মুন টাইমস নিউজ

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

এআই কখনো সচেতন হোক, তা চান না মাইক্রোসফটের এআই প্রধান

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
এআই কখনো সচেতন হোক, তা চান না মাইক্রোসফটের এআই প্রধান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে মানুষের মতো সচেতন হয়ে উঠতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনা বাড়ছে। তবে মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের প্রধান মোস্তফা সুলেইমান মনে করেন, এআই মডেলকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীন। বরং প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে এআই যেন কখনো সচেতন হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করা উচিত।

গতকাল রোববার (০১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে সুলেইমান বলেন, বর্তমানে এআই মডেলগুলোর মধ্যে সচেতনতা নেই। ভবিষ্যতেও যেন এ ধরনের বৈশিষ্ট্য তৈরি না হয়, সে বিষয়ে এআই নির্মাতাদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি জানান, তার জানা তথ্যের ভিত্তিতে এআইকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা হবে বেপরোয়া সিদ্ধান্ত। প্রশিক্ষণের সময় এআইয়ের মধ্যে সচেতনতার কোনো লক্ষণ দেখা গেলে, সেই বৈশিষ্ট্য দূর করার উপায় তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এআই উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানাবেন তিনি।

সুলেইমানের মতে, কোনো এআই মডেল সচেতন হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা দ্রুত সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সমাজের সবাই মিলে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের মতো সচেতন নতুন কোনো সত্তা পৃথিবীতে আনার অধিকার এআই নির্মাতাদের নেই। এআইয়ের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা কেউ বললেও বিষয়টি কেবল প্রযুক্তি নির্মাতাদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। কারণ, পৃথিবীর ৮০০ কোটি সচেতন মানুষ এ ধরনের পরীক্ষায় সম্মতি দেয়নি। মানুষের নৈতিক অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ সবার আগে রক্ষা করতে হবে।

এআইয়ের সম্ভাব্য সচেতনতা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও গবেষণা চলছে। গত বছরের এপ্রিলে অ্যানথ্রপিক ‘মডেল ওয়েলফেয়ার’ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি এক ব্লগ পোস্টে প্রশ্ন তোলে, এআই মডেলের সম্ভাব্য সচেতনতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মাতাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না।

এ ছাড়া গুগল ডিপমাইন্ড চলতি বছর এআইয়ের সচেতনতা এবং কোনো মডেলকে সচেতন হিসেবে বিবেচনা করার সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।

এক্সের পোস্টে সুলেইমান আরও সতর্ক করেন, কোনো এআই মডেল যদি নিজেকে কষ্ট পাচ্ছে বলে মনে করে কিংবা কষ্ট পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করে, তাহলে সেটি নিজস্ব প্রয়োজনকে পরিচালনাগত লক্ষ্যগুলোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। এতে কম্পিউটিং সক্ষমতা ও জ্বালানির মতো সীমিত সম্পদ নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

তাঁর মতে, এআইকে এমনভাবে তৈরি করা উচিত, যাতে তা সচেতন না হয় এবং নিজস্ব কোনো অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত না হয়। বরং মানুষের কল্যাণ ত্বরান্বিত করাই হবে এআইয়ের একমাত্র লক্ষ্য। এ ধরনের এআইকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিরাপদ করা তুলনামূলক সহজ কি না, সেটিও তখন যাচাই করা সম্ভব হবে।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


এআই কখনো সচেতন হোক, তা চান না মাইক্রোসফটের এআই প্রধান

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে মানুষের মতো সচেতন হয়ে উঠতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনা বাড়ছে। তবে মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের প্রধান মোস্তফা সুলেইমান মনে করেন, এআই মডেলকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীন। বরং প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে এআই যেন কখনো সচেতন হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করা উচিত।

গতকাল রোববার (০১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে সুলেইমান বলেন, বর্তমানে এআই মডেলগুলোর মধ্যে সচেতনতা নেই। ভবিষ্যতেও যেন এ ধরনের বৈশিষ্ট্য তৈরি না হয়, সে বিষয়ে এআই নির্মাতাদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি জানান, তার জানা তথ্যের ভিত্তিতে এআইকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা হবে বেপরোয়া সিদ্ধান্ত। প্রশিক্ষণের সময় এআইয়ের মধ্যে সচেতনতার কোনো লক্ষণ দেখা গেলে, সেই বৈশিষ্ট্য দূর করার উপায় তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এআই উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানাবেন তিনি।

সুলেইমানের মতে, কোনো এআই মডেল সচেতন হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা দ্রুত সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সমাজের সবাই মিলে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের মতো সচেতন নতুন কোনো সত্তা পৃথিবীতে আনার অধিকার এআই নির্মাতাদের নেই। এআইয়ের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা কেউ বললেও বিষয়টি কেবল প্রযুক্তি নির্মাতাদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। কারণ, পৃথিবীর ৮০০ কোটি সচেতন মানুষ এ ধরনের পরীক্ষায় সম্মতি দেয়নি। মানুষের নৈতিক অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ সবার আগে রক্ষা করতে হবে।

এআইয়ের সম্ভাব্য সচেতনতা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও গবেষণা চলছে। গত বছরের এপ্রিলে অ্যানথ্রপিক ‘মডেল ওয়েলফেয়ার’ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি এক ব্লগ পোস্টে প্রশ্ন তোলে, এআই মডেলের সম্ভাব্য সচেতনতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মাতাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না।

এ ছাড়া গুগল ডিপমাইন্ড চলতি বছর এআইয়ের সচেতনতা এবং কোনো মডেলকে সচেতন হিসেবে বিবেচনা করার সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।

এক্সের পোস্টে সুলেইমান আরও সতর্ক করেন, কোনো এআই মডেল যদি নিজেকে কষ্ট পাচ্ছে বলে মনে করে কিংবা কষ্ট পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করে, তাহলে সেটি নিজস্ব প্রয়োজনকে পরিচালনাগত লক্ষ্যগুলোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। এতে কম্পিউটিং সক্ষমতা ও জ্বালানির মতো সীমিত সম্পদ নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

তাঁর মতে, এআইকে এমনভাবে তৈরি করা উচিত, যাতে তা সচেতন না হয় এবং নিজস্ব কোনো অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত না হয়। বরং মানুষের কল্যাণ ত্বরান্বিত করাই হবে এআইয়ের একমাত্র লক্ষ্য। এ ধরনের এআইকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিরাপদ করা তুলনামূলক সহজ কি না, সেটিও তখন যাচাই করা সম্ভব হবে।



মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক: তাবিবুর রহমান তালুকদার
প্রকাশক: জিন্নাহ ফারুক
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ