সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট নগরীর ক্বিনব্রিজ এলাকায় সাদা পোশাকে থাকা এক র্যাব সদস্যকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের দমনে মহানগরজুড়ে চালানো পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। একই সাথে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ রুখতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ১০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ ২৩ মে (শনিবার) দুপুরে এসএমপির মিডিয়া সেল থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিশেষ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
তীব্র অভিযানের মুখে অপরাধীরা:
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত মহানগরীর ছয়টি থানা ও ডিবি পুলিশ একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের প্রথম ধাপে ৬৭ জন এবং পরবর্তী ধাপে ১৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী, চিহ্নিত মাদক কারবারি, জুয়াড়ি, চোরাচালান চক্রের সদস্য এবং বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে প্রাণ হারালেন র্যাব সদস্য:
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ২২ মে (শুক্রবার) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ক্বিনব্রিজ এলাকায় মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের তাড়া খেয়ে আসাদুল আলম বাপ্পী (২২) নামের এক কুখ্যাত ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী তোপখানার দিকে পালাতে থাকে। এ সময় ব্যক্তিগত কাজে সেখানে সাধারণ পোশাকে উপস্থিত থাকা র্যাব-৯ এর কনস্টেবল ইমন আচার্য (২৮) পুলিশকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান এবং বাপ্পীকে জাপটে ধরেন।
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পী তার কোমরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ইমনের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইমন আচার্যের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই এলাকায়।
অভিযুক্তকে জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার:
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক বাপ্পী তোপখানা এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তবে কোতোয়ালী থানা পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে রক্তাক্ত চাকুসহ বাপ্পীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। বাপ্পী স্থানীয় কাজীরবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই ও মাদকের মামলা রয়েছে।
সড়কে ট্রাফিকের কড়াকড়ি
এদিকে মহানগরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান প্রবেশমুখগুলোতে কড়া তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) বসানো হয়েছে। ট্রাফিক আইনের নিয়ম লঙ্ঘন ও সন্দেহজনক চলাচলের কারণে ১০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এসএমপি ও র্যাব-৯ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধের সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দিতে এই সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট নগরীর ক্বিনব্রিজ এলাকায় সাদা পোশাকে থাকা এক র্যাব সদস্যকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের দমনে মহানগরজুড়ে চালানো পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। একই সাথে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ রুখতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ১০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ ২৩ মে (শনিবার) দুপুরে এসএমপির মিডিয়া সেল থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিশেষ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
তীব্র অভিযানের মুখে অপরাধীরা:
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত মহানগরীর ছয়টি থানা ও ডিবি পুলিশ একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের প্রথম ধাপে ৬৭ জন এবং পরবর্তী ধাপে ১৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী, চিহ্নিত মাদক কারবারি, জুয়াড়ি, চোরাচালান চক্রের সদস্য এবং বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে প্রাণ হারালেন র্যাব সদস্য:
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ২২ মে (শুক্রবার) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ক্বিনব্রিজ এলাকায় মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের তাড়া খেয়ে আসাদুল আলম বাপ্পী (২২) নামের এক কুখ্যাত ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী তোপখানার দিকে পালাতে থাকে। এ সময় ব্যক্তিগত কাজে সেখানে সাধারণ পোশাকে উপস্থিত থাকা র্যাব-৯ এর কনস্টেবল ইমন আচার্য (২৮) পুলিশকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান এবং বাপ্পীকে জাপটে ধরেন।
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পী তার কোমরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ইমনের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইমন আচার্যের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই এলাকায়।
অভিযুক্তকে জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার:
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক বাপ্পী তোপখানা এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তবে কোতোয়ালী থানা পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে রক্তাক্ত চাকুসহ বাপ্পীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। বাপ্পী স্থানীয় কাজীরবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই ও মাদকের মামলা রয়েছে।
সড়কে ট্রাফিকের কড়াকড়ি
এদিকে মহানগরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান প্রবেশমুখগুলোতে কড়া তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) বসানো হয়েছে। ট্রাফিক আইনের নিয়ম লঙ্ঘন ও সন্দেহজনক চলাচলের কারণে ১০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এসএমপি ও র্যাব-৯ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধের সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দিতে এই সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন