মুন টাইমস নিউজ

সারাদেশ

সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা কমার আশাবাদ

সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা কমার আশাবাদ

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে পারে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, চলতি বছরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) টাইগারপাসে সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গত বছর খাল ও নালা পরিষ্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল, যা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। তবে এ বছর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

মেয়র আরও জানান, নগরীতে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অসংখ্য খাল রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে চারটি সংস্থা একযোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।


সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বছরই জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

মেয়র নগরীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে খাল-নালায় বর্জ্য ফেলা ও অপরিকল্পিতভাবে হকারদের কার্যক্রমকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় হকাররা অবশিষ্ট ফলমূল ও অন্যান্য ময়লা সরাসরি নালায় ফেলছে, যা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে। এ সমস্যা সমাধানে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে তিনি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এছাড়া রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতির বিষয়েও সতর্ক করেন মেয়র। তিনি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সভায় আরও উঠে আসে পাহাড় কাটার ফলে মাটি ধসে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। এ সমস্যার সমাধানে প্রকৌশলী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


নাগরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে মেয়র ভাঙা স্ল্যাব ও ম্যানহোলের ঢাকনা দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বড় নালা ও খালের পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও বলেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। মেয়র সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে স্লুইস গেট নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন এবং বর্ষার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন।

পলিথিন দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান মেয়র। তিনি বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়, বরং পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, নইলে সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না।

সভায় বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

জলাবদ্ধতা

আপনার মতামত লিখুন

মুন টাইমস নিউজ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা কমার আশাবাদ

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে পারে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, চলতি বছরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) টাইগারপাসে সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গত বছর খাল ও নালা পরিষ্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল, যা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। তবে এ বছর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

মেয়র আরও জানান, নগরীতে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অসংখ্য খাল রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে চারটি সংস্থা একযোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।


সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বছরই জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

মেয়র নগরীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে খাল-নালায় বর্জ্য ফেলা ও অপরিকল্পিতভাবে হকারদের কার্যক্রমকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় হকাররা অবশিষ্ট ফলমূল ও অন্যান্য ময়লা সরাসরি নালায় ফেলছে, যা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে। এ সমস্যা সমাধানে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে তিনি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এছাড়া রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতির বিষয়েও সতর্ক করেন মেয়র। তিনি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সভায় আরও উঠে আসে পাহাড় কাটার ফলে মাটি ধসে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। এ সমস্যার সমাধানে প্রকৌশলী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


নাগরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে মেয়র ভাঙা স্ল্যাব ও ম্যানহোলের ঢাকনা দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বড় নালা ও খালের পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও বলেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। মেয়র সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে স্লুইস গেট নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন এবং বর্ষার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন।

পলিথিন দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান মেয়র। তিনি বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়, বরং পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, নইলে সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না।

সভায় বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন।


মুন টাইমস নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আলামিন সরকার
উপদেষ্টা: তাবিবুর রহমান তালুকদার
আইন উপদেষ্টা: এ্যাডঃ মোঃ মাহবুব আলম সরকার

© ২০২৬ মুন টাইমস নিউজ