মুন টাইমস নিউজ

বিখ্যাত খাবার

সাবিত্রী মিষ্টি থেকে রসকদম্ব, স্বাদে ও ঐতিহ্যে অনন্য

মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত খাবার

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত খাবার

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক একটি জেলা হলো মেহেরপুর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এ জেলার নাম। ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি মেহেরপুর পরিচিত তার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সুস্বাদু মিষ্টান্নের জন্য।

বিশেষ করে মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি ও রসকদম্ব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপরিচিত। এছাড়া খেজুরের গুড়, হিমসাগর আম, মেহেরসাগর কলা, পান এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পায়েস এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।

১. মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি

মেহেরপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত খাবারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে সাবিত্রী মিষ্টির নাম। এটি প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। দেখতে অনেকটা চমচমের মতো হলেও এর আকার লম্বা ও চ্যাপ্টা। দুধ ও চিনি দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এই মিষ্টি।

জানা যায়, ১৮৬১ সালে মেহেরপুর শহরের বড়বাজার এলাকায় বাসুদেব সাহা এই মিষ্টি তৈরি ও বিক্রি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বংশপরম্পরায় এই মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য ধরে রাখা হয়েছে।

বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অতিথি আপ্যায়নে সাবিত্রী মিষ্টির বিশেষ কদর রয়েছে। মেহেরপুরে বেড়াতে গেলে এই মিষ্টির স্বাদ নেওয়া অনেকের কাছেই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

২. মেহেরপুরের রসকদম্ব

মেহেরপুরের আরেকটি বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি হলো রসকদম্ব বা রসকদম। এটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমন সুস্বাদু।

ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টির ভেতরে থাকে রসালো মিষ্টির অংশ এবং বাইরে থাকে ক্ষীরের আবরণ। অনেক ক্ষেত্রে এর বাইরের অংশে ছোট ছোট দানা ব্যবহার করা হয়, যা দেখতে কদম ফুলের মতো লাগে।

সাবিত্রী মিষ্টির পাশাপাশি রসকদম্বও মেহেরপুরের পরিচিতি বহন করে। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, বিয়ে কিংবা বিভিন্ন উৎসবে এই মিষ্টি পরিবেশন করা হয়।

৩. মেহেরপুরের খেজুরের গুড় ও পাটালি

শীতকালে মেহেরপুরের গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রচলন রয়েছে। খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জ্বাল দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় সুস্বাদু খেজুরের গুড় ও পাটালি।

এই গুড় দিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশেষ করে শীতের সকালে গরম ভাপা পিঠার সঙ্গে খেজুরের গুড় খাওয়ার স্বাদ অসাধারণ।

মেহেরপুরের খেজুরের গুড় স্থানীয় মানুষের কাছে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি জেলার বাইরেও এর চাহিদা রয়েছে।

৪. মেহেরপুরের হিমসাগর আম

মেহেরপুরের পরিচিত ফলের মধ্যে হিমসাগর আম অন্যতম। গ্রীষ্মকালে এই আমের মৌসুম এলে বাজারে দেখা যায় ব্যাপক আমের সমারোহ।

হিমসাগর আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর মিষ্টি স্বাদ, মনোরম ঘ্রাণ এবং আঁশহীন শাঁস। পাকা হিমসাগর আম খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।

এছাড়া মেহেরপুরে ল্যাংড়া, ফজলি ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায়। এসব আম জেলার ফলের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

৫. মেহেরসাগর কলা

মেহেরপুরের আরেকটি পরিচিত কৃষিপণ্য হলো মেহেরসাগর কলা। এই কলা স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয় এবং স্বাদ ও গুণের জন্য পরিচিত।

পাকা মেহেরসাগর কলা সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও খাবার তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় কৃষি ও ফলের ঐতিহ্যের সঙ্গে এই কলার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

৬. মেহেরপুরের পান

মেহেরপুরে পান চাষের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পান চাষ করা হয় এবং স্থানীয় বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে।

পান বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি পরিচিত অংশ। খাবারের পর পান খাওয়ার প্রচলন বহুদিনের। মেহেরপুরের পানও এ অঞ্চলের কৃষি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।

৭. দুধের পায়েস ও মিষ্টান্ন

মেহেরপুরের খাদ্যসংস্কৃতিতে দুধের তৈরি খাবারেরও বিশেষ স্থান রয়েছে। দুধ, চাল, চিনি কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস গ্রামবাংলার একটি জনপ্রিয় মিষ্টান্ন।

বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান, জন্মদিন, বিয়ে ও ধর্মীয় উৎসবে পায়েস পরিবেশন করা হয়। বিশেষ করে শীতকালে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েসের স্বাদ অতুলনীয়।

৮. গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা

মেহেরপুরের গ্রামাঞ্চলে শীতকাল এলেই বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির আয়োজন দেখা যায়। খেজুরের গুড়, চালের গুঁড়া, নারকেল ও দুধ ব্যবহার করে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পিঠা।

এ অঞ্চলে প্রচলিত জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে রয়েছে:

  • ভাপা পিঠা
  • চিতই পিঠা
  • পাটিসাপটা
  • দুধ পুলি
  • তেলের পিঠা
  • নারকেলের পুলি

এসব পিঠা শুধু খাবার নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ।

মেহেরপুরের খাবারের বিশেষত্ব

মেহেরপুরের খাবারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো স্থানীয় কৃষি, দুধ উৎপাদন, মৌসুমি ফল এবং মিষ্টান্ন তৈরির দীর্ঘ ঐতিহ্য। সাবিত্রী ও রসকদম্বের মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এ জেলাকে দেশের মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে।

অন্যদিকে খেজুরের গুড়, হিমসাগর আম, মেহেরসাগর কলা ও পান মেহেরপুরের কৃষিভিত্তিক খাদ্যসংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরে।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত খাবার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক একটি জেলা হলো মেহেরপুর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এ জেলার নাম। ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি মেহেরপুর পরিচিত তার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সুস্বাদু মিষ্টান্নের জন্য।

বিশেষ করে মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি ও রসকদম্ব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপরিচিত। এছাড়া খেজুরের গুড়, হিমসাগর আম, মেহেরসাগর কলা, পান এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পায়েস এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক মেহেরপুর জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।

১. মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি

মেহেরপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত খাবারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে সাবিত্রী মিষ্টির নাম। এটি প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। দেখতে অনেকটা চমচমের মতো হলেও এর আকার লম্বা ও চ্যাপ্টা। দুধ ও চিনি দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এই মিষ্টি।

জানা যায়, ১৮৬১ সালে মেহেরপুর শহরের বড়বাজার এলাকায় বাসুদেব সাহা এই মিষ্টি তৈরি ও বিক্রি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বংশপরম্পরায় এই মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য ধরে রাখা হয়েছে।

বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অতিথি আপ্যায়নে সাবিত্রী মিষ্টির বিশেষ কদর রয়েছে। মেহেরপুরে বেড়াতে গেলে এই মিষ্টির স্বাদ নেওয়া অনেকের কাছেই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

২. মেহেরপুরের রসকদম্ব

মেহেরপুরের আরেকটি বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি হলো রসকদম্ব বা রসকদম। এটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমন সুস্বাদু।

ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টির ভেতরে থাকে রসালো মিষ্টির অংশ এবং বাইরে থাকে ক্ষীরের আবরণ। অনেক ক্ষেত্রে এর বাইরের অংশে ছোট ছোট দানা ব্যবহার করা হয়, যা দেখতে কদম ফুলের মতো লাগে।

সাবিত্রী মিষ্টির পাশাপাশি রসকদম্বও মেহেরপুরের পরিচিতি বহন করে। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, বিয়ে কিংবা বিভিন্ন উৎসবে এই মিষ্টি পরিবেশন করা হয়।

৩. মেহেরপুরের খেজুরের গুড় ও পাটালি

শীতকালে মেহেরপুরের গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রচলন রয়েছে। খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জ্বাল দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় সুস্বাদু খেজুরের গুড় ও পাটালি।

এই গুড় দিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশেষ করে শীতের সকালে গরম ভাপা পিঠার সঙ্গে খেজুরের গুড় খাওয়ার স্বাদ অসাধারণ।

মেহেরপুরের খেজুরের গুড় স্থানীয় মানুষের কাছে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি জেলার বাইরেও এর চাহিদা রয়েছে।

৪. মেহেরপুরের হিমসাগর আম

মেহেরপুরের পরিচিত ফলের মধ্যে হিমসাগর আম অন্যতম। গ্রীষ্মকালে এই আমের মৌসুম এলে বাজারে দেখা যায় ব্যাপক আমের সমারোহ।

হিমসাগর আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর মিষ্টি স্বাদ, মনোরম ঘ্রাণ এবং আঁশহীন শাঁস। পাকা হিমসাগর আম খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।

এছাড়া মেহেরপুরে ল্যাংড়া, ফজলি ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায়। এসব আম জেলার ফলের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

৫. মেহেরসাগর কলা

মেহেরপুরের আরেকটি পরিচিত কৃষিপণ্য হলো মেহেরসাগর কলা। এই কলা স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয় এবং স্বাদ ও গুণের জন্য পরিচিত।

পাকা মেহেরসাগর কলা সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও খাবার তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় কৃষি ও ফলের ঐতিহ্যের সঙ্গে এই কলার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

৬. মেহেরপুরের পান

মেহেরপুরে পান চাষের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পান চাষ করা হয় এবং স্থানীয় বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে।

পান বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি পরিচিত অংশ। খাবারের পর পান খাওয়ার প্রচলন বহুদিনের। মেহেরপুরের পানও এ অঞ্চলের কৃষি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।

৭. দুধের পায়েস ও মিষ্টান্ন

মেহেরপুরের খাদ্যসংস্কৃতিতে দুধের তৈরি খাবারেরও বিশেষ স্থান রয়েছে। দুধ, চাল, চিনি কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস গ্রামবাংলার একটি জনপ্রিয় মিষ্টান্ন।

বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান, জন্মদিন, বিয়ে ও ধর্মীয় উৎসবে পায়েস পরিবেশন করা হয়। বিশেষ করে শীতকালে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েসের স্বাদ অতুলনীয়।

৮. গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা

মেহেরপুরের গ্রামাঞ্চলে শীতকাল এলেই বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির আয়োজন দেখা যায়। খেজুরের গুড়, চালের গুঁড়া, নারকেল ও দুধ ব্যবহার করে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পিঠা।

এ অঞ্চলে প্রচলিত জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে রয়েছে:

  • ভাপা পিঠা
  • চিতই পিঠা
  • পাটিসাপটা
  • দুধ পুলি
  • তেলের পিঠা
  • নারকেলের পুলি

এসব পিঠা শুধু খাবার নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ।

মেহেরপুরের খাবারের বিশেষত্ব

মেহেরপুরের খাবারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো স্থানীয় কৃষি, দুধ উৎপাদন, মৌসুমি ফল এবং মিষ্টান্ন তৈরির দীর্ঘ ঐতিহ্য। সাবিত্রী ও রসকদম্বের মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এ জেলাকে দেশের মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে।

অন্যদিকে খেজুরের গুড়, হিমসাগর আম, মেহেরসাগর কলা ও পান মেহেরপুরের কৃষিভিত্তিক খাদ্যসংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরে।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক: তাবিবুর রহমান তালুকদার
প্রকাশক: জিন্নাহ ফারুক
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ