মুন টাইমস নিউজ

সারাদেশ

সাভারে এসবির এসআইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার

সাভারে এসবির এসআইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার
সাভারে এসবির এসআইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার

সাভারঃ সাভারের আমিনবাজারে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জহিরুল ইসলাম নামে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে আমিনবাজার এলাকা থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা হাউজিং এলাকায় একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে একটি আঞ্চলিক সড়কে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালক তাঁর রিকশা ঠিক করছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার এসে ওই চালক ও তাঁর রিকশাকে ধাক্কা দেয়। পরে প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন যুবক ওই বৃদ্ধকে মারধর শুরু করেন।

বিষয়টি দেখে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা এসআই আলতাফ হোসেন এগিয়ে গিয়ে বৃদ্ধ চালককে মারধরের প্রতিবাদ করেন। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা চার থেকে পাঁচজন যুবক তাঁর ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে আরও লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাঁকে মারধর করেন।

পরে হামলা থেকে বাঁচতে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁর মালিকানাধীন কারখানায় চলে যান। কিছুক্ষণ পর হামলাকারীরা আরও লোকজন নিয়ে ওই কারখানায় গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

অন্যদিকে, পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে হামলার শিকার হন। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

হামলায় গুরুতর আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

নিহত আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) উপপরিদর্শক হিসেবে ঢাকার মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল ঢাকায় হলেও আমিনবাজার এলাকায় তাঁর জমি ও একটি কারখানা রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে গিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারে এক এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এসবির সাভার জোনের এএসআই মাসুদ রানা জানান, নিহত আলতাফ হোসেন ঢাকার একটি জোনে এসবির এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাভার জোনে কর্মরত ছিলেন না। আমিনবাজার এলাকায় তাঁর জমি ও একটি কারখানা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে ঘটনাস্থলের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাভারে এসবির এসআইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাভারঃ সাভারের আমিনবাজারে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জহিরুল ইসলাম নামে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে আমিনবাজার এলাকা থেকে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম।



পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা হাউজিং এলাকায় একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে একটি আঞ্চলিক সড়কে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালক তাঁর রিকশা ঠিক করছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার এসে ওই চালক ও তাঁর রিকশাকে ধাক্কা দেয়। পরে প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন যুবক ওই বৃদ্ধকে মারধর শুরু করেন।


বিষয়টি দেখে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা এসআই আলতাফ হোসেন এগিয়ে গিয়ে বৃদ্ধ চালককে মারধরের প্রতিবাদ করেন। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা চার থেকে পাঁচজন যুবক তাঁর ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে আরও লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাঁকে মারধর করেন।


পরে হামলা থেকে বাঁচতে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁর মালিকানাধীন কারখানায় চলে যান। কিছুক্ষণ পর হামলাকারীরা আরও লোকজন নিয়ে ওই কারখানায় গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।


অন্যদিকে, পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে হামলার শিকার হন। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


হামলায় গুরুতর আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন।


নিহত আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) উপপরিদর্শক হিসেবে ঢাকার মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল ঢাকায় হলেও আমিনবাজার এলাকায় তাঁর জমি ও একটি কারখানা রয়েছে।


ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে গিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারে এক এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


এসবির সাভার জোনের এএসআই মাসুদ রানা জানান, নিহত আলতাফ হোসেন ঢাকার একটি জোনে এসবির এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাভার জোনে কর্মরত ছিলেন না। আমিনবাজার এলাকায় তাঁর জমি ও একটি কারখানা রয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে ঘটনাস্থলের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।







মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আলামিন সরকার
উপদেষ্টা: তাবিবুর রহমান তালুকদার
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ