একদিকে ভাঙা ঘর, কাঁচা রাস্তা, নিরাপদ পানির সংকট; অন্যদিকে সন্তানদের পড়াশোনা আর নিত্যদিনের সংসার খরচ। সবকিছু সামলে জীবন চালাতে হচ্ছে মাত্র ১৮৭ টাকা দৈনিক মজুরিতে। সিলেটের চা শ্রমিকদের প্রশ্ন, এই টাকায় কীভাবে চলবে সংসার, কীভাবেই বা সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন তারা।
সকাল হলেই কাঁধে ঝুড়ি নিয়ে চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথে ছুটতে হয় তাদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনের পর দিন চা পাতা তুলেই চলে সংসার। কিন্তু কাজ শেষে যে মজুরি তা দিয়ে খাবার, পোশাক, চিকিৎসা পর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো কঠিন।
শুধু পারিশ্রমিক নয়, জীবনযাত্রার মৌলিক সুবিধা নিয়েও সংকটে চা শ্রমিকদের বড় একটি অংশ। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের চা-বাগানের ৮২ শতাংশ শ্রমিক নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একই সময়ে প্রকাশিত তথ্য বলছে, বাগান এলাকার ৪২ শতাংশ শিশু স্কুলে যায় না।
সিলেট থেকেই শুরু হয়েছিল দেশের বাণিজ্যিক চা চাষের যাত্রা। ১৮৪৫ সালে মালনিছড়া চা-বাগান প্রতিষ্ঠার পর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বিস্তৃত চা-বলয়। বর্তমানে দেশের চা-বাগানগুলোর বড় অংশই সিলেট বিভাগে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে রয়েছে ১৪৮টি চা-বাগান। এই বিশাল চা শিল্পের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশের জীবন অবশ্য এখনো নিম্ন আয়ের বৃত্তেই আটকে আছে।
২০২২ সালের আগস্টে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৭ টাকায়। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি, সময়ের সঙ্গে খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ প্রতিনিয়তই বাড়ছে। তাই মানুষের জীবনমান ধারণে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণ করা দরকার।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবু জাফর বলেন, চা বাগানের সবুজে দেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের ছবি যতটা উজ্জ্বল, সেই বাগানের শ্রমিকদের জীবনচিত্র ততটাই কঠিন।
তিনি আরও বলেন, ১৮৭ টাকা থেকে ৫০০ টাকা মজুরির দাবি এখন শুধু আয় বাড়ানোর দাবি নয়, শ্রমিকদের ভাষায় এটি তাদের পরিবার, সন্তানদের শিক্ষা এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার দাবি।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একদিকে ভাঙা ঘর, কাঁচা রাস্তা, নিরাপদ পানির সংকট; অন্যদিকে সন্তানদের পড়াশোনা আর নিত্যদিনের সংসার খরচ। সবকিছু সামলে জীবন চালাতে হচ্ছে মাত্র ১৮৭ টাকা দৈনিক মজুরিতে। সিলেটের চা শ্রমিকদের প্রশ্ন, এই টাকায় কীভাবে চলবে সংসার, কীভাবেই বা সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন তারা।
সকাল হলেই কাঁধে ঝুড়ি নিয়ে চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথে ছুটতে হয় তাদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনের পর দিন চা পাতা তুলেই চলে সংসার। কিন্তু কাজ শেষে যে মজুরি তা দিয়ে খাবার, পোশাক, চিকিৎসা পর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো কঠিন।
শুধু পারিশ্রমিক নয়, জীবনযাত্রার মৌলিক সুবিধা নিয়েও সংকটে চা শ্রমিকদের বড় একটি অংশ। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের চা-বাগানের ৮২ শতাংশ শ্রমিক নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একই সময়ে প্রকাশিত তথ্য বলছে, বাগান এলাকার ৪২ শতাংশ শিশু স্কুলে যায় না।
সিলেট থেকেই শুরু হয়েছিল দেশের বাণিজ্যিক চা চাষের যাত্রা। ১৮৪৫ সালে মালনিছড়া চা-বাগান প্রতিষ্ঠার পর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বিস্তৃত চা-বলয়। বর্তমানে দেশের চা-বাগানগুলোর বড় অংশই সিলেট বিভাগে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে রয়েছে ১৪৮টি চা-বাগান। এই বিশাল চা শিল্পের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশের জীবন অবশ্য এখনো নিম্ন আয়ের বৃত্তেই আটকে আছে।
২০২২ সালের আগস্টে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৭ টাকায়। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি, সময়ের সঙ্গে খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ প্রতিনিয়তই বাড়ছে। তাই মানুষের জীবনমান ধারণে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণ করা দরকার।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবু জাফর বলেন, চা বাগানের সবুজে দেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের ছবি যতটা উজ্জ্বল, সেই বাগানের শ্রমিকদের জীবনচিত্র ততটাই কঠিন।
তিনি আরও বলেন, ১৮৭ টাকা থেকে ৫০০ টাকা মজুরির দাবি এখন শুধু আয় বাড়ানোর দাবি নয়, শ্রমিকদের ভাষায় এটি তাদের পরিবার, সন্তানদের শিক্ষা এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার দাবি।

আপনার মতামত লিখুন