বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা নীলফামারী। ভাওয়াইয়া গান, তিস্তা নদী, নীলসাগর, সৈয়দপুরের রেলওয়ে ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির জন্য এ জেলা পরিচিত। তবে নীলফামারীর আরেকটি আকর্ষণ হলো এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে ডোমারের সন্দেশ, সৈয়দপুরের মিঠাই, সিদল, পেলকা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পিঠাপুলি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক নীলফামারী জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।
নীলফামারী জেলার সবচেয়ে পরিচিত মিষ্টান্নগুলোর মধ্যে ডোমারের সন্দেশ অন্যতম। ডোমার উপজেলার এই সন্দেশের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
খাঁটি দুধের ছানা ও চিনি দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মিষ্টি। এর নরম গঠন, মিষ্টি স্বাদ এবং বিশেষ ঘ্রাণ মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। বিয়ে, জন্মদিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অতিথি আপ্যায়নে ডোমারের সন্দেশের বিশেষ কদর রয়েছে।
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের একটি পরিচিত ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি হলো মন্সুরি মিঠাই। এটি স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়।
বেসন, ছোলার ডাল ও চিনি দিয়ে তৈরি করা হয় এই মিঠাই। এর স্বাদ ও প্রস্তুতপ্রণালিতে রয়েছে বিশেষত্ব। সৈয়দপুরের মিষ্টির দোকানগুলোতে এই মিঠাই পাওয়া যায়। স্থানীয় ঐতিহ্য ও পুরোনো খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি।
নীলফামারীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো সিদল। বিশেষ করে জেলার গ্রামীণ জনপদে একসময় সিদল তৈরির প্রচলন ছিল ব্যাপক।
দেশি পুঁটি ও দারিকাসহ ছোট মাছ শুকিয়ে কচুর ডাঁটা, রসুন, আদা, মরিচ ও অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে সিদল তৈরি করা হয়। এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করেও খাওয়া যায়।
সিদল দিয়ে ভর্তা, ভাজা কিংবা তরকারি রান্না করা হয়। ঝাঁঝালো ঘ্রাণ ও বিশেষ স্বাদের কারণে গরম ভাতের সঙ্গে সিদল বেশ উপভোগ্য। এটি নীলফামারীর হারিয়ে যেতে বসা খাদ্যঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নীলফামারীর অন্যতম পরিচিত আঞ্চলিক খাবার হলো পেলকা। এটি উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির একটি বিশেষ পদ।
পেলকা সাধারণত স্থানীয় উপকরণ ও প্রচলিত রন্ধনপদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এর বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রস্তুতপ্রণালি রয়েছে। গ্রামীণ মানুষের কাছে এটি পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। নীলফামারীর স্থানীয় খাবারের তালিকায় পেলকার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সিদল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবারের মধ্যে শিদল পোড়া ও শিদল ভর্তা বেশ জনপ্রিয়। সিদল আগুনে পুড়িয়ে অথবা পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা তৈরি করা হয়।
অনেক পরিবারে অতিথি আপ্যায়নেও এই খাবার পরিবেশন করা হয়। বিশেষ করে গরম ভাতের সঙ্গে শিদল ভর্তার স্বাদ উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত।
নীলফামারীর লোকজ খাদ্যসংস্কৃতির আরেকটি বিশেষ খাবার হলো নাখখোরিশানা। শোল বা টাকি মাছের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এই খাবার স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
দেশীয় উপকরণ ও বিশেষ রন্ধনপদ্ধতিতে তৈরি হওয়ায় খাবারটির স্বাদে রয়েছে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য। নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে এই পদটির নাম উল্লেখযোগ্য।
নীলফামারীর ডিমলা ও চিলাহাটি অঞ্চলে চালের গুঁড়ার সেমাই নাড়ুর প্রচলন রয়েছে। স্থানীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি এই খাবার গ্রামীণ খাদ্যঐতিহ্যের একটি পরিচিত অংশ।
বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও অতিথি আপ্যায়নে এ ধরনের মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়।
নীলফামারীর খাদ্যসংস্কৃতিতে তিস্তা নদী ও আশপাশের জলাশয়ের মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু সব পদ।
উল্লেখযোগ্য মাছের মধ্যে রয়েছে:
এসব মাছ দিয়ে ঝোল, ভাজা, টক ও সরিষার তরকারি তৈরি করা হয়। গরম ভাতের সঙ্গে দেশি মাছের ঝোল গ্রামীণ মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
শীতকালে নীলফামারীর গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহ করে তৈরি করা হয় খেজুরের গুড় ও পাটালি। এই গুড় দিয়ে নানা ধরনের পিঠা, পায়েস ও মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়।
শীতের সকালে গরম ভাপা পিঠার সঙ্গে খেজুরের গুড় খাওয়ার আনন্দই আলাদা। এটি উত্তরবঙ্গের শীতকালীন খাদ্যসংস্কৃতির একটি পরিচিত অংশ।
নীলফামারীর গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে পিঠাপুলির বিশেষ স্থান রয়েছে। শীতকালে বাড়িতে বাড়িতে নানা ধরনের পিঠা তৈরি করা হয়।
উল্লেখযোগ্য পিঠাগুলো হলো:
চালের গুঁড়া, নারকেল, দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি এসব পিঠা বাঙালির ঐতিহ্য বহন করে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে বিভিন্ন ধরনের মাংসের চাপ ও কাবাব পাওয়া যায়। স্থানীয় খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোতে এসব খাবারের জনপ্রিয়তা রয়েছে।
মসলা দিয়ে মেরিনেট করা মাংস আগুনে বা তাপে রান্না করে তৈরি করা হয় চাপ ও কাবাব। রুটি, পরোটা কিংবা নানরুটির সঙ্গে এসব খাবার খেতে বেশ ভালো লাগে।
দুধ, চাল, চিনি কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস ও ক্ষীর বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। নীলফামারীর বিভিন্ন গ্রামীণ পরিবারেও বিয়ে, জন্মদিন ও উৎসবের আয়োজনে এসব খাবার তৈরি করা হয়।
ঘন দুধে রান্না করা পায়েসের সঙ্গে খেজুরের গুড়ের সমন্বয় খাবারটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।
নীলফামারীর খাদ্যসংস্কৃতির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:
১. ডোমারের ঐতিহ্যবাহী সন্দেশ।
২. সৈয়দপুরের মন্সুরি মিঠাই।
৩. সিদল ও শিদল ভর্তার মতো আঞ্চলিক খাবার।
৪. পেলকা ও নাখখোরিশানার মতো লোকজ খাবার।
৫. তিস্তা নদী ও স্থানীয় জলাশয়ের দেশি মাছ।
৬. শীতকালীন খেজুরের গুড় ও পিঠাপুলি।
৭. সৈয়দপুরের চাপ ও কাবাবের মতো জনপ্রিয় খাবার।
নীলফামারী জেলা শুধু ভাওয়াইয়া গান, তিস্তা নদী কিংবা ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্যই পরিচিত নয়; বরং এখানকার খাদ্যসংস্কৃতিও বেশ সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। ডোমারের সন্দেশ, সৈয়দপুরের মন্সুরি মিঠাই, সিদল, পেলকা, নাখখোরিশানা এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি এ জেলার নিজস্ব ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
একটি অঞ্চলের খাবার সেই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। নীলফামারীর খাবারের মধ্যেও রয়েছে উত্তরবঙ্গের মাটির ঘ্রাণ, গ্রামীণ জীবনের সরলতা এবং ঐতিহ্যের স্বাদ।
তাই নীলফামারী ভ্রমণে গেলে ডোমারের সন্দেশ, সৈয়দপুরের মন্সুরি মিঠাই এবং স্থানীয় সিদল ও পেলকার স্বাদ নেওয়া হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আনন্দময় অভিজ্ঞতা।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা নীলফামারী। ভাওয়াইয়া গান, তিস্তা নদী, নীলসাগর, সৈয়দপুরের রেলওয়ে ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির জন্য এ জেলা পরিচিত। তবে নীলফামারীর আরেকটি আকর্ষণ হলো এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে ডোমারের সন্দেশ, সৈয়দপুরের মিঠাই, সিদল, পেলকা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পিঠাপুলি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক নীলফামারী জেলার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার সম্পর্কে।
নীলফামারী জেলার সবচেয়ে পরিচিত মিষ্টান্নগুলোর মধ্যে ডোমারের সন্দেশ অন্যতম। ডোমার উপজেলার এই সন্দেশের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
খাঁটি দুধের ছানা ও চিনি দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মিষ্টি। এর নরম গঠন, মিষ্টি স্বাদ এবং বিশেষ ঘ্রাণ মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। বিয়ে, জন্মদিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অতিথি আপ্যায়নে ডোমারের সন্দেশের বিশেষ কদর রয়েছে।
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের একটি পরিচিত ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি হলো মন্সুরি মিঠাই। এটি স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়।
বেসন, ছোলার ডাল ও চিনি দিয়ে তৈরি করা হয় এই মিঠাই। এর স্বাদ ও প্রস্তুতপ্রণালিতে রয়েছে বিশেষত্ব। সৈয়দপুরের মিষ্টির দোকানগুলোতে এই মিঠাই পাওয়া যায়। স্থানীয় ঐতিহ্য ও পুরোনো খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি।
নীলফামারীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো সিদল। বিশেষ করে জেলার গ্রামীণ জনপদে একসময় সিদল তৈরির প্রচলন ছিল ব্যাপক।
দেশি পুঁটি ও দারিকাসহ ছোট মাছ শুকিয়ে কচুর ডাঁটা, রসুন, আদা, মরিচ ও অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে সিদল তৈরি করা হয়। এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করেও খাওয়া যায়।
সিদল দিয়ে ভর্তা, ভাজা কিংবা তরকারি রান্না করা হয়। ঝাঁঝালো ঘ্রাণ ও বিশেষ স্বাদের কারণে গরম ভাতের সঙ্গে সিদল বেশ উপভোগ্য। এটি নীলফামারীর হারিয়ে যেতে বসা খাদ্যঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নীলফামারীর অন্যতম পরিচিত আঞ্চলিক খাবার হলো পেলকা। এটি উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির একটি বিশেষ পদ।
পেলকা সাধারণত স্থানীয় উপকরণ ও প্রচলিত রন্ধনপদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এর বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রস্তুতপ্রণালি রয়েছে। গ্রামীণ মানুষের কাছে এটি পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। নীলফামারীর স্থানীয় খাবারের তালিকায় পেলকার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সিদল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবারের মধ্যে শিদল পোড়া ও শিদল ভর্তা বেশ জনপ্রিয়। সিদল আগুনে পুড়িয়ে অথবা পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা তৈরি করা হয়।
অনেক পরিবারে অতিথি আপ্যায়নেও এই খাবার পরিবেশন করা হয়। বিশেষ করে গরম ভাতের সঙ্গে শিদল ভর্তার স্বাদ উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত।
নীলফামারীর লোকজ খাদ্যসংস্কৃতির আরেকটি বিশেষ খাবার হলো নাখখোরিশানা। শোল বা টাকি মাছের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এই খাবার স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
দেশীয় উপকরণ ও বিশেষ রন্ধনপদ্ধতিতে তৈরি হওয়ায় খাবারটির স্বাদে রয়েছে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য। নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে এই পদটির নাম উল্লেখযোগ্য।
নীলফামারীর ডিমলা ও চিলাহাটি অঞ্চলে চালের গুঁড়ার সেমাই নাড়ুর প্রচলন রয়েছে। স্থানীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি এই খাবার গ্রামীণ খাদ্যঐতিহ্যের একটি পরিচিত অংশ।
বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও অতিথি আপ্যায়নে এ ধরনের মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়।
নীলফামারীর খাদ্যসংস্কৃতিতে তিস্তা নদী ও আশপাশের জলাশয়ের মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু সব পদ।
উল্লেখযোগ্য মাছের মধ্যে রয়েছে:
এসব মাছ দিয়ে ঝোল, ভাজা, টক ও সরিষার তরকারি তৈরি করা হয়। গরম ভাতের সঙ্গে দেশি মাছের ঝোল গ্রামীণ মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
শীতকালে নীলফামারীর গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস সংগ্রহ করে তৈরি করা হয় খেজুরের গুড় ও পাটালি। এই গুড় দিয়ে নানা ধরনের পিঠা, পায়েস ও মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়।
শীতের সকালে গরম ভাপা পিঠার সঙ্গে খেজুরের গুড় খাওয়ার আনন্দই আলাদা। এটি উত্তরবঙ্গের শীতকালীন খাদ্যসংস্কৃতির একটি পরিচিত অংশ।
নীলফামারীর গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে পিঠাপুলির বিশেষ স্থান রয়েছে। শীতকালে বাড়িতে বাড়িতে নানা ধরনের পিঠা তৈরি করা হয়।
উল্লেখযোগ্য পিঠাগুলো হলো:
চালের গুঁড়া, নারকেল, দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি এসব পিঠা বাঙালির ঐতিহ্য বহন করে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে বিভিন্ন ধরনের মাংসের চাপ ও কাবাব পাওয়া যায়। স্থানীয় খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোতে এসব খাবারের জনপ্রিয়তা রয়েছে।
মসলা দিয়ে মেরিনেট করা মাংস আগুনে বা তাপে রান্না করে তৈরি করা হয় চাপ ও কাবাব। রুটি, পরোটা কিংবা নানরুটির সঙ্গে এসব খাবার খেতে বেশ ভালো লাগে।
দুধ, চাল, চিনি কিংবা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস ও ক্ষীর বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। নীলফামারীর বিভিন্ন গ্রামীণ পরিবারেও বিয়ে, জন্মদিন ও উৎসবের আয়োজনে এসব খাবার তৈরি করা হয়।
ঘন দুধে রান্না করা পায়েসের সঙ্গে খেজুরের গুড়ের সমন্বয় খাবারটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।
নীলফামারীর খাদ্যসংস্কৃতির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:
১. ডোমারের ঐতিহ্যবাহী সন্দেশ।
২. সৈয়দপুরের মন্সুরি মিঠাই।
৩. সিদল ও শিদল ভর্তার মতো আঞ্চলিক খাবার।
৪. পেলকা ও নাখখোরিশানার মতো লোকজ খাবার।
৫. তিস্তা নদী ও স্থানীয় জলাশয়ের দেশি মাছ।
৬. শীতকালীন খেজুরের গুড় ও পিঠাপুলি।
৭. সৈয়দপুরের চাপ ও কাবাবের মতো জনপ্রিয় খাবার।
নীলফামারী জেলা শুধু ভাওয়াইয়া গান, তিস্তা নদী কিংবা ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্যই পরিচিত নয়; বরং এখানকার খাদ্যসংস্কৃতিও বেশ সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। ডোমারের সন্দেশ, সৈয়দপুরের মন্সুরি মিঠাই, সিদল, পেলকা, নাখখোরিশানা এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি এ জেলার নিজস্ব ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
একটি অঞ্চলের খাবার সেই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। নীলফামারীর খাবারের মধ্যেও রয়েছে উত্তরবঙ্গের মাটির ঘ্রাণ, গ্রামীণ জীবনের সরলতা এবং ঐতিহ্যের স্বাদ।
তাই নীলফামারী ভ্রমণে গেলে ডোমারের সন্দেশ, সৈয়দপুরের মন্সুরি মিঠাই এবং স্থানীয় সিদল ও পেলকার স্বাদ নেওয়া হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আনন্দময় অভিজ্ঞতা।

আপনার মতামত লিখুন