মুন টাইমস নিউজ

বিখ্যাত খাবার

নলেন গুড়ের সন্দেশ থেকে পেড়া সন্দেশ, স্বাদে ও ঐতিহ্যে অনন্য

নড়াইল জেলার বিখ্যাত খাবার

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
নড়াইল জেলার বিখ্যাত খাবার

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলো নড়াইল। চিত্রা নদী, মধুমতি নদী, সবুজ গ্রামাঞ্চল এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য জেলাটি বেশ পরিচিত। তবে নড়াইলের আরেকটি বিশেষ পরিচয় রয়েছে, আর তা হলো এখানকার সুস্বাদু খাবার ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন।

বিশেষ করে নলেন গুড়ের সন্দেশ, পেড়া সন্দেশ, ক্ষীর সন্দেশ এবং খেজুরের গুড় নড়াইলের খাবারের জগতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। পাশাপাশি এখানকার দেশি মাছের রান্না, ভাজা পিঠা, দুধ চিতই ও বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন পিঠা স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক নড়াইল জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।

১. নড়াইলের নলেন গুড়ের সন্দেশ

নড়াইল জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে নলেন গুড়ের সন্দেশের নাম। এই মিষ্টি নড়াইলের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যবাহী খাবার।

শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহ করে তা জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় নলেন গুড়। এরপর খাঁটি দুধের ছানা ও নলেন গুড়ের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু এই সন্দেশ।

এর বিশেষত্ব হলো খেজুরের গুড়ের প্রাকৃতিক মিষ্টতা, মনমাতানো ঘ্রাণ এবং নরম স্বাদ। নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের নলেন গুড়ের সন্দেশ বিশেষভাবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এই মিষ্টি কিনতে আসেন। এমনকি প্রবাসীদের কাছেও এর চাহিদা রয়েছে।

২. নড়াইলের পেড়া সন্দেশ

নড়াইলের আরেকটি পরিচিত ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি হলো পেড়া সন্দেশ। দুধ দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ঘন ক্ষীর তৈরি করা হয়। সেই ক্ষীর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এই মিষ্টি।

পেড়া সন্দেশের স্বাদ কিছুটা ঘন, মোলায়েম ও মিষ্টি। এর বিশেষ আকৃতি এবং দুধের ঘ্রাণ একে অন্যান্য মিষ্টি থেকে আলাদা করেছে।

নড়াইলের স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলোতে এই মিষ্টি পাওয়া যায়। অতিথি আপ্যায়ন ও উপহার হিসেবেও এটি বেশ জনপ্রিয়।

৩. ক্ষীর সন্দেশ

নড়াইলের মিষ্টান্নের তালিকায় ক্ষীর সন্দেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। দুধ জ্বাল দিয়ে তৈরি ঘন ক্ষীর এবং ছানার সমন্বয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মিষ্টি।

এর স্বাদ বেশ সমৃদ্ধ এবং দুধের ঘ্রাণে ভরপুর। মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে ক্ষীর সন্দেশ বেশ আকর্ষণীয় একটি খাবার।

৪. খেজুরের গুড় ও পাটালি

শীতকালে নড়াইলের গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রচলন রয়েছে। ভোরবেলা গাছিরা খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। পরে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু গুড় ও পাটালি।

খেজুরের গুড় দিয়ে পায়েস, পিঠা, পুলি এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়।

নড়াইলের খেজুরের গুড়ের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর প্রাকৃতিক মিষ্টতা ও মনমাতানো ঘ্রাণ। শীতকালে স্থানীয় বাজারগুলোতে খেজুরের গুড় ও পাটালির বেচাকেনা বেশ জমে ওঠে।

৫. খেজুরের রস

নড়াইলের শীতকালীন ঐতিহ্যের সঙ্গে খেজুরের রসের সম্পর্ক গভীর। শীতের সকালে টাটকা খেজুরের রস পান করা গ্রামবাংলার একটি পুরোনো সংস্কৃতি।

খেজুরের রস সরাসরি পান করার পাশাপাশি তা দিয়ে গুড়, পাটালি ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হয়।

তবে কাঁচা খেজুরের রস পান করার ক্ষেত্রে বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই রস ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করাই নিরাপদ।

৬. নড়াইলের ভাজা পিঠা

নড়াইলের গ্রামীণ মানুষের কাছে ভাজা পিঠা বেশ পরিচিত একটি খাবার। বিশেষ করে শীতকালে বাড়িতে বাড়িতে এই পিঠা তৈরির আয়োজন দেখা যায়।

চালের গুঁড়া, নারকেল, গুড় ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় পিঠার মিশ্রণ। এরপর গরম তেলে ভেজে তৈরি করা হয় মচমচে ও সুস্বাদু ভাজা পিঠা।

চায়ের সঙ্গে কিংবা বিকেলের নাশতা হিসেবে এই পিঠা খেতে বেশ ভালো লাগে।

৭. দুধ চিতই পিঠা

নড়াইলের শীতকালীন খাবারের মধ্যে দুধ চিতই পিঠা অন্যতম। চালের গুঁড়া দিয়ে প্রথমে চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। এরপর ঘন দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে পিঠাগুলো রান্না করা হয়।

দুধের ঘনত্ব, গুড়ের মিষ্টতা এবং নরম পিঠার সমন্বয়ে তৈরি হয় অসাধারণ স্বাদের এই খাবার।

শীতের সকালে কিংবা বিকেলের নাশতায় দুধ চিতই পিঠা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

৮. তুলারামপুরের পিঠা

নড়াইলের সদর উপজেলার তুলারামপুর গ্রামে শীতকালে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে বিভিন্ন ধরনের বাহারি পিঠার সমারোহ দেখা যায়।

দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পিঠা কিনতে ও উৎসব উপভোগ করতে আসেন। ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা, চিতই পিঠাসহ নানা ধরনের পিঠা এই উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে।

তুলারামপুরের পিঠা উৎসব নড়াইলের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও খাদ্য ঐতিহ্যের একটি সুন্দর নিদর্শন।

৯. দেশি মাছের নানা পদ

চিত্রা, নবগঙ্গা ও মধুমতিসহ বিভিন্ন নদ-নদী এবং জলাশয়ের কারণে নড়াইলের মানুষের খাবারে মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ দিয়ে সুস্বাদু রান্না করা হয়। যেমন:

  • রুই মাছের ঝোল
  • কাতলা মাছের কালিয়া
  • টেংরা মাছের ঝোল
  • পুঁটি মাছের চচ্চড়ি
  • শিং ও মাগুর মাছের তরকারি
  • চিংড়ি মাছের ভুনা

স্থানীয় মসলা ও শাকসবজি দিয়ে তৈরি এসব খাবারে পাওয়া যায় গ্রামবাংলার চিরচেনা স্বাদ।

১০. গুড়ের পায়েস

নড়াইলের শীতকালীন খাবারের মধ্যে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস বেশ জনপ্রিয়।

দুধ, চাল ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মিষ্টান্ন। দীর্ঘ সময় দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করার ফলে পায়েসের স্বাদ আরও বেড়ে যায়।

বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও অতিথি আপ্যায়নে গুড়ের পায়েস পরিবেশন করা হয়।

নড়াইলের খাবারের বিশেষত্ব

নড়াইলের খাবারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন, খেজুরের গুড় এবং গ্রামীণ পিঠা-পায়েসের বৈচিত্র্য। বিশেষ করে নলেন গুড়ের সন্দেশ ও পেড়া সন্দেশ এ জেলাকে দেশের মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

অন্যদিকে চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা, দেশি মাছের রান্না এবং শীতকালীন পিঠা নড়াইলের খাদ্যসংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

নড়াইল জেলা শুধু শিল্প-সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং এখানকার খাবারও জেলার ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নলেন গুড়ের সন্দেশ, পেড়া সন্দেশ, ক্ষীর সন্দেশ, খেজুরের গুড়, ভাজা পিঠা, দুধ চিতই এবং দেশি মাছের নানা পদ নড়াইলের খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।

তাই নড়াইল ভ্রমণে গেলে চিত্রা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি রূপগঞ্জ বাজারের বিখ্যাত নলেন গুড়ের সন্দেশ ও পেড়া সন্দেশের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। এসব খাবারের মধ্যেই খুঁজে পাবেন নড়াইলের মানুষের জীবনযাত্রা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয়।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


নড়াইল জেলার বিখ্যাত খাবার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলো নড়াইল। চিত্রা নদী, মধুমতি নদী, সবুজ গ্রামাঞ্চল এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য জেলাটি বেশ পরিচিত। তবে নড়াইলের আরেকটি বিশেষ পরিচয় রয়েছে, আর তা হলো এখানকার সুস্বাদু খাবার ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন।

বিশেষ করে নলেন গুড়ের সন্দেশ, পেড়া সন্দেশ, ক্ষীর সন্দেশ এবং খেজুরের গুড় নড়াইলের খাবারের জগতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। পাশাপাশি এখানকার দেশি মাছের রান্না, ভাজা পিঠা, দুধ চিতই ও বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন পিঠা স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক নড়াইল জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।

১. নড়াইলের নলেন গুড়ের সন্দেশ

নড়াইল জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে নলেন গুড়ের সন্দেশের নাম। এই মিষ্টি নড়াইলের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যবাহী খাবার।

শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহ করে তা জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় নলেন গুড়। এরপর খাঁটি দুধের ছানা ও নলেন গুড়ের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু এই সন্দেশ।

এর বিশেষত্ব হলো খেজুরের গুড়ের প্রাকৃতিক মিষ্টতা, মনমাতানো ঘ্রাণ এবং নরম স্বাদ। নড়াইলের রূপগঞ্জ বাজারের নলেন গুড়ের সন্দেশ বিশেষভাবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এই মিষ্টি কিনতে আসেন। এমনকি প্রবাসীদের কাছেও এর চাহিদা রয়েছে।

২. নড়াইলের পেড়া সন্দেশ

নড়াইলের আরেকটি পরিচিত ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি হলো পেড়া সন্দেশ। দুধ দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ঘন ক্ষীর তৈরি করা হয়। সেই ক্ষীর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এই মিষ্টি।

পেড়া সন্দেশের স্বাদ কিছুটা ঘন, মোলায়েম ও মিষ্টি। এর বিশেষ আকৃতি এবং দুধের ঘ্রাণ একে অন্যান্য মিষ্টি থেকে আলাদা করেছে।

নড়াইলের স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলোতে এই মিষ্টি পাওয়া যায়। অতিথি আপ্যায়ন ও উপহার হিসেবেও এটি বেশ জনপ্রিয়।

৩. ক্ষীর সন্দেশ

নড়াইলের মিষ্টান্নের তালিকায় ক্ষীর সন্দেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। দুধ জ্বাল দিয়ে তৈরি ঘন ক্ষীর এবং ছানার সমন্বয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মিষ্টি।

এর স্বাদ বেশ সমৃদ্ধ এবং দুধের ঘ্রাণে ভরপুর। মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে ক্ষীর সন্দেশ বেশ আকর্ষণীয় একটি খাবার।

৪. খেজুরের গুড় ও পাটালি

শীতকালে নড়াইলের গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রচলন রয়েছে। ভোরবেলা গাছিরা খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। পরে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু গুড় ও পাটালি।

খেজুরের গুড় দিয়ে পায়েস, পিঠা, পুলি এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়।

নড়াইলের খেজুরের গুড়ের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর প্রাকৃতিক মিষ্টতা ও মনমাতানো ঘ্রাণ। শীতকালে স্থানীয় বাজারগুলোতে খেজুরের গুড় ও পাটালির বেচাকেনা বেশ জমে ওঠে।

৫. খেজুরের রস

নড়াইলের শীতকালীন ঐতিহ্যের সঙ্গে খেজুরের রসের সম্পর্ক গভীর। শীতের সকালে টাটকা খেজুরের রস পান করা গ্রামবাংলার একটি পুরোনো সংস্কৃতি।

খেজুরের রস সরাসরি পান করার পাশাপাশি তা দিয়ে গুড়, পাটালি ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হয়।

তবে কাঁচা খেজুরের রস পান করার ক্ষেত্রে বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই রস ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করাই নিরাপদ।

৬. নড়াইলের ভাজা পিঠা

নড়াইলের গ্রামীণ মানুষের কাছে ভাজা পিঠা বেশ পরিচিত একটি খাবার। বিশেষ করে শীতকালে বাড়িতে বাড়িতে এই পিঠা তৈরির আয়োজন দেখা যায়।

চালের গুঁড়া, নারকেল, গুড় ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় পিঠার মিশ্রণ। এরপর গরম তেলে ভেজে তৈরি করা হয় মচমচে ও সুস্বাদু ভাজা পিঠা।

চায়ের সঙ্গে কিংবা বিকেলের নাশতা হিসেবে এই পিঠা খেতে বেশ ভালো লাগে।

৭. দুধ চিতই পিঠা

নড়াইলের শীতকালীন খাবারের মধ্যে দুধ চিতই পিঠা অন্যতম। চালের গুঁড়া দিয়ে প্রথমে চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। এরপর ঘন দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে পিঠাগুলো রান্না করা হয়।

দুধের ঘনত্ব, গুড়ের মিষ্টতা এবং নরম পিঠার সমন্বয়ে তৈরি হয় অসাধারণ স্বাদের এই খাবার।

শীতের সকালে কিংবা বিকেলের নাশতায় দুধ চিতই পিঠা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

৮. তুলারামপুরের পিঠা

নড়াইলের সদর উপজেলার তুলারামপুর গ্রামে শীতকালে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে বিভিন্ন ধরনের বাহারি পিঠার সমারোহ দেখা যায়।

দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পিঠা কিনতে ও উৎসব উপভোগ করতে আসেন। ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা, চিতই পিঠাসহ নানা ধরনের পিঠা এই উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে।

তুলারামপুরের পিঠা উৎসব নড়াইলের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও খাদ্য ঐতিহ্যের একটি সুন্দর নিদর্শন।

৯. দেশি মাছের নানা পদ

চিত্রা, নবগঙ্গা ও মধুমতিসহ বিভিন্ন নদ-নদী এবং জলাশয়ের কারণে নড়াইলের মানুষের খাবারে মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ দিয়ে সুস্বাদু রান্না করা হয়। যেমন:

  • রুই মাছের ঝোল
  • কাতলা মাছের কালিয়া
  • টেংরা মাছের ঝোল
  • পুঁটি মাছের চচ্চড়ি
  • শিং ও মাগুর মাছের তরকারি
  • চিংড়ি মাছের ভুনা

স্থানীয় মসলা ও শাকসবজি দিয়ে তৈরি এসব খাবারে পাওয়া যায় গ্রামবাংলার চিরচেনা স্বাদ।

১০. গুড়ের পায়েস

নড়াইলের শীতকালীন খাবারের মধ্যে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস বেশ জনপ্রিয়।

দুধ, চাল ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মিষ্টান্ন। দীর্ঘ সময় দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করার ফলে পায়েসের স্বাদ আরও বেড়ে যায়।

বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও অতিথি আপ্যায়নে গুড়ের পায়েস পরিবেশন করা হয়।

নড়াইলের খাবারের বিশেষত্ব

নড়াইলের খাবারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন, খেজুরের গুড় এবং গ্রামীণ পিঠা-পায়েসের বৈচিত্র্য। বিশেষ করে নলেন গুড়ের সন্দেশ ও পেড়া সন্দেশ এ জেলাকে দেশের মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

অন্যদিকে চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা, দেশি মাছের রান্না এবং শীতকালীন পিঠা নড়াইলের খাদ্যসংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

নড়াইল জেলা শুধু শিল্প-সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং এখানকার খাবারও জেলার ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নলেন গুড়ের সন্দেশ, পেড়া সন্দেশ, ক্ষীর সন্দেশ, খেজুরের গুড়, ভাজা পিঠা, দুধ চিতই এবং দেশি মাছের নানা পদ নড়াইলের খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।

তাই নড়াইল ভ্রমণে গেলে চিত্রা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি রূপগঞ্জ বাজারের বিখ্যাত নলেন গুড়ের সন্দেশ ও পেড়া সন্দেশের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। এসব খাবারের মধ্যেই খুঁজে পাবেন নড়াইলের মানুষের জীবনযাত্রা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয়।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক: তাবিবুর রহমান তালুকদার
প্রকাশক: জিন্নাহ ফারুক
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ