ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীকে ফের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আগের একটি মামলার জেরে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন সানায়া চৌধুরী।
আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তানজিন তিশাকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সানায়া চৌধুরী গত ২৭ নভেম্বর তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
সানায়ার অভিযোগ, মামলা করার পর থেকে তানজিন তিশা বিভিন্ন সময়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং হুমকি দেন। গত ৭ নভেম্বর মুঠোফোনে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি যদি তোমার পিছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না...’। এ সময় তাঁকে অশালীন ভাষায় হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৫ অক্টোবর নারাজি আবেদন করেন তিনি। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সানায়ার অভিযোগ, তদন্তের এ পর্যায়ে আসামিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পাঠিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তাঁকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এবং থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি নতুন মামলাটি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
শাড়ি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে আগের মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠান বলে দাবি করেন সানায়া। তাঁর অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশা তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
মামলায় আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তবে তখনও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
সানায়ার দাবি, পরে ১০ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোন করে তানজিন তিশা তাঁকে মামলা করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
অন্যদিকে, গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আগের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে নতুন মামলায় আনা হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীকে ফের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আগের একটি মামলার জেরে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন সানায়া চৌধুরী।
আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তানজিন তিশাকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সানায়া চৌধুরী গত ২৭ নভেম্বর তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
সানায়ার অভিযোগ, মামলা করার পর থেকে তানজিন তিশা বিভিন্ন সময়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং হুমকি দেন। গত ৭ নভেম্বর মুঠোফোনে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি যদি তোমার পিছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না...’। এ সময় তাঁকে অশালীন ভাষায় হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৫ অক্টোবর নারাজি আবেদন করেন তিনি। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সানায়ার অভিযোগ, তদন্তের এ পর্যায়ে আসামিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পাঠিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তাঁকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এবং থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি নতুন মামলাটি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
শাড়ি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে আগের মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠান বলে দাবি করেন সানায়া। তাঁর অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশা তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
মামলায় আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তবে তখনও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
সানায়ার দাবি, পরে ১০ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফোন করে তানজিন তিশা তাঁকে মামলা করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
অন্যদিকে, গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আগের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে নতুন মামলায় আনা হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন