জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে র্যালি করবে বিএনপি। এদিন সকাল ৬টায় দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যৌথসভা শেষে এসব কর্মসূচির কথা জানান দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনের চেতনা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সঙ্গে জড়িত।
রিজভীর ভাষ্য, ১৯৭৫ সালের আগে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার কারণে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয়।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে গণতন্ত্রের পথচলা বিভিন্ন সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ওই সময়ে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা জুলাই আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে। ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়।
ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
রিজভী জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে ৭ নভেম্বরের কর্মসূচির খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ৬টায় ঢাকাসহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র্যালির আয়োজন করা হবে।
সকাল ১১টায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নেতারা।
এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ছাত্রদল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে।
রিজভী জানান, ৬ নভেম্বর আলোচনা সভা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়া গেলে ওই দিন সভা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায় তিনি যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই আলোচনা সভা হবে।
Google
-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে র্যালি করবে বিএনপি। এদিন সকাল ৬টায় দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যৌথসভা শেষে এসব কর্মসূচির কথা জানান দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনের চেতনা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সঙ্গে জড়িত।
রিজভীর ভাষ্য, ১৯৭৫ সালের আগে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার কারণে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয়।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে গণতন্ত্রের পথচলা বিভিন্ন সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ওই সময়ে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা জুলাই আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে। ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়।
ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
রিজভী জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে ৭ নভেম্বরের কর্মসূচির খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ৬টায় ঢাকাসহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র্যালির আয়োজন করা হবে।
সকাল ১১টায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নেতারা।
এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ছাত্রদল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে।
রিজভী জানান, ৬ নভেম্বর আলোচনা সভা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়া গেলে ওই দিন সভা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায় তিনি যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই আলোচনা সভা হবে।

আপনার মতামত লিখুন