ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আজও উত্তপ্ত আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে হাজারো শ্রমিক সড়কে নেমে আসেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আশুলিয়ার নরসিংহপুরে একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গত রোববারের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে সোমবার সকালে বেশ কিছু কারখানা খুললেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়। দুপুর পর্যন্ত দুই শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা ও বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় এসে কাজে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পর আশপাশের কারখানার শ্রমিকেরা ছুটি ঘোষণার দাবিতে শারমিন গ্রুপের সামনে অবস্থান নেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করতে হয়।
এদিকে, শ্রমিকেরা মহাসড়কে নেমে বিভিন্ন কারখানার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। শ্রমিকেরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিল্পাঞ্চল সাভারেও সকালে কারখানাগুলোতে কাজ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় একেএইচ গ্রুপের বড় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন রয়েছে। আগুনে কারখানার নিরাপত্তা বিভাগ পুড়ে গেছে। আমদানি-রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান, শ্রমিকবাহী বাস এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
দুপুরের দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। তাদের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ। তারা শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অস্থিরতার প্রতিবাদ জানান।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আজও উত্তপ্ত আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে হাজারো শ্রমিক সড়কে নেমে আসেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আশুলিয়ার নরসিংহপুরে একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গত রোববারের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে সোমবার সকালে বেশ কিছু কারখানা খুললেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়। দুপুর পর্যন্ত দুই শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা ও বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় এসে কাজে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পর আশপাশের কারখানার শ্রমিকেরা ছুটি ঘোষণার দাবিতে শারমিন গ্রুপের সামনে অবস্থান নেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করতে হয়।
এদিকে, শ্রমিকেরা মহাসড়কে নেমে বিভিন্ন কারখানার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। শ্রমিকেরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিল্পাঞ্চল সাভারেও সকালে কারখানাগুলোতে কাজ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় একেএইচ গ্রুপের বড় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। কারখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন রয়েছে। আগুনে কারখানার নিরাপত্তা বিভাগ পুড়ে গেছে। আমদানি-রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান, শ্রমিকবাহী বাস এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
দুপুরের দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। তাদের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ। তারা শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অস্থিরতার প্রতিবাদ জানান।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন