বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলো কুষ্টিয়া। লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাউলসংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য কুষ্টিয়া দেশজুড়ে পরিচিত। তবে ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাশাপাশি কুষ্টিয়ার রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি।
বিশেষ করে কুষ্টিয়ার তিলের খাজা, কুলফি মালাই, দই, ঘি ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন খাবারপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া খেজুরের গুড়, পিঠা-পুলি এবং গ্রামবাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক কুষ্টিয়া জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।
কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবারের নাম বলতে গেলে প্রথমেই আসে তিলের খাজার কথা। এটি কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন এবং দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পণ্য।
তিল ও চিনির মিশ্রণে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এই মচমচে মিষ্টি। এর বাইরের অংশে থাকে তিলের দানা এবং ভেতরে থাকে চিনির তৈরি মিষ্টি স্তর।
কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া, চরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় তিলের খাজা তৈরির কারখানা রয়েছে। স্থানীয় কারিগররা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাতে তৈরি করেন এই সুস্বাদু খাবার।
দেশের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বাজারে ফেরিওয়ালাদের মুখে কুষ্টিয়ার তিলের খাজার নাম শোনা যায়। এটি কুষ্টিয়ার অন্যতম প্রধান খাদ্য পরিচয়।
কুষ্টিয়ার আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হলো কুলফি মালাই। এটি সাধারণ আইসক্রিমের মতো নয়; বরং ঘন দুধ দিয়ে তৈরি এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী হিমায়িত মিষ্টান্ন।
দুধ দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বরফ ও লবণের সাহায্যে জমিয়ে তৈরি করা হয় কুলফি মালাই।
এর ঘনত্ব, দুধের স্বাদ এবং মোলায়েম গঠন খাবারটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। গরমের দিনে কুষ্টিয়ার রাস্তাঘাট ও বাজারে এই কুলফি মালাইয়ের বেশ চাহিদা দেখা যায়।
কুষ্টিয়ার দুধজাত খাবারের মধ্যে দই উল্লেখযোগ্য। দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করার পর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জমিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু দই।
মিষ্টি দইয়ের পাশাপাশি টক দইও বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। পোলাও, বিরিয়ানি কিংবা সাধারণ খাবারের পর মিষ্টি দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন।
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী দুধজাত পণ্যের মধ্যে ঘি অন্যতম। দুধ থেকে তৈরি মাখন বা ননি জ্বাল দিয়ে প্রস্তুত করা হয় ঘি।
ঘি দিয়ে পোলাও, খিচুড়ি, পায়েস ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। এর সুগন্ধ খাবারের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
শীতকালে কুষ্টিয়ার গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রচলন রয়েছে। গাছিরা ভোরে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন খেজুরের গুড় ও পাটালি।
এই গুড় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা, পায়েস, পুলি ও মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশেষ করে শীতের সকালে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা খাওয়ার আনন্দই আলাদা।
কুষ্টিয়ার মিষ্টান্নের তালিকায় ছানার সন্দেশও উল্লেখযোগ্য। দুধ থেকে ছানা তৈরি করে তার সঙ্গে চিনি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয় এই মিষ্টি।
নরম, মোলায়েম ও সুস্বাদু এই মিষ্টি অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়।
শীতকাল এলেই কুষ্টিয়ার গ্রামাঞ্চলে শুরু হয় পিঠা তৈরির আয়োজন। খেজুরের গুড়, চালের গুঁড়া, নারকেল ও দুধ দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা।
এ অঞ্চলে জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে রয়েছে:
এসব পিঠা কুষ্টিয়ার গ্রামীণ জীবন ও বাঙালির শীতকালীন ঐতিহ্যের সুন্দর পরিচয় বহন করে।
কুষ্টিয়ার শীতকালীন খাবারের মধ্যে দুধ চিতই পিঠা একটি জনপ্রিয় পদ। চালের গুঁড়া দিয়ে প্রথমে চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। এরপর ঘন দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে রান্না করা হয়।
দুধের ঘনত্ব, গুড়ের মিষ্টতা ও নরম পিঠার সমন্বয়ে তৈরি হয় অসাধারণ স্বাদের এই খাবার।
পদ্মা ও গড়াই নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয়ের কারণে কুষ্টিয়ার খাদ্যসংস্কৃতিতে মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
এ অঞ্চলে রুই, কাতলা, শোল, টাকি, পুঁটি ও টেংরা মাছ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রান্না করা হয়।
মাছের ঝোল, ভুনা, সরিষা মাছ ও মাছের ভর্তা স্থানীয় মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। গরম ভাতের সঙ্গে দেশি মাছের ঝোল গ্রামবাংলার চিরচেনা খাবারের একটি।
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে গরুর মাংস ভুনা ও খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়।
বিভিন্ন মসলা দিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করা গরুর মাংসের ভুনা এবং সুগন্ধি খিচুড়ির সমন্বয় খাবারটিকে বেশ সুস্বাদু করে তোলে।
ঈদ, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে এই খাবারের প্রচলন রয়েছে।
কুষ্টিয়ার খাবারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। বিশেষ করে তিলের খাজা ও কুলফি মালাই কুষ্টিয়াকে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
এছাড়া দুধ, ঘি, দই, খেজুরের গুড়, দেশি মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে বৈচিত্র্যময়।
কুষ্টিয়ার খাবারের সঙ্গে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা শুধু লালন শাহ ও রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত সাংস্কৃতিক জনপদ হিসেবেই নয়, বরং নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্যের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। কুষ্টিয়ার তিলের খাজা, কুলফি মালাই, দই, ঘি, ছানার সন্দেশ, খেজুরের গুড় এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই কুষ্টিয়া ভ্রমণে গেলে ছেঁউড়িয়ার লালন শাহের আখড়া, শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি কুষ্টিয়ার বিখ্যাত তিলের খাজা ও কুলফি মালাইয়ের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। এসব খাবারের মধ্যেই খুঁজে পাবেন কুষ্টিয়ার মাটি, মানুষ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য পরিচয়।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলো কুষ্টিয়া। লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাউলসংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য কুষ্টিয়া দেশজুড়ে পরিচিত। তবে ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাশাপাশি কুষ্টিয়ার রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি।
বিশেষ করে কুষ্টিয়ার তিলের খাজা, কুলফি মালাই, দই, ঘি ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন খাবারপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া খেজুরের গুড়, পিঠা-পুলি এবং গ্রামবাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক কুষ্টিয়া জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।
কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবারের নাম বলতে গেলে প্রথমেই আসে তিলের খাজার কথা। এটি কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন এবং দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পণ্য।
তিল ও চিনির মিশ্রণে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এই মচমচে মিষ্টি। এর বাইরের অংশে থাকে তিলের দানা এবং ভেতরে থাকে চিনির তৈরি মিষ্টি স্তর।
কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া, চরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় তিলের খাজা তৈরির কারখানা রয়েছে। স্থানীয় কারিগররা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাতে তৈরি করেন এই সুস্বাদু খাবার।
দেশের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বাজারে ফেরিওয়ালাদের মুখে কুষ্টিয়ার তিলের খাজার নাম শোনা যায়। এটি কুষ্টিয়ার অন্যতম প্রধান খাদ্য পরিচয়।
কুষ্টিয়ার আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হলো কুলফি মালাই। এটি সাধারণ আইসক্রিমের মতো নয়; বরং ঘন দুধ দিয়ে তৈরি এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী হিমায়িত মিষ্টান্ন।
দুধ দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বরফ ও লবণের সাহায্যে জমিয়ে তৈরি করা হয় কুলফি মালাই।
এর ঘনত্ব, দুধের স্বাদ এবং মোলায়েম গঠন খাবারটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। গরমের দিনে কুষ্টিয়ার রাস্তাঘাট ও বাজারে এই কুলফি মালাইয়ের বেশ চাহিদা দেখা যায়।
কুষ্টিয়ার দুধজাত খাবারের মধ্যে দই উল্লেখযোগ্য। দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করার পর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জমিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু দই।
মিষ্টি দইয়ের পাশাপাশি টক দইও বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। পোলাও, বিরিয়ানি কিংবা সাধারণ খাবারের পর মিষ্টি দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন।
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী দুধজাত পণ্যের মধ্যে ঘি অন্যতম। দুধ থেকে তৈরি মাখন বা ননি জ্বাল দিয়ে প্রস্তুত করা হয় ঘি।
ঘি দিয়ে পোলাও, খিচুড়ি, পায়েস ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। এর সুগন্ধ খাবারের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
শীতকালে কুষ্টিয়ার গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রচলন রয়েছে। গাছিরা ভোরে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন খেজুরের গুড় ও পাটালি।
এই গুড় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা, পায়েস, পুলি ও মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। বিশেষ করে শীতের সকালে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা খাওয়ার আনন্দই আলাদা।
কুষ্টিয়ার মিষ্টান্নের তালিকায় ছানার সন্দেশও উল্লেখযোগ্য। দুধ থেকে ছানা তৈরি করে তার সঙ্গে চিনি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয় এই মিষ্টি।
নরম, মোলায়েম ও সুস্বাদু এই মিষ্টি অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়।
শীতকাল এলেই কুষ্টিয়ার গ্রামাঞ্চলে শুরু হয় পিঠা তৈরির আয়োজন। খেজুরের গুড়, চালের গুঁড়া, নারকেল ও দুধ দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা।
এ অঞ্চলে জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে রয়েছে:
এসব পিঠা কুষ্টিয়ার গ্রামীণ জীবন ও বাঙালির শীতকালীন ঐতিহ্যের সুন্দর পরিচয় বহন করে।
কুষ্টিয়ার শীতকালীন খাবারের মধ্যে দুধ চিতই পিঠা একটি জনপ্রিয় পদ। চালের গুঁড়া দিয়ে প্রথমে চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। এরপর ঘন দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে রান্না করা হয়।
দুধের ঘনত্ব, গুড়ের মিষ্টতা ও নরম পিঠার সমন্বয়ে তৈরি হয় অসাধারণ স্বাদের এই খাবার।
পদ্মা ও গড়াই নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয়ের কারণে কুষ্টিয়ার খাদ্যসংস্কৃতিতে মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
এ অঞ্চলে রুই, কাতলা, শোল, টাকি, পুঁটি ও টেংরা মাছ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রান্না করা হয়।
মাছের ঝোল, ভুনা, সরিষা মাছ ও মাছের ভর্তা স্থানীয় মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। গরম ভাতের সঙ্গে দেশি মাছের ঝোল গ্রামবাংলার চিরচেনা খাবারের একটি।
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে গরুর মাংস ভুনা ও খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়।
বিভিন্ন মসলা দিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করা গরুর মাংসের ভুনা এবং সুগন্ধি খিচুড়ির সমন্বয় খাবারটিকে বেশ সুস্বাদু করে তোলে।
ঈদ, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে এই খাবারের প্রচলন রয়েছে।
কুষ্টিয়ার খাবারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। বিশেষ করে তিলের খাজা ও কুলফি মালাই কুষ্টিয়াকে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
এছাড়া দুধ, ঘি, দই, খেজুরের গুড়, দেশি মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে বৈচিত্র্যময়।
কুষ্টিয়ার খাবারের সঙ্গে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা শুধু লালন শাহ ও রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত সাংস্কৃতিক জনপদ হিসেবেই নয়, বরং নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্যের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। কুষ্টিয়ার তিলের খাজা, কুলফি মালাই, দই, ঘি, ছানার সন্দেশ, খেজুরের গুড় এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই কুষ্টিয়া ভ্রমণে গেলে ছেঁউড়িয়ার লালন শাহের আখড়া, শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি কুষ্টিয়ার বিখ্যাত তিলের খাজা ও কুলফি মালাইয়ের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। এসব খাবারের মধ্যেই খুঁজে পাবেন কুষ্টিয়ার মাটি, মানুষ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য পরিচয়।

আপনার মতামত লিখুন