স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। দেশটিতে গত ১৩ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টােবর) সকাল ৯টার পর মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী একটি ট্রেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থল মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে মোরা ও অর্গাজ এলাকার মাঝামাঝি। খবর বিবিসির।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটির পর মানবিক ভুলের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বেসরকারি রেল অপারেটর ইরিও পরিচালিত ট্রেনটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের ট্রেনটিতে ছিলেন ৩৯৭ জন যাত্রী। সংঘর্ষের পর একটি বগিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় বহু অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের তীব্রতায় অনেকে আসন থেকে ছিটকে পড়েন। কেউ ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েন, আবার কেউ জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। উদ্ধারকারীরা কয়েকটি বগিতে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করেন। কিছু নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে স্পেনের সিভিল গার্ড।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, পুরো স্পেন শোকাহত। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্তের আশ্বাস দেন তিনি।
এ ঘটনায় অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বুধবারের নির্বাচনি প্রচারসূচি বাতিল করেছে। প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টিও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে দেশটির শ্রমিক ইউনিয়ন সিএসআইএফ।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্দোবার কাছে আরেকটি দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন। একই রেলপথে এক বছরে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটায় দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্পেনে সর্বশেষ এর চেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০১৩ সালে, যখন সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হন।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। দেশটিতে গত ১৩ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টােবর) সকাল ৯টার পর মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী একটি ট্রেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থল মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে মোরা ও অর্গাজ এলাকার মাঝামাঝি। খবর বিবিসির।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটির পর মানবিক ভুলের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বেসরকারি রেল অপারেটর ইরিও পরিচালিত ট্রেনটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের ট্রেনটিতে ছিলেন ৩৯৭ জন যাত্রী। সংঘর্ষের পর একটি বগিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় বহু অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের তীব্রতায় অনেকে আসন থেকে ছিটকে পড়েন। কেউ ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েন, আবার কেউ জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। উদ্ধারকারীরা কয়েকটি বগিতে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করেন। কিছু নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে স্পেনের সিভিল গার্ড।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, পুরো স্পেন শোকাহত। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্তের আশ্বাস দেন তিনি।
এ ঘটনায় অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বুধবারের নির্বাচনি প্রচারসূচি বাতিল করেছে। প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টিও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে দেশটির শ্রমিক ইউনিয়ন সিএসআইএফ।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্দোবার কাছে আরেকটি দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন। একই রেলপথে এক বছরে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটায় দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্পেনে সর্বশেষ এর চেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০১৩ সালে, যখন সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হন।

আপনার মতামত লিখুন