নেপালে ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এতে নেপাল থেকে প্রতিদিন যে বিদ্যুৎ আসতো সেটি আর আসছে না। ভয়াবহ বন্যায় দেশটির জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট ডে পিকে নেপাল থেকে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে। তবে ওইদিন সন্ধ্যা পিকে কোনো বিদ্যুৎ আসেনি। তারপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি।
গত বুধবার নেপালের দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে জানায়, ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। নেপালের ভোটেকোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় দেশটির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদী এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় মাত্র কিছুদিন আগে। কিন্তু এই বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছিল মাত্র কিছুদিন আগে। ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছিল। কিন্তু সরবরাহকারী প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি এখন কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে। তবে নেপালের সামগ্রিক বিদ্যুৎ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছিল। সবশেষ তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
নেপাল বহু বছর ধরে, বিশেষ করে শুষ্ক শীতের মাসগুলোয় বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভর করে আসছিল। দেশটি এখন নিজেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এমন সময়ে নেপালে আঘাত হানা এই দুর্যোগে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বিঘ্ন দেখা দিলো।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো, ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। গত সপ্তাহ থেকে প্রকল্প দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটি থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিও অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য মার্কিন ডলারে পায় নেপাল।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি শুধু এই দুটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়। বন্যার পর থেকে নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এতে নেপাল থেকে প্রতিদিন যে বিদ্যুৎ আসতো সেটি আর আসছে না। ভয়াবহ বন্যায় দেশটির জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট ডে পিকে নেপাল থেকে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে। তবে ওইদিন সন্ধ্যা পিকে কোনো বিদ্যুৎ আসেনি। তারপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি।
গত বুধবার নেপালের দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে জানায়, ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। নেপালের ভোটেকোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় দেশটির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদী এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় মাত্র কিছুদিন আগে। কিন্তু এই বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছিল মাত্র কিছুদিন আগে। ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছিল। কিন্তু সরবরাহকারী প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি এখন কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে। তবে নেপালের সামগ্রিক বিদ্যুৎ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছিল। সবশেষ তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
নেপাল বহু বছর ধরে, বিশেষ করে শুষ্ক শীতের মাসগুলোয় বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভর করে আসছিল। দেশটি এখন নিজেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এমন সময়ে নেপালে আঘাত হানা এই দুর্যোগে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বিঘ্ন দেখা দিলো।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো, ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। গত সপ্তাহ থেকে প্রকল্প দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটি থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিও অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য মার্কিন ডলারে পায় নেপাল।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি শুধু এই দুটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়। বন্যার পর থেকে নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন