বিশ্ববাজারে জ্বালানি, গম, চাল ও ভোজ্য তেলের দাম বাড়তে থাকায় দেশের আমদানি ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যের সামগ্রিক দাম ২৩.১ শতাংশ বাড়তে পারে।
এতে ২০১৩ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে পণ্যমূল্য। আগামী বছর সামগ্রিক পণ্যমূল্য কমার পূর্বাভাস থাকলেও খাদ্যপণ্যের দাম শোধনাগারগুলো যতটা সম্ভব ডিজেল উৎপাদনের জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পিছিয়ে দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। এতে যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি এবং পরিকল্পনার বাইরে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাতে সরবরাহ পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।
বিভিন্ন জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরেছে। তবে জ্বালানি তেল রপ্তানি এখনো সীমিত। জাহাজে হামলা হলে এসব পণ্য বেশি দাহ্য হওয়ায় পারস্য উপসাগর থেকে পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া জ্বালানি সাধারণত তুলনামূলক ছোট ট্যাংকারে পরিবহন করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে শুধু পরিবহনই সমস্যা নয়। যদিও এটিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের হামলায় বাহরাইনের বাপকো এবং সৌদি আরবের জিজানসহ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাপকো বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশে উৎপাদন করছে। তবে সৌদি আরামকোর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল সক্ষমতার জিজান শোধনাগার কয়েক মাসে একাধিকবার হামলার পর এখনো বন্ধ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি সীমিত থাকার পাশাপাশি রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিও কমে গেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার প্রায় অর্ধেক তেল শোধনাগার কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে দেশটিতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে এবং ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে চুক্তির পর রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করে। এর আওতায় প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বা তিন লাখ ব্যারেল অতি নিম্ন সালফারযুক্ত ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার গত সপ্তাহে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমর্স্ক বন্দর ছেড়েছে।
জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কামার এনার্জির প্রধান নির্বাহী রবিন মিলস বলেছেন, আগামী ৭ নভেম্বর প্রথম জাহাজটি নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা। এতে থাকবে মাত্র তিন লাখ ব্যারেল ডিজেল, যা যুক্তরাষ্ট্রের এক দিনের ব্যবহারের এক-দশমাংশেরও কম।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল সরবরাহ চুক্তি বৈশ্বিক সরবরাহ ও দামে সামান্য প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই চুক্তি বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।
এদিকে শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর গোলার্ধে হিটিং অয়েলের চাহিদা বাড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এই চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হবে। এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ বাড়ানোর মতো তাত্ক্ষণিক কোনো বড় উদ্যোগও নেই।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও (আইইএ) অক্টোবরের মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে, ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের বর্তমান সংকট আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি, গম, চাল ও ভোজ্য তেলের দাম বাড়তে থাকায় দেশের আমদানি ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যের সামগ্রিক দাম ২৩.১ শতাংশ বাড়তে পারে।
এতে ২০১৩ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে পণ্যমূল্য। আগামী বছর সামগ্রিক পণ্যমূল্য কমার পূর্বাভাস থাকলেও খাদ্যপণ্যের দাম শোধনাগারগুলো যতটা সম্ভব ডিজেল উৎপাদনের জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পিছিয়ে দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। এতে যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি এবং পরিকল্পনার বাইরে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাতে সরবরাহ পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।
বিভিন্ন জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরেছে। তবে জ্বালানি তেল রপ্তানি এখনো সীমিত। জাহাজে হামলা হলে এসব পণ্য বেশি দাহ্য হওয়ায় পারস্য উপসাগর থেকে পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া জ্বালানি সাধারণত তুলনামূলক ছোট ট্যাংকারে পরিবহন করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে শুধু পরিবহনই সমস্যা নয়। যদিও এটিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের হামলায় বাহরাইনের বাপকো এবং সৌদি আরবের জিজানসহ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাপকো বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশে উৎপাদন করছে। তবে সৌদি আরামকোর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল সক্ষমতার জিজান শোধনাগার কয়েক মাসে একাধিকবার হামলার পর এখনো বন্ধ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি সীমিত থাকার পাশাপাশি রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিও কমে গেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার প্রায় অর্ধেক তেল শোধনাগার কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে দেশটিতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে এবং ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে চুক্তির পর রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করে। এর আওতায় প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বা তিন লাখ ব্যারেল অতি নিম্ন সালফারযুক্ত ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার গত সপ্তাহে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমর্স্ক বন্দর ছেড়েছে।
জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কামার এনার্জির প্রধান নির্বাহী রবিন মিলস বলেছেন, আগামী ৭ নভেম্বর প্রথম জাহাজটি নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা। এতে থাকবে মাত্র তিন লাখ ব্যারেল ডিজেল, যা যুক্তরাষ্ট্রের এক দিনের ব্যবহারের এক-দশমাংশেরও কম।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল সরবরাহ চুক্তি বৈশ্বিক সরবরাহ ও দামে সামান্য প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই চুক্তি বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।
এদিকে শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর গোলার্ধে হিটিং অয়েলের চাহিদা বাড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এই চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হবে। এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ বাড়ানোর মতো তাত্ক্ষণিক কোনো বড় উদ্যোগও নেই।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও (আইইএ) অক্টোবরের মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে, ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের বর্তমান সংকট আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন