, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে এই পোলাও রান্না করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মাংসের সঙ্গেও এটি পরিবেশন করা হয়।
বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব এবং অতিথি আপ্যায়নে এ ধরনের বিশেষ পোলাও রান্নার প্রচলন রয়েছে।
এর সুগন্ধ ও মসলার স্বাদ খাবারটিকে সাধারণ পোলাও থেকে আলাদা করে তোলে।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে হাঁস পালন বেশ প্রচলিত। তাই এখানকার মানুষের খাবারের তালিকায় হাঁসের মাংসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
দেশি হাঁসের মাংস পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয়।
হাঁসের মাংসের ঝোল, ভুনা এবং হাঁসের মাংস দিয়ে খিচুড়ি এখানকার পরিচিত খাবারের মধ্যে পড়ে।
বিশেষ করে শীতকালে গরম ভাত কিংবা খিচুড়ির সঙ্গে হাঁসের মাংস খেতে বেশ ভালো লাগে।
সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতে বিন্নি চালের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিন্নি চাল এক ধরনের আঠালো চাল। এটি সাধারণ চালের তুলনায় কিছুটা আলাদা স্বাদের এবং রান্নার পর বেশ নরম ও আঠালো হয়।
এই চাল দিয়ে ভাত, পিঠা এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার তৈরি করা হয়। স্থানীয়ভাবে বিন্নি চালের ভাত মাছ, শুঁটকি ও বিভিন্ন ভর্তার সঙ্গে খাওয়া হয়।
হাওরাঞ্চলের মানুষের খাবারের তালিকায় মাছের টক ঝোল একটি পরিচিত পদ।
বিভিন্ন দেশি মাছের সঙ্গে তেঁতুল, কাঁচামরিচ ও অন্যান্য মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার।
টক ও ঝাল স্বাদের এই মাছের তরকারি গরম ভাতের সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।
সাতকরা বা হাতকরা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের একটি পরিচিত লেবুজাতীয় ফল। সুনামগঞ্জেও এই ফল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রান্না করা হয়।
গরু বা খাসির মাংসের সঙ্গে সাতকরা, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয় সুস্বাদু তরকারি।
সাতকরার টক স্বাদ ও বিশেষ ঘ্রাণ মাংসের রান্নায় আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করে।
সুনামগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে শীতকালীন পিঠার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, চাপটি পিঠা, হাত পিঠা ও পাটিসাপটা এখানকার পরিচিত পিঠার মধ্যে পড়ে।
চালের গুঁড়া, নারকেল ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি এসব পিঠা শীতের মৌসুমে মানুষের খাবারের তালিকায় বিশেষ জায়গা দখল করে।
সুনামগঞ্জের গ্রামীণ এলাকায় চিড়া, মুড়ি ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি নাশতার প্রচলন রয়েছে।
সকালে কিংবা বিকেলে চিড়া বা মুড়ির সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খাওয়া হয়। অনেক সময় এর সঙ্গে নারকেল ও কলাও যোগ করা হয়।
সহজলভ্য উপকরণে তৈরি এই খাবার গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নাশতার একটি পরিচিত অংশ।
সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে আনারস, কমলা ও লেবুর মতো ফল উৎপাদিত হয়।
বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আনারস ও কমলা মৌসুমি ফল হিসেবে বেশ পরিচিত।
এসব ফল সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি জুস ও বিভিন্ন ধরনের পানীয় তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।
সুনামগঞ্জের খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো হাওরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা ও স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার।
হাওরের তাজা মাছ, শুঁটকি, হাঁসের মাংস, বিন্নি চাল এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এখানকার খাবারে বৈচিত্র্য এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে আথনী পোলাও, মাছের টক ঝোল এবং শীতকালীন পিঠাপুলি সুনামগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সুনামগঞ্জ শুধু টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানকার খাবারের ঐতিহ্যও বেশ সমৃদ্ধ। হাওরের দেশি মাছ, শুঁটকি, হাঁসের মাংস, আথনী পোলাও, বিন্নি চাল এবং শীতের পিঠাপুলি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই সুনামগঞ্জ ভ্রমণে গেলে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তুলবে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জেলা সুনামগঞ্জ। হাওর, নদী, পাহাড়, বিল ও সবুজ প্রকৃতির জন্য জেলাটি দেশজুড়ে পরিচিত। বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওর, শনির হাওর, যাদুকাটা নদী এবং নীলাদ্রি লেক সুনামগঞ্জকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে সুনামগঞ্জের পরিচিতি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার রয়েছে নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের বৈচিত্র্য। হাওরের তাজা মাছ, শুঁটকি, হাঁসের মাংস, আথনী পোলাও, বিন্নি চাল এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি এ জেলার খাবারের অন্যতম আকর্ষণ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক সুনামগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।
সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় খাদ্যসম্পদ হলো হাওরের মাছ। জেলার বিভিন্ন হাওর ও জলাশয়ে নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়।
টেংরা, পুঁটি, শিং, মাগুর, কৈ, বোয়াল, আইড়, রুই ও কাতলা মাছ এখানকার মানুষের খাবারের তালিকায় বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
এসব মাছ দিয়ে তৈরি করা হয় মাছের ঝোল, ভুনা, চচ্চড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। সরিষা, কাঁচামরিচ ও দেশি মসলায় রান্না করা হাওরের মাছের স্বাদ অনেকের কাছেই বিশেষ আকর্ষণীয়।
বিশেষ করে বর্ষাকালে হাওরের তাজা মাছ খাওয়ার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বেশ উপভোগ্য।
সুনামগঞ্জের অন্যতম পরিচিত খাবার হলো হাওরের মাছ দিয়ে তৈরি শুঁটকি। শীত মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের ছোট ও বড় মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়।
পুঁটি, টেংরা, বাইম, শোল ও গজার মাছের শুঁটকি এ অঞ্চলে পরিচিত।
শুঁটকি দিয়ে ভুনা, তরকারি ও ভর্তা তৈরি করা হয়। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে তৈরি শুঁটকি ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের শুঁটকি স্থানীয় অর্থনীতি ও খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সুনামগঞ্জের স্থানীয় খাবারের মধ্যে আথনী পোলাও একটি পরিচিত নাম।
বিশেষ ধরনের চাল, ঘি, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে এই পোলাও রান্না করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মাংসের সঙ্গেও এটি পরিবেশন করা হয়।
বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব এবং অতিথি আপ্যায়নে এ ধরনের বিশেষ পোলাও রান্নার প্রচলন রয়েছে।
এর সুগন্ধ ও মসলার স্বাদ খাবারটিকে সাধারণ পোলাও থেকে আলাদা করে তোলে।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে হাঁস পালন বেশ প্রচলিত। তাই এখানকার মানুষের খাবারের তালিকায় হাঁসের মাংসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
দেশি হাঁসের মাংস পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয়।
হাঁসের মাংসের ঝোল, ভুনা এবং হাঁসের মাংস দিয়ে খিচুড়ি এখানকার পরিচিত খাবারের মধ্যে পড়ে।
বিশেষ করে শীতকালে গরম ভাত কিংবা খিচুড়ির সঙ্গে হাঁসের মাংস খেতে বেশ ভালো লাগে।
সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতে বিন্নি চালের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিন্নি চাল এক ধরনের আঠালো চাল। এটি সাধারণ চালের তুলনায় কিছুটা আলাদা স্বাদের এবং রান্নার পর বেশ নরম ও আঠালো হয়।
এই চাল দিয়ে ভাত, পিঠা এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার তৈরি করা হয়। স্থানীয়ভাবে বিন্নি চালের ভাত মাছ, শুঁটকি ও বিভিন্ন ভর্তার সঙ্গে খাওয়া হয়।
হাওরাঞ্চলের মানুষের খাবারের তালিকায় মাছের টক ঝোল একটি পরিচিত পদ।
বিভিন্ন দেশি মাছের সঙ্গে তেঁতুল, কাঁচামরিচ ও অন্যান্য মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার।
টক ও ঝাল স্বাদের এই মাছের তরকারি গরম ভাতের সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।
সাতকরা বা হাতকরা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের একটি পরিচিত লেবুজাতীয় ফল। সুনামগঞ্জেও এই ফল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রান্না করা হয়।
গরু বা খাসির মাংসের সঙ্গে সাতকরা, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা হয় সুস্বাদু তরকারি।
সাতকরার টক স্বাদ ও বিশেষ ঘ্রাণ মাংসের রান্নায় আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করে।
সুনামগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে শীতকালীন পিঠার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, চাপটি পিঠা, হাত পিঠা ও পাটিসাপটা এখানকার পরিচিত পিঠার মধ্যে পড়ে।
চালের গুঁড়া, নারকেল ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি এসব পিঠা শীতের মৌসুমে মানুষের খাবারের তালিকায় বিশেষ জায়গা দখল করে।
সুনামগঞ্জের গ্রামীণ এলাকায় চিড়া, মুড়ি ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি নাশতার প্রচলন রয়েছে।
সকালে কিংবা বিকেলে চিড়া বা মুড়ির সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খাওয়া হয়। অনেক সময় এর সঙ্গে নারকেল ও কলাও যোগ করা হয়।
সহজলভ্য উপকরণে তৈরি এই খাবার গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নাশতার একটি পরিচিত অংশ।
সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে আনারস, কমলা ও লেবুর মতো ফল উৎপাদিত হয়।
বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আনারস ও কমলা মৌসুমি ফল হিসেবে বেশ পরিচিত।
এসব ফল সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি জুস ও বিভিন্ন ধরনের পানীয় তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।
সুনামগঞ্জের খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো হাওরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা ও স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার।
হাওরের তাজা মাছ, শুঁটকি, হাঁসের মাংস, বিন্নি চাল এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এখানকার খাবারে বৈচিত্র্য এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে আথনী পোলাও, মাছের টক ঝোল এবং শীতকালীন পিঠাপুলি সুনামগঞ্জের গ্রামীণ খাদ্যঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সুনামগঞ্জ শুধু টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানকার খাবারের ঐতিহ্যও বেশ সমৃদ্ধ। হাওরের দেশি মাছ, শুঁটকি, হাঁসের মাংস, আথনী পোলাও, বিন্নি চাল এবং শীতের পিঠাপুলি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই সুনামগঞ্জ ভ্রমণে গেলে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তুলবে।

আপনার মতামত লিখুন