মুন টাইমস নিউজ

আন্তর্জাতিক

হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটক করল ইরান

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটক করল ইরান

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন ডুবোযান বা ডুবো ড্রোন আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের একটি সাবমেরিন ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আইআরজিসির পক্ষ থেকে সাবমেরিনটি আটকের দাবি করা হয়। তবে ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, ইরানের দাবি এবং পেন্টাগনের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আটক করা সাবমেরিনটি ‘ডাইভ-এলডি’। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় মানববিহীন সাবমেরিন।

অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি ধরনের সাবমেরিন সমুদ্রতলের জরিপ, নজরদারি, মাইন শনাক্তকরণ ও অন্যান্য সামুদ্রিক কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ডাইভ-এলডি পরিবারের ডুবোযানগুলো বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক মিশনে ব্যবহার করা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক মানববিহীন ডুবোযান আটক করেছে। তবে ডুবোযানটি কীভাবে আটক করা হয়েছে বা এর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, একটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল। সেটি আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান সামরিক অভিযানের সহায়তায় নজরদারি করছিল বলে জানান তিনি।

পেন্টাগনের দাবি, ড্রোনটি পুরোনো মডেলের ছিল এবং এতে কোনো শ্রেণিবদ্ধ সরঞ্জাম বা সংবেদনশীল তথ্য ছিল না। তবে ইরান যে ডুবোযানটি আটক করার দাবি করেছে, সেটি পেন্টাগনের উল্লেখ করা বিকল ড্রোন কি না, সে বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

এদিকে, সাবমেরিনটি তাদের তৈরি কি না বা ইরানের দাবির বিষয়ে মন্তব্য জানতে অ্যান্ডুরিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানববিহীন নৌযান ও ডুবোযান ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতলের জরিপ এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে। অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি পরিবারের ডুবোযান দীর্ঘ সময় স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার জন্য তৈরি।

ইরানের দাবি সত্য হলে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন মানববিহীন ডুবোযান ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসবে। তবে ডুবোযানটি আসলে ইরান আটক করেছে কি না এবং সেটি পেন্টাগনের উল্লেখ করা ড্রোনই কি না—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটক করল ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন ডুবোযান বা ডুবো ড্রোন আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের একটি সাবমেরিন ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আইআরজিসির পক্ষ থেকে সাবমেরিনটি আটকের দাবি করা হয়। তবে ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, ইরানের দাবি এবং পেন্টাগনের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আটক করা সাবমেরিনটি ‘ডাইভ-এলডি’। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় মানববিহীন সাবমেরিন।

অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি ধরনের সাবমেরিন সমুদ্রতলের জরিপ, নজরদারি, মাইন শনাক্তকরণ ও অন্যান্য সামুদ্রিক কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ডাইভ-এলডি পরিবারের ডুবোযানগুলো বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক মিশনে ব্যবহার করা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক মানববিহীন ডুবোযান আটক করেছে। তবে ডুবোযানটি কীভাবে আটক করা হয়েছে বা এর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, একটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল। সেটি আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান সামরিক অভিযানের সহায়তায় নজরদারি করছিল বলে জানান তিনি।

পেন্টাগনের দাবি, ড্রোনটি পুরোনো মডেলের ছিল এবং এতে কোনো শ্রেণিবদ্ধ সরঞ্জাম বা সংবেদনশীল তথ্য ছিল না। তবে ইরান যে ডুবোযানটি আটক করার দাবি করেছে, সেটি পেন্টাগনের উল্লেখ করা বিকল ড্রোন কি না, সে বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

এদিকে, সাবমেরিনটি তাদের তৈরি কি না বা ইরানের দাবির বিষয়ে মন্তব্য জানতে অ্যান্ডুরিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানববিহীন নৌযান ও ডুবোযান ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতলের জরিপ এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে। অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি পরিবারের ডুবোযান দীর্ঘ সময় স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার জন্য তৈরি।

ইরানের দাবি সত্য হলে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন মানববিহীন ডুবোযান ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসবে। তবে ডুবোযানটি আসলে ইরান আটক করেছে কি না এবং সেটি পেন্টাগনের উল্লেখ করা ড্রোনই কি না—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আলামিন সরকার
উপদেষ্টা: তাবিবুর রহমান তালুকদার
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ