মুন টাইমস নিউজ

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ফটো কার্ড
ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে ওয়াশিংটন। তবে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।

গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলের এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বামপন্থি ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনা করছে। এ সমালোচনার সুযোগ বন্ধ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে আমরা বছরে ৪০০ কোটি ডলার দিই। কয়েক মাস আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই অর্থ দেওয়া বন্ধ করা হবে। তবে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহায়তা করব।’

তবে কীভাবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছিল। তবে গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে। জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে।

কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ শতাংশ ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ২০১৭ সালে একই প্রশ্নে এই হার ছিল যথাক্রমে ১৬ ও ২০ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ট্রাম্পের এ ঘোষণা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি এখন ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্যও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

এদিকে ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক জোটের নেতা গাদি আইজেনকট ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কৌশলগত সম্পর্কের কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকেরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারছেন। এটি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং দেশের জন্য প্রকৃত ঝুঁকির বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ২০২০ সালে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত আইন পাস করে। তবে সহায়তার অর্থ ছাড় করতে প্রতিবছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা কমে আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বদলে গেছে। তাই আগের মতো বিপুল পরিমাণ সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা থেকে ইসরায়েলকে বেরিয়ে আসতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটসংক্রান্ত বিলে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে কয়েক ডজন বেসরকারি সংস্থা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে একে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এ ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Google Google -এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে ওয়াশিংটন। তবে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।

গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলের এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বামপন্থি ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনা করছে। এ সমালোচনার সুযোগ বন্ধ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে আমরা বছরে ৪০০ কোটি ডলার দিই। কয়েক মাস আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই অর্থ দেওয়া বন্ধ করা হবে। তবে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহায়তা করব।’

তবে কীভাবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছিল। তবে গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে। জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে।

কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ শতাংশ ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ২০১৭ সালে একই প্রশ্নে এই হার ছিল যথাক্রমে ১৬ ও ২০ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ট্রাম্পের এ ঘোষণা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি এখন ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্যও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

এদিকে ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক জোটের নেতা গাদি আইজেনকট ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কৌশলগত সম্পর্কের কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকেরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারছেন। এটি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং দেশের জন্য প্রকৃত ঝুঁকির বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ২০২০ সালে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত আইন পাস করে। তবে সহায়তার অর্থ ছাড় করতে প্রতিবছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা কমে আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বদলে গেছে। তাই আগের মতো বিপুল পরিমাণ সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা থেকে ইসরায়েলকে বেরিয়ে আসতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটসংক্রান্ত বিলে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে কয়েক ডজন বেসরকারি সংস্থা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে একে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এ ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক: তাবিবুর রহমান তালুকদার
প্রকাশক: জিন্নাহ ফারুক
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ