সাতক্ষীরা জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান চাষের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলেও একদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি, অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলে ভালো ফলনের আশা থাকলেও উৎপাদন খরচ বাড়া ও কম দামের কারণে লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। ঘের সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত আবাদ হয়েছে আশাশুনি, প্রতাপনগরসহ কয়েকটি এলাকায়। তবে কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও সেচ ব্যবস্থার সমস্যা ও বাজার অস্থিরতায় তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, সময়মতো পানি দিতে না পারায় ধানের ফলনে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ নিয়মিত না থাকায় এবং ডিজেলের সংকটের কারণে সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
একই এলাকার আরেক কৃষক লিটন বাবু বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পানির স্তরও নিচে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
খড়িবিলা এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করলেও খরচের তুলনায় দাম অনেক কম। লিজ, সার, শ্রম ও সেচ খরচ মিলিয়ে এবার লাভ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।
কৃষকদের ভাষ্য, গত বছর যেখানে ধানের বস্তা ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার তা নেমে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে উৎপাদন খরচই তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তাদের দাবি, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ধানের ন্যায্য দাম নির্ধারণ না হলে অনেকেই কৃষি কাজ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।
অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর ধানের আবাদ ও উৎপাদন দুই-ই ভালো হয়েছে। কিছু এলাকায় সমস্যা থাকলেও তা সামগ্রিক উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
সাতক্ষীরা জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান চাষের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলেও একদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি, অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলে ভালো ফলনের আশা থাকলেও উৎপাদন খরচ বাড়া ও কম দামের কারণে লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। ঘের সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন কারণে অতিরিক্ত আবাদ হয়েছে আশাশুনি, প্রতাপনগরসহ কয়েকটি এলাকায়। তবে কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও সেচ ব্যবস্থার সমস্যা ও বাজার অস্থিরতায় তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রইচপুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, সময়মতো পানি দিতে না পারায় ধানের ফলনে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ নিয়মিত না থাকায় এবং ডিজেলের সংকটের কারণে সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
একই এলাকার আরেক কৃষক লিটন বাবু বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পানির স্তরও নিচে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
খড়িবিলা এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করলেও খরচের তুলনায় দাম অনেক কম। লিজ, সার, শ্রম ও সেচ খরচ মিলিয়ে এবার লাভ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।
কৃষকদের ভাষ্য, গত বছর যেখানে ধানের বস্তা ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার তা নেমে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে উৎপাদন খরচই তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তাদের দাবি, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ধানের ন্যায্য দাম নির্ধারণ না হলে অনেকেই কৃষি কাজ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।
অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর ধানের আবাদ ও উৎপাদন দুই-ই ভালো হয়েছে। কিছু এলাকায় সমস্যা থাকলেও তা সামগ্রিক উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন