মুন টাইমস নিউজ

খেলাধুলা

গতিময় নতুন অস্ত্র পেয়ে গেছে ভারত, ১১ ম্যাচ খেলেই রেকর্ডের পাতায়

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
গতিময় নতুন অস্ত্র পেয়ে গেছে ভারত, ১১ ম্যাচ খেলেই রেকর্ডের পাতায়

ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন গতিময় পেস অস্ত্র হিসেবে উঠে আসছেন গুরনুর ব্রার। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মাত্র ১১টি ম্যাচ খেলেই ২১টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন ২৬ বছর বয়সী এই পেসার। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুর্দান্ত বোলিং করে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি। তার পারফরম্যান্সে ভারতের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেও নতুন করে জায়গা করে নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি ওয়ানডে সিরিজে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন গুরনুর। প্রথম দুই ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন সাতটি উইকেট। সিরিজে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনিই। ১০.৫৭ গড়ে সাত উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত বিপর্যস্ত করে দিয়েছেন এই ভারতীয় পেসার।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার বোলিং ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। বৃষ্টির কারণে ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে মাত্র চার রানে জয় পায় ভারত। সেই জয়ের অন্যতম নায়ক গুরনুর। ৩০ রান খরচ করে চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ম্যাচ জেতানো এই পারফরম্যান্সের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে বিশেষ রেকর্ড গড়েছেন।

নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডেতে ভারতীয় বোলারদের সেরা বোলিং পরিসংখ্যানে গুরনুরের ৪/৩০ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তার আগে রয়েছেন মাত্র দু'জন। ১৯৯৪ সালে ওয়েলিংটনে ৩৩ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন অনিল কুম্বলে। ২০০২ সালে অকল্যান্ডে ২৩ রানে চার উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জাভাগাল শ্রীনাথ।

তবে গুরনুরের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুটা ভালোই করেছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সাতটি উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে চারটি উইকেট পেয়েছিলেন। যদিও মাঝেমধ্যে রান খরচের ক্ষেত্রে কিছুটা বেহিসেবি ছিলেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য ছন্দ হারিয়ে ফেলেন গুরনুর। তিন ম্যাচে মাত্র তিনটি উইকেট পেলেও রান দেন অনেক বেশি। গুয়াহাটিতে ৯৬ রান খরচ করে দুটি উইকেট নেন। তিরুবনন্তপুরমে উইকেট না পেয়েই দেন ৬০ রান। মুল্লানপুরে তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১/৬৪।

ওই সিরিজে ব্যাটারদের হাতে বেধড়ক মার খাওয়াটা কিছুটা হতাশাজনক ছিল বলে স্বীকার করেছেন গুরনুর। তবে সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই নিউজিল্যান্ডে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। সেখানকার পেস ও বাউন্স সহায়ক উইকেটে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে।

খারাপ সময়েও গুরনুরের পাশে ছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক শুভমন গিলের সমর্থন তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে বলে জানিয়েছেন এই পেসার।

গুরনুরের কথায়, প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য দলের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় দলের পরিবেশও এখন খুব ভালো। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট উইকেটে বোলিং করতে সমস্যায় পড়লেও কোচ তাদের সঠিক লেংথে বল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ড সফরেও একই বার্তা পেয়েছেন তিনি। নিজের শক্তির জায়গায় ভরসা রেখে স্বাধীনভাবে বোলিং করার পরামর্শ দিয়েছেন গম্ভীর। বল চার বা ছক্কা হলেও তাতে বিচলিত না হয়ে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করে যাওয়ার কথা বলেছেন কোচ।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


গতিময় নতুন অস্ত্র পেয়ে গেছে ভারত, ১১ ম্যাচ খেলেই রেকর্ডের পাতায়

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন গতিময় পেস অস্ত্র হিসেবে উঠে আসছেন গুরনুর ব্রার। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মাত্র ১১টি ম্যাচ খেলেই ২১টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন ২৬ বছর বয়সী এই পেসার। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুর্দান্ত বোলিং করে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি। তার পারফরম্যান্সে ভারতের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেও নতুন করে জায়গা করে নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি ওয়ানডে সিরিজে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন গুরনুর। প্রথম দুই ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন সাতটি উইকেট। সিরিজে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনিই। ১০.৫৭ গড়ে সাত উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত বিপর্যস্ত করে দিয়েছেন এই ভারতীয় পেসার।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার বোলিং ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। বৃষ্টির কারণে ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে মাত্র চার রানে জয় পায় ভারত। সেই জয়ের অন্যতম নায়ক গুরনুর। ৩০ রান খরচ করে চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ম্যাচ জেতানো এই পারফরম্যান্সের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে বিশেষ রেকর্ড গড়েছেন।

নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডেতে ভারতীয় বোলারদের সেরা বোলিং পরিসংখ্যানে গুরনুরের ৪/৩০ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তার আগে রয়েছেন মাত্র দু'জন। ১৯৯৪ সালে ওয়েলিংটনে ৩৩ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন অনিল কুম্বলে। ২০০২ সালে অকল্যান্ডে ২৩ রানে চার উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জাভাগাল শ্রীনাথ।

তবে গুরনুরের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুটা ভালোই করেছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সাতটি উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে চারটি উইকেট পেয়েছিলেন। যদিও মাঝেমধ্যে রান খরচের ক্ষেত্রে কিছুটা বেহিসেবি ছিলেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য ছন্দ হারিয়ে ফেলেন গুরনুর। তিন ম্যাচে মাত্র তিনটি উইকেট পেলেও রান দেন অনেক বেশি। গুয়াহাটিতে ৯৬ রান খরচ করে দুটি উইকেট নেন। তিরুবনন্তপুরমে উইকেট না পেয়েই দেন ৬০ রান। মুল্লানপুরে তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১/৬৪।

ওই সিরিজে ব্যাটারদের হাতে বেধড়ক মার খাওয়াটা কিছুটা হতাশাজনক ছিল বলে স্বীকার করেছেন গুরনুর। তবে সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই নিউজিল্যান্ডে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। সেখানকার পেস ও বাউন্স সহায়ক উইকেটে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে।

খারাপ সময়েও গুরনুরের পাশে ছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক শুভমন গিলের সমর্থন তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে বলে জানিয়েছেন এই পেসার।

গুরনুরের কথায়, প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য দলের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় দলের পরিবেশও এখন খুব ভালো। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট উইকেটে বোলিং করতে সমস্যায় পড়লেও কোচ তাদের সঠিক লেংথে বল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ড সফরেও একই বার্তা পেয়েছেন তিনি। নিজের শক্তির জায়গায় ভরসা রেখে স্বাধীনভাবে বোলিং করার পরামর্শ দিয়েছেন গম্ভীর। বল চার বা ছক্কা হলেও তাতে বিচলিত না হয়ে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করে যাওয়ার কথা বলেছেন কোচ।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক: তাবিবুর রহমান তালুকদার
প্রকাশক: জিন্নাহ ফারুক
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ