এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান, নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, নাগরিকদের সমস্যা শুনে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সড়ক দখল করে হকার বসতে দেওয়া হবে না, তবে নিয়মের মধ্যে তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার কমিউনিটি সেন্টারে কলাবাগান, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ ও রমনা অঞ্চলের নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং নাগরিকদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ ধরনের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এলাকার সমস্যা জানা, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং কোথায় কী কারণে কাজ আটকে আছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, ধানমন্ডি একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে আবাসিক এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেট ও জনবহুল স্থান রয়েছে। ফলে এলাকাভেদে সমস্যার ধরনও আলাদা। প্রতি ওয়ার্ড থেকে একজন প্রতিনিধি সমস্যা তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তা পর্যালোচনা করে সমাধানের বিষয়ে জবাব দিতে পারবে।
ধানমন্ডি এলাকার উন্নয়নকাজ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গত ঈদের পর থেকে এ এলাকায় বেশ কিছু কাজ শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নকাজ সাধারণত টেন্ডারের মাধ্যমে করতে হয়। তবে ছোটখাটো মেরামতের কাজ তাৎক্ষণিকভাবে করার চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, আগে বিডিআরের ভেতর দিয়ে ধানমন্ডি এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পথ ছিল। বিডিআরের সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং তিনি বরাদ্দ দিয়েছেন। তবে মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও একনেকে অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে হয়। এ কারণে সময় লাগলেও সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে।
নিউমার্কেট এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, এটি রাজধানীর পুরোনো ব্যবসায়িক এলাকা। একসময় এখানে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে নিউমার্কেটের নাম শুনলেই মানুষ ভয় পায়। এ অবস্থা পরিবর্তনে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আবারও কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনায় তাঁরা রাজপথ দখল করে না বসার বিষয়ে একমত হয়েছেন। যেসব ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, সেসব নির্দিষ্ট স্থানে শর্তসাপেক্ষে হকার বসার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে মূল সড়ক দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আবদুস সালাম বলেন, ভাসমান মানুষেরাও বাংলাদেশের নাগরিক। তবে ঢাকার রাস্তাঘাট ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। সবাইকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।
নিউমার্কেটের বিডিআর/বিজিবির দিকে যাওয়ার সড়কে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে কিছু জায়গা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাতে বসার অনুমতি দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট হকারদের নিজেদের উদ্যোগে সড়ক পরিষ্কার রাখতে হবে এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্ধের দিনে হকারদের কতটুকু সুযোগ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে নাগরিক, বিএনপির নেতাকর্মী ও হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময়ের পর রাতের মার্কেট চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকার অন্য কিছু এলাকায়ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
আইডিয়াল স্কুলের সামনের সড়কের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, স্কুলের পাশের অংশে হকার বসতে দেওয়া হয়নি। তবে বিপরীত পাশের ফুটপাতে বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নিয়মের মধ্যে থেকে হকারদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক হকারকে সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া ঢাকা শহরে হকার বসতে পারবেন না।
এলাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে আবদুস সালাম বলেন, হাজারীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় কালভার্ট ও বড় ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও পরে আবার সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ড্রেন যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন থাকতে হবে। এলাকার মানুষের সুপারিশ অনুযায়ী যেসব সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সড়কবাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে লাইটের পোল রয়েছে, সেখানে বাতি জ্বলতে হবে। কোথাও বাতি নষ্ট থাকলে নাগরিকদের সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে। একাধিক দিন ধরে বাতি বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স দ্রুত দিতে হবে এবং জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদ প্রদানে অযথা বিলম্ব করা যাবে না। নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, সিটি কর্পোরেশন কোথাও কর বাড়ায়নি। তবে করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক বাড়িঘর এখনো করের আওতায় আসেনি এবং অনেক দোকানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের কর, দোকানভাড়া ও ট্রেড লাইসেন্স থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়েই সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হয়। এসব আয় নিয়মিত আদায় না হলে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
দায়িত্ব নেওয়ার সময় সিটি কর্পোরেশন দেনার মধ্যে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে কোনো কর না বাড়িয়েও রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এ অর্থ নাগরিকদের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। প্রতি মাসে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে ২৫ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হয়। বেতন পরিশোধের পাশাপাশি উন্নয়নকাজ পরিচালনা করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত নাগরিকদের উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, যেসব সমস্যার সমাধান বা জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা দেবেন। অন্য সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। প্রতি ওয়ার্ড থেকে একজন প্রতিনিধি শৃঙ্খলার সঙ্গে সমস্যাগুলো উপস্থাপন করলে সেগুলো চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান, নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, নাগরিকদের সমস্যা শুনে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সড়ক দখল করে হকার বসতে দেওয়া হবে না, তবে নিয়মের মধ্যে তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার কমিউনিটি সেন্টারে কলাবাগান, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ ও রমনা অঞ্চলের নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং নাগরিকদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ ধরনের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এলাকার সমস্যা জানা, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং কোথায় কী কারণে কাজ আটকে আছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, ধানমন্ডি একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে আবাসিক এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেট ও জনবহুল স্থান রয়েছে। ফলে এলাকাভেদে সমস্যার ধরনও আলাদা। প্রতি ওয়ার্ড থেকে একজন প্রতিনিধি সমস্যা তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তা পর্যালোচনা করে সমাধানের বিষয়ে জবাব দিতে পারবে।
ধানমন্ডি এলাকার উন্নয়নকাজ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গত ঈদের পর থেকে এ এলাকায় বেশ কিছু কাজ শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নকাজ সাধারণত টেন্ডারের মাধ্যমে করতে হয়। তবে ছোটখাটো মেরামতের কাজ তাৎক্ষণিকভাবে করার চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, আগে বিডিআরের ভেতর দিয়ে ধানমন্ডি এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পথ ছিল। বিডিআরের সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং তিনি বরাদ্দ দিয়েছেন। তবে মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও একনেকে অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে হয়। এ কারণে সময় লাগলেও সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে।
নিউমার্কেট এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, এটি রাজধানীর পুরোনো ব্যবসায়িক এলাকা। একসময় এখানে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে নিউমার্কেটের নাম শুনলেই মানুষ ভয় পায়। এ অবস্থা পরিবর্তনে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আবারও কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনায় তাঁরা রাজপথ দখল করে না বসার বিষয়ে একমত হয়েছেন। যেসব ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, সেসব নির্দিষ্ট স্থানে শর্তসাপেক্ষে হকার বসার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে মূল সড়ক দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আবদুস সালাম বলেন, ভাসমান মানুষেরাও বাংলাদেশের নাগরিক। তবে ঢাকার রাস্তাঘাট ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। সবাইকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।
নিউমার্কেটের বিডিআর/বিজিবির দিকে যাওয়ার সড়কে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে কিছু জায়গা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাতে বসার অনুমতি দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট হকারদের নিজেদের উদ্যোগে সড়ক পরিষ্কার রাখতে হবে এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্ধের দিনে হকারদের কতটুকু সুযোগ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে নাগরিক, বিএনপির নেতাকর্মী ও হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময়ের পর রাতের মার্কেট চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকার অন্য কিছু এলাকায়ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
আইডিয়াল স্কুলের সামনের সড়কের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, স্কুলের পাশের অংশে হকার বসতে দেওয়া হয়নি। তবে বিপরীত পাশের ফুটপাতে বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নিয়মের মধ্যে থেকে হকারদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক হকারকে সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া ঢাকা শহরে হকার বসতে পারবেন না।
এলাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে আবদুস সালাম বলেন, হাজারীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় কালভার্ট ও বড় ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও পরে আবার সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ড্রেন যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন থাকতে হবে। এলাকার মানুষের সুপারিশ অনুযায়ী যেসব সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সড়কবাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে লাইটের পোল রয়েছে, সেখানে বাতি জ্বলতে হবে। কোথাও বাতি নষ্ট থাকলে নাগরিকদের সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে। একাধিক দিন ধরে বাতি বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স দ্রুত দিতে হবে এবং জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদ প্রদানে অযথা বিলম্ব করা যাবে না। নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, সিটি কর্পোরেশন কোথাও কর বাড়ায়নি। তবে করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক বাড়িঘর এখনো করের আওতায় আসেনি এবং অনেক দোকানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের কর, দোকানভাড়া ও ট্রেড লাইসেন্স থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়েই সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হয়। এসব আয় নিয়মিত আদায় না হলে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
দায়িত্ব নেওয়ার সময় সিটি কর্পোরেশন দেনার মধ্যে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে কোনো কর না বাড়িয়েও রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এ অর্থ নাগরিকদের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। প্রতি মাসে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে ২৫ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হয়। বেতন পরিশোধের পাশাপাশি উন্নয়নকাজ পরিচালনা করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত নাগরিকদের উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, যেসব সমস্যার সমাধান বা জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা দেবেন। অন্য সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। প্রতি ওয়ার্ড থেকে একজন প্রতিনিধি শৃঙ্খলার সঙ্গে সমস্যাগুলো উপস্থাপন করলে সেগুলো চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

আপনার মতামত লিখুন