মুন টাইমস নিউজ

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন চ্যালেঞ্জ

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬ চ্যালেঞ্জ এবং হাইকোর্টের আদেশে স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহালের দাবিতে রিট করা হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেন।রিটে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:5938]রিট পিটিশনে বলা হয়েছে যে, জাতীয় সংসদের আইন প্রণয়ন বা বাতিলের ক্ষমতা থাকলেও তা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের অধীন এবং রাষ্ট্রের ‘মৌলিক কাঠামো’ ধ্বংস করার কোনো এখতিয়ার সংসদের নেই।বাংলাদেশ সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণ রাষ্ট্রের একটি অন্যতম মৌলিক কাঠামো। উদাহরণস্বরূপ, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সংসদ চাইলে সংবিধান থেকে ‘বিচার বিভাগ’ বাতিল করে দিতে পারে না।স্বাধীন ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ হলো বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার মূল গ্যারান্টি বা ‘হৃদপিণ্ড’। বিতর্কিত রহিতকরণ আইনটি পাসের মাধ্যমে স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে বিচার প্রশাসনকে পুনরায় নির্বাহী বিভাগের (আইন মন্ত্রণালয়) সরাসরি অধীনে নেওয়া হয়েছে, যা একটি সুস্পষ্ট অসাংবিধানিক পদক্ষেপ।রিটে আরও বলা হয়, এই রহিতকরণ আইনের ফলে বিচার প্রশাসন একটি ভয়াবহ ‘সাংবিধানিক বিপর্যয়ের’ মুখে পড়েছে। স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় না থাকায় বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর ফলে নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের অনুকূলে আদালতের আদেশ বা জামিন পেতে বিচারকদের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ব্ল্যাকমেইল করার সুযোগ পাবেন, যা আইনের শাসনকে সম্পূর্ণভাবে ভূলুণ্ঠিত করবে।এমতাবস্থায়, রিট পিটিশনে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’-কে কেন বেআইনি, ক্ষমতা বহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে হাইকোর্টের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে যেন-যতদিন পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ সংক্রান্ত অনুরূপ কোনো নতুন আইন পাস না করে এবং রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি প্রদান না করেন, ততদিন পর্যন্ত রহিতকৃত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর বিধানাবলী বিচারিক আদেশের মাধ্যমে অবিলম্বে পুনর্বহাল ও কার্যকর থাকে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন চ্যালেঞ্জ