সাভারঃভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একটি ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে। সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। ছবিটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের একটি আসল ছবি ব্যবহার করে সেটিতে ডিজিটালভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূল ছবিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের স্থানে আব্দুর রহমানের মুখ সংযোজন করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
একজন সাবেক পৌর কাউন্সিলরের সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির এমন আনুষ্ঠানিক ছবি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে গণমাধ্যম কর্মীরা। পরে মূল ছবি সংগ্রহের পর দুটি ছবির তুলনামূলক বিশ্লেষণে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সম্পাদিত ছবিতে আব্দুর রহমানের মুখমণ্ডল তার পরিচিত চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফোলা এবং কৃত্রিমভাবে সংযোজিত বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া ছবির পেছনে থাকা জাতীয় সংসদের লোগো ও ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ’ লেখায় বিকৃতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে, যা এআই-নির্ভর ছবি তৈরির ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়। বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির মূল ছবিতে এ ধরনের কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আব্দুর রহমানের অবস্থান নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে তিনি কখনো সুধী সমাজের প্রতিনিধি, আবার কখনও বিএনপির পরিচয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন। তবে গণঅভ্যুত্থানের আগে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তার দৃশ্যমান অংশগ্রহণ খুব একটা দেখা যায়নি। তার শ্বশুর মনসুর যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি এবং বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে আব্দুর রহমান দাবি করেন, ছবিটি তিনি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার থাকাকালে তুলেছিলেন। তবে একই প্রশ্ন বারবার করা হলে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে স্বীকার করেন, ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানানোর উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহাদাত হোসেন বলেন, কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়েও অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি করে। তাই এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
সাভারঃভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একটি ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে। সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। ছবিটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের একটি আসল ছবি ব্যবহার করে সেটিতে ডিজিটালভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূল ছবিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের স্থানে আব্দুর রহমানের মুখ সংযোজন করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
একজন সাবেক পৌর কাউন্সিলরের সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির এমন আনুষ্ঠানিক ছবি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে গণমাধ্যম কর্মীরা। পরে মূল ছবি সংগ্রহের পর দুটি ছবির তুলনামূলক বিশ্লেষণে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সম্পাদিত ছবিতে আব্দুর রহমানের মুখমণ্ডল তার পরিচিত চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফোলা এবং কৃত্রিমভাবে সংযোজিত বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া ছবির পেছনে থাকা জাতীয় সংসদের লোগো ও ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ’ লেখায় বিকৃতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে, যা এআই-নির্ভর ছবি তৈরির ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়। বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির মূল ছবিতে এ ধরনের কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আব্দুর রহমানের অবস্থান নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে তিনি কখনো সুধী সমাজের প্রতিনিধি, আবার কখনও বিএনপির পরিচয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন। তবে গণঅভ্যুত্থানের আগে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তার দৃশ্যমান অংশগ্রহণ খুব একটা দেখা যায়নি। তার শ্বশুর মনসুর যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি এবং বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে আব্দুর রহমান দাবি করেন, ছবিটি তিনি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার থাকাকালে তুলেছিলেন। তবে একই প্রশ্ন বারবার করা হলে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে স্বীকার করেন, ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানানোর উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহাদাত হোসেন বলেন, কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়েও অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি করে। তাই এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন