বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জনপ্রিয় পর্যটন জেলা কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত এই জেলার রয়েছে সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি, লইট্টা মাছ, চিংড়ি, কোরাল মাছ, রূপচাঁদা এবং বিভিন্ন ধরনের পাহাড়ি ও উপকূলীয় খাবারের জন্য কক্সবাজার দেশজুড়ে পরিচিত।
কক্সবাজারের খাবারের স্বাদে মিশে আছে সমুদ্র, পাহাড় ও উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা। এখানকার খাবারে সামুদ্রিক মাছ, দেশীয় মসলা, নারকেল এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। পর্যটকদের কাছেও স্থানীয় খাবারের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কক্সবাজার জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।
কক্সবাজারের সবচেয়ে পরিচিত খাবার ও খাদ্যপণ্যের মধ্যে শুঁটকি অন্যতম। সমুদ্র থেকে আহরিত বিভিন্ন ধরনের মাছ রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুঁটকি।
কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি মহালের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি ও বাজারজাত করা হয়।
লোইট্টা, ছুরি, চিংড়ি, ফাইস্যা, রূপচাঁদা ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি বেশ পরিচিত।
শুঁটকি দিয়ে ভর্তা, ঝোল ও বিভিন্ন ধরনের তরকারি রান্না করা হয়। পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে তৈরি শুঁটকি ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।
কক্সবাজারের জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে লইট্টা শুঁটকির ভর্তা অন্যতম। লইট্টা মাছ শুকিয়ে তৈরি করা হয় এই শুঁটকি।
শুঁটকি ভালোভাবে পরিষ্কার করে পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা তৈরি করা হয়।
এর ঝাঁঝালো ঘ্রাণ ও মসলাদার স্বাদ খাবারটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তোলে। গরম ভাতের সঙ্গে লইট্টা শুঁটকির ভর্তা স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়।
কক্সবাজারের সামুদ্রিক খাবারের তালিকায় কোরাল মাছের বিশেষ স্থান রয়েছে। সামুদ্রিক এই মাছ স্বাদ ও গঠনের কারণে অনেকের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
কোরাল মাছ দিয়ে তৈরি করা হয় মাছ ভাজা, মাছের ঝোল, কালিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের মসলাদার রান্না।
কক্সবাজারের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কোরাল মাছের নানা পদ পাওয়া যায়। গরম ভাতের সঙ্গে কোরাল মাছের ঝোল পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় খাবার।
কক্সবাজারের অন্যতম জনপ্রিয় সামুদ্রিক খাবার হলো রূপচাঁদা মাছ ভাজা। রূপচাঁদা মাছের স্বাদ ও নরম মাংসের কারণে এটি ভোজনরসিকদের কাছে বেশ পছন্দের।
হলুদ, মরিচ ও লবণ মাখিয়ে তেলে ভেজে তৈরি করা হয় এই খাবার। কোনো কোনো রেস্তোরাঁয় বিশেষ মসলা দিয়েও রূপচাঁদা মাছ রান্না করা হয়।
সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পর্যটকদের জন্য রূপচাঁদা মাছের নানা পদ পরিবেশন করা হয়।
কক্সবাজারের উপকূলীয় খাদ্যসংস্কৃতিতে চিংড়ি মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন আকার ও প্রজাতির চিংড়ি দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার।
চিংড়ি ভুনা, চিংড়ি ভর্তা, চিংড়ি মালাইকারি, চিংড়ি দিয়ে সবজি এবং নারকেলের দুধে রান্না করা চিংড়ি বেশ জনপ্রিয়।
বিশেষ করে পর্যটন এলাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় চিংড়ির নানা পদ পাওয়া যায়।
কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের আরেকটি পরিচিত সামুদ্রিক খাবার হলো কাঁকড়া ভুনা। কাঁকড়া বিভিন্ন দেশীয় মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মরিচ দিয়ে রান্না করা হয়।
মসলার সঙ্গে কাঁকড়ার স্বাদ মিশে তৈরি হয় একটি সুস্বাদু খাবার। কক্সবাজারের বিভিন্ন সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁয় কাঁকড়ার নানা পদ পাওয়া যায়।
বিশেষ করে পর্যটকদের মধ্যে সামুদ্রিক খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকায় কাঁকড়া ভুনা বেশ পরিচিত।
কক্সবাজারে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ অন্যতম।
বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ মসলা মাখিয়ে কয়লার আগুনে বা গ্রিলে রান্না করা হয়। মাছের সঙ্গে লেবু, সালাদ ও বিভিন্ন ধরনের সস পরিবেশন করা হয়।
সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় সামুদ্রিক মাছের গ্রিল ও বারবিকিউ পাওয়া যায়।
সমুদ্রের পরিবেশে বসে তাজা মাছের বারবিকিউ উপভোগ করা অনেক পর্যটকের কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা।
কক্সবাজারের পাহাড়ি ও পার্বত্যসংলগ্ন এলাকার খাদ্যসংস্কৃতিতে বাঁশকোরলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাঁশের কচি অংশকে বাঁশকোরল বলা হয়।
বাঁশকোরল দিয়ে মাছ, মাংস কিংবা বিভিন্ন সবজির সঙ্গে তরকারি রান্না করা হয়। স্থানীয় মসলা ও প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহারে এই খাবারের স্বাদে আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়।
বিশেষ করে রাখাইন ও অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী রান্নায় বিভিন্ন ধরনের পাহাড়ি শাকসবজি ও বাঁশকোরলের ব্যবহার দেখা যায়।
কক্সবাজারের খাদ্যসংস্কৃতিতে রাখাইন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিশেষ অবদান রয়েছে।
রাখাইনদের রান্নায় সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, বাঁশকোরল ও স্থানীয় মসলার ব্যবহার দেখা যায়।
তাদের ঐতিহ্যবাহী রান্নায় মাছ ও সবজির বিভিন্ন পদ, বিশেষ ধরনের ভর্তা এবং প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি খাবার উল্লেখযোগ্য।
কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাখাইন জনগোষ্ঠীর এই খাদ্যঐতিহ্য।
কক্সবাজারের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে নারকেলের তৈরি বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও পিঠাপুলির প্রচলন রয়েছে।
নারকেল, চালের গুঁড়া, দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা ও মিষ্টি।
এ অঞ্চলে প্রচলিত জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে রয়েছে:
বিশেষ করে শীতকালে এসব পিঠা তৈরি ও পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে। নারকেলের তৈরি মিষ্টান্নও স্থানীয় মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
কক্সবাজারের খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সামুদ্রিক ও উপকূলীয় খাদ্যসংস্কৃতি। সমুদ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে শুঁটকি, লইট্টা, কোরাল, রূপচাঁদা, চিংড়ি ও কাঁকড়ার বিভিন্ন পদ কক্সবাজারের খাবারের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
অন্যদিকে রাখাইন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী রান্না, পাহাড়ি বাঁশকোরল, নারকেলের মিষ্টান্ন এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
কক্সবাজার শুধু সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনের জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং এর রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি। নাজিরারটেকের শুঁটকি, লইট্টা শুঁটকির ভর্তা, কোরাল মাছ, রূপচাঁদা, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি খাবার এ জেলাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার মতো কক্সবাজারেরও রয়েছে নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্য। এসব স্থানীয় খাবার, সামুদ্রিক সম্পদ ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর খাদ্যসংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা আমাদের সবার দায়িত্ব।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জনপ্রিয় পর্যটন জেলা কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত এই জেলার রয়েছে সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি, লইট্টা মাছ, চিংড়ি, কোরাল মাছ, রূপচাঁদা এবং বিভিন্ন ধরনের পাহাড়ি ও উপকূলীয় খাবারের জন্য কক্সবাজার দেশজুড়ে পরিচিত।
কক্সবাজারের খাবারের স্বাদে মিশে আছে সমুদ্র, পাহাড় ও উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা। এখানকার খাবারে সামুদ্রিক মাছ, দেশীয় মসলা, নারকেল এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। পর্যটকদের কাছেও স্থানীয় খাবারের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কক্সবাজার জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।
কক্সবাজারের সবচেয়ে পরিচিত খাবার ও খাদ্যপণ্যের মধ্যে শুঁটকি অন্যতম। সমুদ্র থেকে আহরিত বিভিন্ন ধরনের মাছ রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুঁটকি।
কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি মহালের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি ও বাজারজাত করা হয়।
লোইট্টা, ছুরি, চিংড়ি, ফাইস্যা, রূপচাঁদা ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি বেশ পরিচিত।
শুঁটকি দিয়ে ভর্তা, ঝোল ও বিভিন্ন ধরনের তরকারি রান্না করা হয়। পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে তৈরি শুঁটকি ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।
কক্সবাজারের জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে লইট্টা শুঁটকির ভর্তা অন্যতম। লইট্টা মাছ শুকিয়ে তৈরি করা হয় এই শুঁটকি।
শুঁটকি ভালোভাবে পরিষ্কার করে পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা তৈরি করা হয়।
এর ঝাঁঝালো ঘ্রাণ ও মসলাদার স্বাদ খাবারটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তোলে। গরম ভাতের সঙ্গে লইট্টা শুঁটকির ভর্তা স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়।
কক্সবাজারের সামুদ্রিক খাবারের তালিকায় কোরাল মাছের বিশেষ স্থান রয়েছে। সামুদ্রিক এই মাছ স্বাদ ও গঠনের কারণে অনেকের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
কোরাল মাছ দিয়ে তৈরি করা হয় মাছ ভাজা, মাছের ঝোল, কালিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের মসলাদার রান্না।
কক্সবাজারের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কোরাল মাছের নানা পদ পাওয়া যায়। গরম ভাতের সঙ্গে কোরাল মাছের ঝোল পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় খাবার।
কক্সবাজারের অন্যতম জনপ্রিয় সামুদ্রিক খাবার হলো রূপচাঁদা মাছ ভাজা। রূপচাঁদা মাছের স্বাদ ও নরম মাংসের কারণে এটি ভোজনরসিকদের কাছে বেশ পছন্দের।
হলুদ, মরিচ ও লবণ মাখিয়ে তেলে ভেজে তৈরি করা হয় এই খাবার। কোনো কোনো রেস্তোরাঁয় বিশেষ মসলা দিয়েও রূপচাঁদা মাছ রান্না করা হয়।
সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পর্যটকদের জন্য রূপচাঁদা মাছের নানা পদ পরিবেশন করা হয়।
কক্সবাজারের উপকূলীয় খাদ্যসংস্কৃতিতে চিংড়ি মাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন আকার ও প্রজাতির চিংড়ি দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার।
চিংড়ি ভুনা, চিংড়ি ভর্তা, চিংড়ি মালাইকারি, চিংড়ি দিয়ে সবজি এবং নারকেলের দুধে রান্না করা চিংড়ি বেশ জনপ্রিয়।
বিশেষ করে পর্যটন এলাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় চিংড়ির নানা পদ পাওয়া যায়।
কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের আরেকটি পরিচিত সামুদ্রিক খাবার হলো কাঁকড়া ভুনা। কাঁকড়া বিভিন্ন দেশীয় মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মরিচ দিয়ে রান্না করা হয়।
মসলার সঙ্গে কাঁকড়ার স্বাদ মিশে তৈরি হয় একটি সুস্বাদু খাবার। কক্সবাজারের বিভিন্ন সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁয় কাঁকড়ার নানা পদ পাওয়া যায়।
বিশেষ করে পর্যটকদের মধ্যে সামুদ্রিক খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকায় কাঁকড়া ভুনা বেশ পরিচিত।
কক্সবাজারে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ অন্যতম।
বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ মসলা মাখিয়ে কয়লার আগুনে বা গ্রিলে রান্না করা হয়। মাছের সঙ্গে লেবু, সালাদ ও বিভিন্ন ধরনের সস পরিবেশন করা হয়।
সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় সামুদ্রিক মাছের গ্রিল ও বারবিকিউ পাওয়া যায়।
সমুদ্রের পরিবেশে বসে তাজা মাছের বারবিকিউ উপভোগ করা অনেক পর্যটকের কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা।
কক্সবাজারের পাহাড়ি ও পার্বত্যসংলগ্ন এলাকার খাদ্যসংস্কৃতিতে বাঁশকোরলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাঁশের কচি অংশকে বাঁশকোরল বলা হয়।
বাঁশকোরল দিয়ে মাছ, মাংস কিংবা বিভিন্ন সবজির সঙ্গে তরকারি রান্না করা হয়। স্থানীয় মসলা ও প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহারে এই খাবারের স্বাদে আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়।
বিশেষ করে রাখাইন ও অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী রান্নায় বিভিন্ন ধরনের পাহাড়ি শাকসবজি ও বাঁশকোরলের ব্যবহার দেখা যায়।
কক্সবাজারের খাদ্যসংস্কৃতিতে রাখাইন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিশেষ অবদান রয়েছে।
রাখাইনদের রান্নায় সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, বাঁশকোরল ও স্থানীয় মসলার ব্যবহার দেখা যায়।
তাদের ঐতিহ্যবাহী রান্নায় মাছ ও সবজির বিভিন্ন পদ, বিশেষ ধরনের ভর্তা এবং প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি খাবার উল্লেখযোগ্য।
কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাখাইন জনগোষ্ঠীর এই খাদ্যঐতিহ্য।
কক্সবাজারের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে নারকেলের তৈরি বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও পিঠাপুলির প্রচলন রয়েছে।
নারকেল, চালের গুঁড়া, দুধ ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা ও মিষ্টি।
এ অঞ্চলে প্রচলিত জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে রয়েছে:
বিশেষ করে শীতকালে এসব পিঠা তৈরি ও পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে। নারকেলের তৈরি মিষ্টান্নও স্থানীয় মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
কক্সবাজারের খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সামুদ্রিক ও উপকূলীয় খাদ্যসংস্কৃতি। সমুদ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে শুঁটকি, লইট্টা, কোরাল, রূপচাঁদা, চিংড়ি ও কাঁকড়ার বিভিন্ন পদ কক্সবাজারের খাবারের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
অন্যদিকে রাখাইন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী রান্না, পাহাড়ি বাঁশকোরল, নারকেলের মিষ্টান্ন এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি এ জেলার খাদ্যসংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
কক্সবাজার শুধু সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনের জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং এর রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি। নাজিরারটেকের শুঁটকি, লইট্টা শুঁটকির ভর্তা, কোরাল মাছ, রূপচাঁদা, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি খাবার এ জেলাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার মতো কক্সবাজারেরও রয়েছে নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্য। এসব স্থানীয় খাবার, সামুদ্রিক সম্পদ ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর খাদ্যসংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা আমাদের সবার দায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন