মুন টাইমস নিউজ

বিখ্যাত খাবার

ঐতিহ্য, স্বাদ ও সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয়

গাইবান্ধা জেলার বিখ্যাত খাবার

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
গাইবান্ধা জেলার বিখ্যাত খাবার

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা গাইবান্ধা। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীবিধৌত এই জেলার রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা। কৃষিপণ্য, নদ-নদী এবং লোকজ ঐতিহ্যের পাশাপাশি গাইবান্ধা দেশজুড়ে পরিচিত তার বিখ্যাত রসমঞ্জুরির জন্য। এছাড়াও এখানকার সিদল, দেশি মাছ, শীতকালীন পিঠাপুলি ও বিভিন্ন গ্রামীণ খাবার স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক গাইবান্ধা জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।

১. গাইবান্ধার বিখ্যাত রসমঞ্জুরি

গাইবান্ধা জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার হলো রসমঞ্জুরি। এই মিষ্টির নাম শুনলেই মিষ্টিপ্রেমীদের মনে পড়ে গাইবান্ধার কথা। এটি জেলার অন্যতম পরিচিত খাদ্যপণ্য এবং গাইবান্ধার পরিচিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রসমঞ্জুরি তৈরি করা হয় খাঁটি দুধ, ছানা ও চিনি দিয়ে। ছোট ছোট গোলাকার ছানার মিষ্টি ঘন দুধের ক্ষীরের মধ্যে ডুবিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মিষ্টান্ন। মুখে দিলেই মিষ্টির নরম গঠন ও ঘন দুধের স্বাদ পাওয়া যায়।

১৯৪৮ সালে গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোডের রমেশ সুইটসে রমেশ চন্দ্র ঘোষের উদ্যোগে রসমঞ্জুরি তৈরির প্রচলন শুরু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ধীরে ধীরে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বর্তমানে দেশের বাইরেও গাইবান্ধার রসমঞ্জুরি পাঠানো হয়।

গাইবান্ধায় গেলে রসমঞ্জুরির স্বাদ না নিয়ে ফিরে আসা যেন ভ্রমণের একটি বড় অপূর্ণতা।

২. সিদল ভর্তা

গাইবান্ধার গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির একটি পরিচিত খাবার হলো সিদল ভর্তা। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই খাবার স্থানীয় মানুষের কাছে বেশ পরিচিত।

বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি মাছের সিদল পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা করা হয়। এর ঝাঁঝালো ঘ্রাণ ও ঝাল স্বাদ খাবারটিকে করে তোলে বিশেষ আকর্ষণীয়।

গরম ভাতের সঙ্গে সিদল ভর্তা খাওয়ার স্বাদ অনেকের কাছেই প্রিয়।

৩. তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের দেশি মাছ

গাইবান্ধার খাদ্যসংস্কৃতিতে নদীর মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে পাওয়া যায় নানা ধরনের মাছ।

উল্লেখযোগ্য মাছের মধ্যে রয়েছে:

  • বোয়াল
  • আইড়
  • শোল
  • টাকি
  • পুঁটি
  • টেংরা
  • শিং
  • মাগুর

এসব মাছ দিয়ে তৈরি হয় মাছের ঝোল, ভাজা, সরিষার তরকারি ও টক মাছ। গরম ভাতের সঙ্গে দেশি মাছের ঝোল গাইবান্ধার গ্রামীণ খাবারের অন্যতম আকর্ষণ।

৪. খেজুরের রস ও খেজুরের গুড়

শীতকালে গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস ও গুড়ের বিশেষ কদর রয়েছে। ভোরে খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা টাটকা রস অনেকেই পান করতে পছন্দ করেন।

এই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু খেজুরের গুড় ও পাটালি। খেজুরের গুড় দিয়ে পায়েস, পিঠা, মোয়া ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়।

৫. শীতকালীন পিঠাপুলি

গাইবান্ধার গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে পিঠাপুলির বিশেষ স্থান রয়েছে। শীত এলেই জেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা।

উল্লেখযোগ্য পিঠাগুলো হলো:

  • ভাপা পিঠা
  • চিতই পিঠা
  • পাটিসাপটা
  • দুধচিতই
  • তেলের পিঠা
  • নকশি পিঠা
  • নারকেলের পুলি পিঠা

চালের গুঁড়া, নারকেল, দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি এসব পিঠা বাঙালির ঐতিহ্য বহন করে।

৬. গাইবান্ধার ভুট্টা

গাইবান্ধা কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে ভুট্টা উৎপাদনের জন্যও পরিচিত। বিশেষ করে চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

ভুট্টা সেদ্ধ, ভুট্টা পোড়া এবং বিভিন্ন ধরনের ভুট্টার নাশতা স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত। গরম ভুট্টা সামান্য লবণ ও মরিচ দিয়ে খেতে বেশ ভালো লাগে।

গাইবান্ধার জেলা ব্র্যান্ডিংয়েও রসমঞ্জুরির পাশাপাশি ভুট্টা ও মরিচকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৭. গরুর মাংসের ভুনা

গাইবান্ধার গ্রামীণ খাবারের মধ্যে গরুর মাংসের ভুনা বেশ পরিচিত। বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক দাওয়াত ও বিশেষ আয়োজনে এই খাবার রান্না করা হয়।

পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ ও দেশীয় মসলায় ধীরে ধীরে রান্না করা মাংসের ভুনা গরম ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।

৮. দেশি মুরগির ঝোল

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে দেশি মুরগির ঝোল অন্যতম। গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রামীণ পরিবারেও দেশি মুরগি দিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নানা পদ রান্না করা হয়।

আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও দেশীয় মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই খাবার গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

৯. মুড়ি-মাখা ও চিড়া-গুড়

গাইবান্ধার গ্রামীণ মানুষের পরিচিত নাশতার মধ্যে মুড়ি-মাখা ও চিড়া-গুড় উল্লেখযোগ্য।

মুড়ির সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, সরিষার তেল ও চানাচুর মিশিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু মুড়ি-মাখা। অন্যদিকে দুধ, কলা কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে চিড়া খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

সহজ উপকরণে তৈরি এসব খাবার বিকেলের নাশতায় বেশ জনপ্রিয়।

১০. দুধের পায়েস ও ক্ষীর

দুধ, চাল, চিনি কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস ও ক্ষীর বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। গাইবান্ধার বিভিন্ন পরিবারেও বিয়ে, জন্মদিন ও ধর্মীয় উৎসবে এসব খাবার তৈরি করা হয়।

বিশেষ করে ঘন দুধে রান্না করা চালের পায়েসের সঙ্গে খেজুরের গুড়ের সমন্বয় খাবারটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।

১১. বিভিন্ন ধরনের ভর্তা

গাইবান্ধার গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে বিভিন্ন ধরনের ভর্তার প্রচলন রয়েছে। সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি হলেও এসব খাবারের স্বাদ অসাধারণ।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ভর্তা হলো:

  • আলুভর্তা
  • বেগুনভর্তা
  • শুঁটকিভর্তা
  • ডালভর্তা
  • মরিচভর্তা
  • সরিষার ভর্তা

গরম ভাতের সঙ্গে এসব ভর্তা উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাবারের একটি পরিচিত অংশ।

গাইবান্ধার খাবারের বিশেষত্ব

গাইবান্ধার খাদ্যসংস্কৃতির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:

১. ঐতিহ্যবাহী রসমঞ্জুরি মিষ্টি।

২. উত্তরবঙ্গের পরিচিত সিদল ভর্তা।

৩. তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের দেশি মাছ।

৪. শীতকালীন খেজুরের রস ও গুড়।

৫. বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি ও গ্রামীণ নাশতা।

৬. চরাঞ্চলের ভুট্টা ও মরিচের ব্যবহার।

৭. দেশীয় উপকরণে তৈরি ভর্তা, মাছ ও মাংসের নানা পদ।

গাইবান্ধা জেলা শুধু নদ-নদী, কৃষি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং নিজস্ব খাদ্যঐতিহ্যের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। বিশেষ করে গাইবান্ধার রসমঞ্জুরি এ জেলার পরিচিতিকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি সিদল ভর্তা, দেশি মাছ, খেজুরের গুড়, ভুট্টা ও শীতকালীন পিঠাপুলি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।

একটি অঞ্চলের খাবার শুধু স্বাদের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষি ও সামাজিক জীবন। গাইবান্ধার খাবারের মধ্যেও রয়েছে উত্তরবঙ্গের মাটির ঘ্রাণ, আন্তরিকতা এবং চিরচেনা গ্রামবাংলার স্বাদ।

তাই গাইবান্ধা ভ্রমণে গেলে অবশ্যই স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী রসমঞ্জুরির স্বাদ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সিদল ভর্তা ও দেশি মাছের নানা পদ উপভোগ করলে গাইবান্ধার খাদ্যসংস্কৃতির একটি সুন্দর পরিচয় পাওয়া যাবে।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


গাইবান্ধা জেলার বিখ্যাত খাবার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা গাইবান্ধা। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীবিধৌত এই জেলার রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা। কৃষিপণ্য, নদ-নদী এবং লোকজ ঐতিহ্যের পাশাপাশি গাইবান্ধা দেশজুড়ে পরিচিত তার বিখ্যাত রসমঞ্জুরির জন্য। এছাড়াও এখানকার সিদল, দেশি মাছ, শীতকালীন পিঠাপুলি ও বিভিন্ন গ্রামীণ খাবার স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক গাইবান্ধা জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।

১. গাইবান্ধার বিখ্যাত রসমঞ্জুরি

গাইবান্ধা জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার হলো রসমঞ্জুরি। এই মিষ্টির নাম শুনলেই মিষ্টিপ্রেমীদের মনে পড়ে গাইবান্ধার কথা। এটি জেলার অন্যতম পরিচিত খাদ্যপণ্য এবং গাইবান্ধার পরিচিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রসমঞ্জুরি তৈরি করা হয় খাঁটি দুধ, ছানা ও চিনি দিয়ে। ছোট ছোট গোলাকার ছানার মিষ্টি ঘন দুধের ক্ষীরের মধ্যে ডুবিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মিষ্টান্ন। মুখে দিলেই মিষ্টির নরম গঠন ও ঘন দুধের স্বাদ পাওয়া যায়।

১৯৪৮ সালে গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোডের রমেশ সুইটসে রমেশ চন্দ্র ঘোষের উদ্যোগে রসমঞ্জুরি তৈরির প্রচলন শুরু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ধীরে ধীরে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বর্তমানে দেশের বাইরেও গাইবান্ধার রসমঞ্জুরি পাঠানো হয়।

গাইবান্ধায় গেলে রসমঞ্জুরির স্বাদ না নিয়ে ফিরে আসা যেন ভ্রমণের একটি বড় অপূর্ণতা।

২. সিদল ভর্তা

গাইবান্ধার গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির একটি পরিচিত খাবার হলো সিদল ভর্তা। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই খাবার স্থানীয় মানুষের কাছে বেশ পরিচিত।

বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি মাছের সিদল পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা করা হয়। এর ঝাঁঝালো ঘ্রাণ ও ঝাল স্বাদ খাবারটিকে করে তোলে বিশেষ আকর্ষণীয়।

গরম ভাতের সঙ্গে সিদল ভর্তা খাওয়ার স্বাদ অনেকের কাছেই প্রিয়।

৩. তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের দেশি মাছ

গাইবান্ধার খাদ্যসংস্কৃতিতে নদীর মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে পাওয়া যায় নানা ধরনের মাছ।

উল্লেখযোগ্য মাছের মধ্যে রয়েছে:

  • বোয়াল
  • আইড়
  • শোল
  • টাকি
  • পুঁটি
  • টেংরা
  • শিং
  • মাগুর

এসব মাছ দিয়ে তৈরি হয় মাছের ঝোল, ভাজা, সরিষার তরকারি ও টক মাছ। গরম ভাতের সঙ্গে দেশি মাছের ঝোল গাইবান্ধার গ্রামীণ খাবারের অন্যতম আকর্ষণ।

৪. খেজুরের রস ও খেজুরের গুড়

শীতকালে গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস ও গুড়ের বিশেষ কদর রয়েছে। ভোরে খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা টাটকা রস অনেকেই পান করতে পছন্দ করেন।

এই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু খেজুরের গুড় ও পাটালি। খেজুরের গুড় দিয়ে পায়েস, পিঠা, মোয়া ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়।

৫. শীতকালীন পিঠাপুলি

গাইবান্ধার গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে পিঠাপুলির বিশেষ স্থান রয়েছে। শীত এলেই জেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা।

উল্লেখযোগ্য পিঠাগুলো হলো:

  • ভাপা পিঠা
  • চিতই পিঠা
  • পাটিসাপটা
  • দুধচিতই
  • তেলের পিঠা
  • নকশি পিঠা
  • নারকেলের পুলি পিঠা

চালের গুঁড়া, নারকেল, দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি এসব পিঠা বাঙালির ঐতিহ্য বহন করে।

৬. গাইবান্ধার ভুট্টা

গাইবান্ধা কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে ভুট্টা উৎপাদনের জন্যও পরিচিত। বিশেষ করে চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

ভুট্টা সেদ্ধ, ভুট্টা পোড়া এবং বিভিন্ন ধরনের ভুট্টার নাশতা স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত। গরম ভুট্টা সামান্য লবণ ও মরিচ দিয়ে খেতে বেশ ভালো লাগে।

গাইবান্ধার জেলা ব্র্যান্ডিংয়েও রসমঞ্জুরির পাশাপাশি ভুট্টা ও মরিচকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৭. গরুর মাংসের ভুনা

গাইবান্ধার গ্রামীণ খাবারের মধ্যে গরুর মাংসের ভুনা বেশ পরিচিত। বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক দাওয়াত ও বিশেষ আয়োজনে এই খাবার রান্না করা হয়।

পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ ও দেশীয় মসলায় ধীরে ধীরে রান্না করা মাংসের ভুনা গরম ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।

৮. দেশি মুরগির ঝোল

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে দেশি মুরগির ঝোল অন্যতম। গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রামীণ পরিবারেও দেশি মুরগি দিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নানা পদ রান্না করা হয়।

আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও দেশীয় মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই খাবার গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

৯. মুড়ি-মাখা ও চিড়া-গুড়

গাইবান্ধার গ্রামীণ মানুষের পরিচিত নাশতার মধ্যে মুড়ি-মাখা ও চিড়া-গুড় উল্লেখযোগ্য।

মুড়ির সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, সরিষার তেল ও চানাচুর মিশিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু মুড়ি-মাখা। অন্যদিকে দুধ, কলা কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে চিড়া খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

সহজ উপকরণে তৈরি এসব খাবার বিকেলের নাশতায় বেশ জনপ্রিয়।

১০. দুধের পায়েস ও ক্ষীর

দুধ, চাল, চিনি কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস ও ক্ষীর বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। গাইবান্ধার বিভিন্ন পরিবারেও বিয়ে, জন্মদিন ও ধর্মীয় উৎসবে এসব খাবার তৈরি করা হয়।

বিশেষ করে ঘন দুধে রান্না করা চালের পায়েসের সঙ্গে খেজুরের গুড়ের সমন্বয় খাবারটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।

১১. বিভিন্ন ধরনের ভর্তা

গাইবান্ধার গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে বিভিন্ন ধরনের ভর্তার প্রচলন রয়েছে। সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি হলেও এসব খাবারের স্বাদ অসাধারণ।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ভর্তা হলো:

  • আলুভর্তা
  • বেগুনভর্তা
  • শুঁটকিভর্তা
  • ডালভর্তা
  • মরিচভর্তা
  • সরিষার ভর্তা

গরম ভাতের সঙ্গে এসব ভর্তা উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাবারের একটি পরিচিত অংশ।

গাইবান্ধার খাবারের বিশেষত্ব

গাইবান্ধার খাদ্যসংস্কৃতির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:

১. ঐতিহ্যবাহী রসমঞ্জুরি মিষ্টি।

২. উত্তরবঙ্গের পরিচিত সিদল ভর্তা।

৩. তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের দেশি মাছ।

৪. শীতকালীন খেজুরের রস ও গুড়।

৫. বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি ও গ্রামীণ নাশতা।

৬. চরাঞ্চলের ভুট্টা ও মরিচের ব্যবহার।

৭. দেশীয় উপকরণে তৈরি ভর্তা, মাছ ও মাংসের নানা পদ।

গাইবান্ধা জেলা শুধু নদ-নদী, কৃষি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং নিজস্ব খাদ্যঐতিহ্যের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। বিশেষ করে গাইবান্ধার রসমঞ্জুরি এ জেলার পরিচিতিকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি সিদল ভর্তা, দেশি মাছ, খেজুরের গুড়, ভুট্টা ও শীতকালীন পিঠাপুলি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।

একটি অঞ্চলের খাবার শুধু স্বাদের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষি ও সামাজিক জীবন। গাইবান্ধার খাবারের মধ্যেও রয়েছে উত্তরবঙ্গের মাটির ঘ্রাণ, আন্তরিকতা এবং চিরচেনা গ্রামবাংলার স্বাদ।

তাই গাইবান্ধা ভ্রমণে গেলে অবশ্যই স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী রসমঞ্জুরির স্বাদ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সিদল ভর্তা ও দেশি মাছের নানা পদ উপভোগ করলে গাইবান্ধার খাদ্যসংস্কৃতির একটি সুন্দর পরিচয় পাওয়া যাবে।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক: তাবিবুর রহমান তালুকদার
প্রকাশক: জিন্নাহ ফারুক
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ