সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শ্যামলীপাড়া স্ট্যান্ড থেকে মোহনপুর স্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে থ্রি - হুইলারের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি ছাড়ার পর পরবর্তী স্ট্যান্ডে আগে পৌঁছে সিরিয়াল নেওয়ার প্রতিযোগিতায় চালকদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র গতির প্রতিযোগিতা। এতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, হঠাৎ গতিবৃদ্ধি ও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পথচারী সামাদ বলেন , যাত্রী ওঠানামা বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কে আগে গন্তব্যে পৌঁছে পরবর্তী স্ট্যান্ডে সিরিয়াল দিতে পারবে এটাই যেন অনেক চালকের কাছে প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যাত্রী, পথচারী, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়া হতে মোহনপুর আঞ্চলিক সড়কে বালুবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোশাররফ হোসেন নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শ্যামলীপাড়া থেকে মোহনপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া থ্রি - হুইলারগুলো অনেক সময় একে অপরকে পেছনে ফেলার চেষ্টা করে। সামনে থাকা গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের সামনে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে বাজার, মোড়, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এ ধরনের প্রতিযোগিতা পথচারীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, দ্রুতগতিতে চলার কারণে অনেক সময় গাড়ির ভেতরেও আতঙ্ক তৈরি হয়। চালকদের কেউ কেউ যাত্রী ওঠানো নামানোর সময়ও তাড়াহুড়ো করেন বলে অভিযোগ রয়েছ।
শিক্ষার্থী সামিউল বলেন, আমরা ভাড়া দিয়ে নিরাপদে কলেজে যেতে চাই। কিন্তু অনেক সময় চালকদের মধ্যে কে আগে যাবে, কে আগে স্ট্যান্ডে সিরিয়াল পাবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। তখন যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা যেন ভুলে যান তারা। আমরা প্রশাসনের কাছে নিয়মিত তদারকির দাবি জানাই।
অপর এক স্কুলছাত্রী বলেন, স্কুলে যাওয়া আসার সময় সড়কে অনেক থ্রি হুইলার দ্রুতগতিতে চলাচল করে। গাড়ি পাশ কাটানোর সময় ভয় লাগে। রাস্তার পাশে হাঁটতেও আতঙ্ক হয়। চালকদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার। একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে পেছনে ফেলার চেষ্টা করে। সামনে গাড়ি থাকলেও অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেক করা হয়। এতে সামান্য ভুলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিয়মিত নজরদারি ও চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
সুধীজনদের মতে, থ্রি হুইলারগুলোর স্ট্যান্ডভিত্তিক সিরিয়াল ব্যবস্থাই যদি সুশৃঙ্খল করা যায় এবং পরবর্তী স্ট্যান্ডে আগে পৌঁছানোর সঙ্গে সিরিয়াল পাওয়ার বিষয়টি সরাসরি যুক্ত না থাকে, তাহলে চালকদের তড়িঘড়ি করে গাড়ি চালানোর প্রবণতা অনেকটাই কমতে পারে। যদি স্ট্যান্ড থেকে যে সিরিয়ালে গাড়ি ছাড়বে, পরবর্তী স্ট্যান্ডেও সেইসিরিয়াল অনুযায়ী সিরিয়াল নিশ্চিত করা হলে আগে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমবে।
এছাড়া চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গতিসীমা মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ এবং সড়কে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শ্যামলীপাড়া স্ট্যান্ড থেকে মোহনপুর স্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে থ্রি - হুইলারের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি ছাড়ার পর পরবর্তী স্ট্যান্ডে আগে পৌঁছে সিরিয়াল নেওয়ার প্রতিযোগিতায় চালকদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র গতির প্রতিযোগিতা। এতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, হঠাৎ গতিবৃদ্ধি ও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পথচারী সামাদ বলেন , যাত্রী ওঠানামা বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কে আগে গন্তব্যে পৌঁছে পরবর্তী স্ট্যান্ডে সিরিয়াল দিতে পারবে এটাই যেন অনেক চালকের কাছে প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যাত্রী, পথচারী, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়া হতে মোহনপুর আঞ্চলিক সড়কে বালুবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোশাররফ হোসেন নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শ্যামলীপাড়া থেকে মোহনপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া থ্রি - হুইলারগুলো অনেক সময় একে অপরকে পেছনে ফেলার চেষ্টা করে। সামনে থাকা গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের সামনে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে বাজার, মোড়, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এ ধরনের প্রতিযোগিতা পথচারীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, দ্রুতগতিতে চলার কারণে অনেক সময় গাড়ির ভেতরেও আতঙ্ক তৈরি হয়। চালকদের কেউ কেউ যাত্রী ওঠানো নামানোর সময়ও তাড়াহুড়ো করেন বলে অভিযোগ রয়েছ।
শিক্ষার্থী সামিউল বলেন, আমরা ভাড়া দিয়ে নিরাপদে কলেজে যেতে চাই। কিন্তু অনেক সময় চালকদের মধ্যে কে আগে যাবে, কে আগে স্ট্যান্ডে সিরিয়াল পাবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। তখন যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা যেন ভুলে যান তারা। আমরা প্রশাসনের কাছে নিয়মিত তদারকির দাবি জানাই।
অপর এক স্কুলছাত্রী বলেন, স্কুলে যাওয়া আসার সময় সড়কে অনেক থ্রি হুইলার দ্রুতগতিতে চলাচল করে। গাড়ি পাশ কাটানোর সময় ভয় লাগে। রাস্তার পাশে হাঁটতেও আতঙ্ক হয়। চালকদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার। একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে পেছনে ফেলার চেষ্টা করে। সামনে গাড়ি থাকলেও অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেক করা হয়। এতে সামান্য ভুলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিয়মিত নজরদারি ও চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
সুধীজনদের মতে, থ্রি হুইলারগুলোর স্ট্যান্ডভিত্তিক সিরিয়াল ব্যবস্থাই যদি সুশৃঙ্খল করা যায় এবং পরবর্তী স্ট্যান্ডে আগে পৌঁছানোর সঙ্গে সিরিয়াল পাওয়ার বিষয়টি সরাসরি যুক্ত না থাকে, তাহলে চালকদের তড়িঘড়ি করে গাড়ি চালানোর প্রবণতা অনেকটাই কমতে পারে। যদি স্ট্যান্ড থেকে যে সিরিয়ালে গাড়ি ছাড়বে, পরবর্তী স্ট্যান্ডেও সেইসিরিয়াল অনুযায়ী সিরিয়াল নিশ্চিত করা হলে আগে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমবে।
এছাড়া চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গতিসীমা মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ এবং সড়কে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন