মুন টাইমস নিউজ

জাতীয়

সরকারকে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করুন: আতিকুর রহমান রুমন

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
সরকারকে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করুন: আতিকুর রহমান রুমন

লাখ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এই ঋণের বোঝা শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুকেও বহন করতে হবে। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করে একটি সুন্দর ও ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। 

আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। 

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছুর সমালোচনা না করে একবার চিন্তা করা উচিত—বিগত সরকার দেশের ওপর কী পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এই ঋণের দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকলেও সরকারের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছিল না, বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চাইলে গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।

রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি; গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেলও করা হয়েছে। কোন এলাকায় কতটুকু গ্যাসের চাপ যাচ্ছে এবং মানুষ কী পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট। তাই জনগণের উচিত তাকে সহযোগিতা করা। সবাই সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও সফল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি পুরোনো মন্দির সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলার ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো মন্দিরটি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেই সংস্কারের জন্য সেটি ভাঙা হচ্ছিল। অথচ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করেছেন, যেন সরকার মন্দিরটি ভেঙে ফেলছে।

রুমন বলেন, বাংলাদেশেও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ‘জোড়াতালি’ দিয়ে তথ্য তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সবাইকে তিনি দোষারোপ করছেন না। কারণ, তিনিও সাংবাদিকতার মানুষ এবং ১৯৯৩ সাল থেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই দিন আগ পর্যন্ত একটি জাতীয় দৈনিকের মালিক ও প্রকাশক ছিলেন। বিগত সরকার তার দেশত্যাগের ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছিলেন।

তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলে রুমন বলেন, প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে বনানীর একটি কার্যালয়ে তিনি গবেষণামূলক কাজ করতেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষি, ফসল, মাছ চাষ, পরিত্যক্ত পুকুরসহ নানা বিষয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। ওই সময়কার ফাইলগুলো এখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সবশেষে রুমন বলেন, ‘আসুন, আমাদের বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি এবং একটি ক্লিন বাংলাদেশ গড়তে জনাব তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি সহযোগিতা করি।’

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সরকারকে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করুন: আতিকুর রহমান রুমন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

লাখ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এই ঋণের বোঝা শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুকেও বহন করতে হবে। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করে একটি সুন্দর ও ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। 

আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। 

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছুর সমালোচনা না করে একবার চিন্তা করা উচিত—বিগত সরকার দেশের ওপর কী পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এই ঋণের দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকলেও সরকারের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছিল না, বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চাইলে গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।

রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি; গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেলও করা হয়েছে। কোন এলাকায় কতটুকু গ্যাসের চাপ যাচ্ছে এবং মানুষ কী পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট। তাই জনগণের উচিত তাকে সহযোগিতা করা। সবাই সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও সফল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি পুরোনো মন্দির সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলার ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো মন্দিরটি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেই সংস্কারের জন্য সেটি ভাঙা হচ্ছিল। অথচ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করেছেন, যেন সরকার মন্দিরটি ভেঙে ফেলছে।

রুমন বলেন, বাংলাদেশেও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ‘জোড়াতালি’ দিয়ে তথ্য তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সবাইকে তিনি দোষারোপ করছেন না। কারণ, তিনিও সাংবাদিকতার মানুষ এবং ১৯৯৩ সাল থেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই দিন আগ পর্যন্ত একটি জাতীয় দৈনিকের মালিক ও প্রকাশক ছিলেন। বিগত সরকার তার দেশত্যাগের ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছিলেন।

তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলে রুমন বলেন, প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে বনানীর একটি কার্যালয়ে তিনি গবেষণামূলক কাজ করতেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষি, ফসল, মাছ চাষ, পরিত্যক্ত পুকুরসহ নানা বিষয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। ওই সময়কার ফাইলগুলো এখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সবশেষে রুমন বলেন, ‘আসুন, আমাদের বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি এবং একটি ক্লিন বাংলাদেশ গড়তে জনাব তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি সহযোগিতা করি।’


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আলামিন সরকার
উপদেষ্টা: তাবিবুর রহমান তালুকদার
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ