মুন টাইমস নিউজ

রাজনীতি

১৭ বছর পরে রাজপথে তারেক রহমান, বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
১৭ বছর পরে রাজপথে তারেক রহমান, বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি

দীর্ঘদিন পর রাজপথে বড় পরিসরে সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে যাচ্ছে বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বড় কোনো রাজনৈতিক শোভাযাত্রা বা বিজয় র‍্যালি করেনি দলটি। এবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রাজপথে নামছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আর এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

দীর্ঘ বিরতির পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন বড় পরিসরের র‍্যালিকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। দলটির নেতাদের প্রত্যাশা, এই শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য, জনসম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক সক্ষমতার একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটবে।

তবে এবারের র‍্যালি শুধু ঐতিহাসিক দিবস উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বিএনপি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মতপার্থক্য, ১১ দলীয় জোটের ধারাবাহিক বক্তব্য ও কর্মসূচি, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে রাজপথে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে চায় দলটি। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা, সাংগঠনিক সংহতি দৃশ্যমান করা এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সামনে নিজেদের সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যের পর শোভাযাত্রা শুরু হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও একই দিনে শোভাযাত্রা করবে বিএনপি। পরদিন ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করা হবে।

তারেক রহমানকে ঘিরে নেতাকর্মীদের বাড়তি উচ্ছ্বাস

বিএনপির এবারের কর্মসূচির অন্যতম তাৎপর্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে রাজপথে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমার পর দলের নেতৃত্বে থেকে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন  বলেন,  তারেক রহমান র‍্যালির নেতৃত্ব দেবেন। এ কর্মসূচি সফল করতে ইতিমধ্যে ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন তাঁরা। যুবদলের পক্ষ থেকেই লক্ষাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি থাকবে বলে প্রত্যাশা তাঁর।

যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচিতেই যুবদলের পক্ষ থেকে ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। আগামীকালও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কর্মসূচিতে ঢল নামবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ঐতিহাসিক দিবসের র‍্যালি সফল করতে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। কারণ, এতে তাঁদের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর প্রস্তুতি

দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনে বড় বিজয়ের পর বিএনপি কোনো বিজয় র‍্যালির আয়োজন করেনি। সরকার গঠনের প্রায় সাড়ে আট মাস পেরিয়ে গেলেও রাজপথে বড় পরিসরের কর্মসূচি দেয়নি দলটি। ফলে ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রাকে ঘিরে এবার শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ অক্টোবর দলের যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী। ওই সভা থেকে কর্মসূচি সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরপর ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন টিম গঠন করে দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন  বলেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। কোনো রাজনৈতিক দল র‍্যালি বা সমাবেশ করলে জাতীয় পর্যায়েও মানুষের কাছে একটি বার্তা যায়। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ছিল, এখনো আছে। দেশের যেকোনো প্রয়োজনে দল ও সাংগঠনিক নেতারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবেন। সেটা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ কিংবা বিরোধী দল—যেই হোক না কেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন না শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। যদি ফেরেন, তাহলে সারা দেশের মানুষই তাঁর ব্যবস্থা নেবে। তাঁরাও বাংলাদেশের মানুষের অংশ হিসেবে সেখানে থাকবেন।

বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য ও কর্মসূচি প্রসঙ্গে রবিন বলেন, তারা ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে। একটি সরকারের মাত্র আট-নয় মাস হয়েছে। এরই মধ্যে তারা আবোল-তাবোল কথা বলছে এবং বিনা কারণে লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করছে। এসব করে তারা কোনো সুফল পাচ্ছে না।

যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করতে চায় এমন শক্তির সঙ্গে জামায়াত, এনসিপি ও গুপ্তরা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে এবং বহিরাগতদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা সফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে বিএনপি জনগণের পাশে থাকে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলটি সজাগ রয়েছে।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনা সামনে আনছে বিএনপি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে ৫ নভেম্বর। কর্মসূচি চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে দলের নেতারা জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ৭ নভেম্বরের চেতনাকে সামনে আনছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এড.  রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা, গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন এবং মানুষের কথা বলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

তাঁর ভাষ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা এবং জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একে একে বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছিলেন।

রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বহুদলীয় গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে রাজনৈতিক দলগুলো বন্ধ করে একটি মাত্র রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মানুষের কথা বলা, লেখার, মতপ্রকাশ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করেছিল।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশে একদলীয় ও একনায়কতান্ত্রিক শাসনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে জনগণ ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছে। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেও সেই চেতনার প্রতিফলন দেখা গেছে বলে মনে করেন তিনি।

রিজভীর মতে, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে গণতন্ত্র। মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে এবং নিজের মতপ্রকাশ করতে চায়। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী রাখার আকাঙ্ক্ষাও মানুষের মধ্যে সব সময় রয়েছে। ৭ নভেম্বরের চেতনা সেই আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করে।

সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ১১টায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাতীয় নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।

এ ছাড়া রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা ছাড়াও দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি পালন করা হবে। ৮ নভেম্বর সারা দেশের থানা ও উপজেলা পর্যায়ে শোভাযাত্রা করবে দলটি।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ১০ নভেম্বর যুবদলের আলোচনা সভা, ৫ নভেম্বর শ্রমিক দলের আলোচনা সভা, ৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় কৃষক দলের আলোচনা সভা এবং একই দিন বিকেল ৩টায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ছাত্রদল ৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভা করবে। ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে।

রিজভী জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও আলোচনা সভা, পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসী অন্য রাজনৈতিক দল, জোট, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনও দিবসটি পালনের কর্মসূচি নিয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ৭ নভেম্বরের চেতনার প্রতি ভীত হয়ে দিবসটির রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন বন্ধ করেছিল। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এত দিন দিবসটি পালন করে এসেছে। এবার দীর্ঘদিন পর আবারও রাষ্ট্রীয় ও জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হবে।

সব মিলিয়ে এবারের ৭ নভেম্বর বিএনপির কাছে একই সঙ্গে ইতিহাস স্মরণ, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং রাজনৈতিক শক্তির জানান দেওয়ার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীর রাজপথে কত বড় জমায়েত ঘটাতে পারে দলটি, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি। বিএনপির প্রত্যাশা, নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এই শোভাযাত্রা শুধু দিবস উদযাপন নয়, বরং সরকার পরিচালনার পাশাপাশি রাজপথেও দলটির সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ ঘটাবে।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


১৭ বছর পরে রাজপথে তারেক রহমান, বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন পর রাজপথে বড় পরিসরে সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে যাচ্ছে বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বড় কোনো রাজনৈতিক শোভাযাত্রা বা বিজয় র‍্যালি করেনি দলটি। এবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রাজপথে নামছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আর এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

দীর্ঘ বিরতির পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন বড় পরিসরের র‍্যালিকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। দলটির নেতাদের প্রত্যাশা, এই শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য, জনসম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক সক্ষমতার একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটবে।

তবে এবারের র‍্যালি শুধু ঐতিহাসিক দিবস উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বিএনপি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মতপার্থক্য, ১১ দলীয় জোটের ধারাবাহিক বক্তব্য ও কর্মসূচি, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে রাজপথে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে চায় দলটি। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা, সাংগঠনিক সংহতি দৃশ্যমান করা এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সামনে নিজেদের সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হবে। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যের পর শোভাযাত্রা শুরু হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও একই দিনে শোভাযাত্রা করবে বিএনপি। পরদিন ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করা হবে।

তারেক রহমানকে ঘিরে নেতাকর্মীদের বাড়তি উচ্ছ্বাস

বিএনপির এবারের কর্মসূচির অন্যতম তাৎপর্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে রাজপথে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমার পর দলের নেতৃত্বে থেকে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন  বলেন,  তারেক রহমান র‍্যালির নেতৃত্ব দেবেন। এ কর্মসূচি সফল করতে ইতিমধ্যে ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন তাঁরা। যুবদলের পক্ষ থেকেই লক্ষাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি থাকবে বলে প্রত্যাশা তাঁর।

যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচিতেই যুবদলের পক্ষ থেকে ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। আগামীকালও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কর্মসূচিতে ঢল নামবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ঐতিহাসিক দিবসের র‍্যালি সফল করতে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। কারণ, এতে তাঁদের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর প্রস্তুতি

দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনে বড় বিজয়ের পর বিএনপি কোনো বিজয় র‍্যালির আয়োজন করেনি। সরকার গঠনের প্রায় সাড়ে আট মাস পেরিয়ে গেলেও রাজপথে বড় পরিসরের কর্মসূচি দেয়নি দলটি। ফলে ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রাকে ঘিরে এবার শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ অক্টোবর দলের যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী। ওই সভা থেকে কর্মসূচি সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরপর ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন টিম গঠন করে দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন  বলেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। কোনো রাজনৈতিক দল র‍্যালি বা সমাবেশ করলে জাতীয় পর্যায়েও মানুষের কাছে একটি বার্তা যায়। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ছিল, এখনো আছে। দেশের যেকোনো প্রয়োজনে দল ও সাংগঠনিক নেতারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবেন। সেটা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ কিংবা বিরোধী দল—যেই হোক না কেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন না শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। যদি ফেরেন, তাহলে সারা দেশের মানুষই তাঁর ব্যবস্থা নেবে। তাঁরাও বাংলাদেশের মানুষের অংশ হিসেবে সেখানে থাকবেন।

বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য ও কর্মসূচি প্রসঙ্গে রবিন বলেন, তারা ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে। একটি সরকারের মাত্র আট-নয় মাস হয়েছে। এরই মধ্যে তারা আবোল-তাবোল কথা বলছে এবং বিনা কারণে লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করছে। এসব করে তারা কোনো সুফল পাচ্ছে না।

যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করতে চায় এমন শক্তির সঙ্গে জামায়াত, এনসিপি ও গুপ্তরা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে এবং বহিরাগতদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা সফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে বিএনপি জনগণের পাশে থাকে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলটি সজাগ রয়েছে।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনা সামনে আনছে বিএনপি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে ৫ নভেম্বর। কর্মসূচি চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে দলের নেতারা জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ৭ নভেম্বরের চেতনাকে সামনে আনছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এড.  রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা, গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন এবং মানুষের কথা বলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

তাঁর ভাষ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা এবং জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একে একে বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছিলেন।

রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বহুদলীয় গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে রাজনৈতিক দলগুলো বন্ধ করে একটি মাত্র রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মানুষের কথা বলা, লেখার, মতপ্রকাশ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করেছিল।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশে একদলীয় ও একনায়কতান্ত্রিক শাসনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে জনগণ ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছে। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেও সেই চেতনার প্রতিফলন দেখা গেছে বলে মনে করেন তিনি।

রিজভীর মতে, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে গণতন্ত্র। মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে এবং নিজের মতপ্রকাশ করতে চায়। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী রাখার আকাঙ্ক্ষাও মানুষের মধ্যে সব সময় রয়েছে। ৭ নভেম্বরের চেতনা সেই আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করে।

সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ১১টায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাতীয় নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।

এ ছাড়া রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা ছাড়াও দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি পালন করা হবে। ৮ নভেম্বর সারা দেশের থানা ও উপজেলা পর্যায়ে শোভাযাত্রা করবে দলটি।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ১০ নভেম্বর যুবদলের আলোচনা সভা, ৫ নভেম্বর শ্রমিক দলের আলোচনা সভা, ৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় কৃষক দলের আলোচনা সভা এবং একই দিন বিকেল ৩টায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ছাত্রদল ৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভা করবে। ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে।

রিজভী জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও আলোচনা সভা, পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসী অন্য রাজনৈতিক দল, জোট, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনও দিবসটি পালনের কর্মসূচি নিয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ৭ নভেম্বরের চেতনার প্রতি ভীত হয়ে দিবসটির রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন বন্ধ করেছিল। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এত দিন দিবসটি পালন করে এসেছে। এবার দীর্ঘদিন পর আবারও রাষ্ট্রীয় ও জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হবে।

সব মিলিয়ে এবারের ৭ নভেম্বর বিএনপির কাছে একই সঙ্গে ইতিহাস স্মরণ, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং রাজনৈতিক শক্তির জানান দেওয়ার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীর রাজপথে কত বড় জমায়েত ঘটাতে পারে দলটি, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি। বিএনপির প্রত্যাশা, নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এই শোভাযাত্রা শুধু দিবস উদযাপন নয়, বরং সরকার পরিচালনার পাশাপাশি রাজপথেও দলটির সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ ঘটাবে।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক: তাবিবুর রহমান তালুকদার
প্রকাশক: জিন্নাহ ফারুক
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ