মুন টাইমস নিউজ

জাতীয়

ফুয়েল পাসে কমছে লাইনের ভোগান্তি

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ফটো কার্ড
ফুয়েল পাসে কমছে লাইনের ভোগান্তি
সংগৃহীত

রাত সাড়ে তিনটা। রাজধানীর রায়েরবাজার থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে জ্বালানি নিতে বের হন আতাউর রহমান। গন্তব্য শাহবাগের একটি ফিলিং স্টেশন। কয়েকদিন আগেও যেখানে তেল নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে গিয়ে তিনি ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

হাতিরপুল পেরিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কাছে গিয়ে তাকে লাইনে দাঁড়াতে হয়। সামনে তখন শতাধিক মোটরসাইকেল থাকলেও পরিবেশ ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত। কেউ বাইকের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ আবার অপেক্ষার সময় গল্পে মশগুল—সবাই সকাল ৮টার অপেক্ষায়, যখন শুরু হয় ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ।


আতাউর রহমান জানান, এবার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জ্বালানি নিয়ে ফিরতে পেরেছেন, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। এর আগে একই স্থানে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার তেল নিতে ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, আর আশপাশের সড়কজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যেত।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের আগে থেকেই অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সংগ্রহ করে তা প্রদর্শন করতে হচ্ছে, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্পে এই ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করেছে। কিউআর কোড ছাড়া পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে শাহবাগ, আসাদগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, নিকুঞ্জ ও মিরপুর এলাকার নির্বাচিত কয়েকটি পাম্পে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, যেসব পাম্পে এই পদ্ধতি চালু হয়েছে, সেখানে ভিড় তুলনামূলক কম এবং অপেক্ষার সময়ও অনেক কমেছে। ভোরের দিকে কিছু স্থানে মোটরসাইকেলের সারি থাকলেও আগের মতো বিশৃঙ্খল দীর্ঘ লাইন আর নেই।

নতুন ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না, যা স্বস্তির বিষয়। তবে সবার অভিজ্ঞতা একই নয়। তুহিন নামের এক তরুণ জানান, পদ্ধতি সম্পর্কে আগে না জানায় তিনি লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাননি।

নতুন ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না, যা স্বস্তির বিষয়। তবে সবার অভিজ্ঞতা একই নয়। তুহিন নামের এক তরুণ জানান, পদ্ধতি সম্পর্কে আগে না জানায় তিনি লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাননি। মোটরসাইকেল চালক আবু রাসেল

কিছু জায়গায় এখনও তুলনামূলক দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগের পরিস্থিতির তুলনায় তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও শুরুতে সচেতনতার অভাব ও কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সঠিক বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

সুত্র: যুগান্তর

ফুয়েল পাস তেল সংকট

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ফুয়েল পাসে কমছে লাইনের ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাত সাড়ে তিনটা। রাজধানীর রায়েরবাজার থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে জ্বালানি নিতে বের হন আতাউর রহমান। গন্তব্য শাহবাগের একটি ফিলিং স্টেশন। কয়েকদিন আগেও যেখানে তেল নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে গিয়ে তিনি ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

হাতিরপুল পেরিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কাছে গিয়ে তাকে লাইনে দাঁড়াতে হয়। সামনে তখন শতাধিক মোটরসাইকেল থাকলেও পরিবেশ ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত। কেউ বাইকের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ আবার অপেক্ষার সময় গল্পে মশগুল—সবাই সকাল ৮টার অপেক্ষায়, যখন শুরু হয় ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ।


আতাউর রহমান জানান, এবার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জ্বালানি নিয়ে ফিরতে পেরেছেন, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। এর আগে একই স্থানে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার তেল নিতে ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, আর আশপাশের সড়কজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যেত।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের আগে থেকেই অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে কিউআর কোড সংগ্রহ করে তা প্রদর্শন করতে হচ্ছে, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্পে এই ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করেছে। কিউআর কোড ছাড়া পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে শাহবাগ, আসাদগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, নিকুঞ্জ ও মিরপুর এলাকার নির্বাচিত কয়েকটি পাম্পে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, যেসব পাম্পে এই পদ্ধতি চালু হয়েছে, সেখানে ভিড় তুলনামূলক কম এবং অপেক্ষার সময়ও অনেক কমেছে। ভোরের দিকে কিছু স্থানে মোটরসাইকেলের সারি থাকলেও আগের মতো বিশৃঙ্খল দীর্ঘ লাইন আর নেই।

নতুন ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না, যা স্বস্তির বিষয়। তবে সবার অভিজ্ঞতা একই নয়। তুহিন নামের এক তরুণ জানান, পদ্ধতি সম্পর্কে আগে না জানায় তিনি লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাননি।

নতুন ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না, যা স্বস্তির বিষয়। তবে সবার অভিজ্ঞতা একই নয়। তুহিন নামের এক তরুণ জানান, পদ্ধতি সম্পর্কে আগে না জানায় তিনি লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাননি। মোটরসাইকেল চালক আবু রাসেল

কিছু জায়গায় এখনও তুলনামূলক দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগের পরিস্থিতির তুলনায় তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও শুরুতে সচেতনতার অভাব ও কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সঠিক বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

সুত্র: যুগান্তর


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আলামিন সরকার
উপদেষ্টা: তাবিবুর রহমান তালুকদার
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ